কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সোকসাসের স্টুডিওর তালা ভাঙল ডিবেটিং ক্লাব

রাজধানী পুরান ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতির (সোকসাস) দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত স্টুডিও কক্ষের তালা ভেঙে ঢুকে পড়েছে  কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি জিসানের নেতৃত্বে ক্লাবের সদস্যরা সাংবাদিক সমিতির স্টুডিও কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে অবস্থান নেন। পরে সেখানকার কয়েকটি ছবি ডিবেটিং ক্লাবের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করা হলে সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের নজর আসে। সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা কক্ষটি স্টুডিও ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন। হঠাৎ করে তালা ভেঙে প্রবেশের ঘটনায় সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই কক্ষ ব্যবহার করে আসছি। কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা সমন্বয় ছাড়াই তালা ভেঙে প্রবেশ করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আওলাদ জিসান এই বিষয়ে বলেন, আমি জানতাম না এটা সাংবাদিক সমিতির অংশ।তালা মারা দেখে আমি পাশে রান্না

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সোকসাসের স্টুডিওর তালা ভাঙল ডিবেটিং ক্লাব

রাজধানী পুরান ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতির (সোকসাস) দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত স্টুডিও কক্ষের তালা ভেঙে ঢুকে পড়েছে  কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি জিসানের নেতৃত্বে ক্লাবের সদস্যরা সাংবাদিক সমিতির স্টুডিও কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে অবস্থান নেন। পরে সেখানকার কয়েকটি ছবি ডিবেটিং ক্লাবের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করা হলে সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের নজর আসে।

সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা কক্ষটি স্টুডিও ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন। হঠাৎ করে তালা ভেঙে প্রবেশের ঘটনায় সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই কক্ষ ব্যবহার করে আসছি। কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা সমন্বয় ছাড়াই তালা ভেঙে প্রবেশ করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আওলাদ জিসান এই বিষয়ে বলেন, আমি জানতাম না এটা সাংবাদিক সমিতির অংশ।তালা মারা দেখে আমি পাশে রান্না ঘরের সৈকত ভাইয়ের কাছে জানতে চাই,কার তালা।সে বলেছে সাংবাদিক সমিতির কাছে খোঁজ নিতে। আমি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আমিরুলকে একবার কল দেই।সে ধরে নি এবং অন্য সদস্যরা ঢুকতে চাচ্ছিলো তাই মডারেটর ফখরুল স্যারের সাথে কথা বলে তালা ভেঙে, আমাদের ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা ভিতরে ঢুকে।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, দুপুরের দিকে আমার কক্ষে ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা রুমের দাবি নিয়ে আসে। পরে আমি তাদেরকে জিগাই রুম কোথায় আছে? তারা জানায় সাংবাদিক সমিতির পেছনে আছে, তখন আমি ক্লাবের মডারেটর ও সদস্যদের জায়গা দেখে জানাতে বলি।

ওই রুমটা সাংবাদিক সমিতির স্টুডিও এবং তালা দেওয়া ছিল পরে সেটি ভেঙে ঢুকেন ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা এ বিষয়টি তিনি জানেন কি না প্রশ্নে বলেন, ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা ও মডারেটররা পরিদর্শন করে এসে জানিয়েছিল রুমে একটা তালা ঝুলানো ছিল। কিন্তু তারা যে পরে তালা ভেঙে ঢুকেছে এটা আমি জানি না। বিষয়টি তারা মোটেও ভাল করে নি।

ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তালা ভাঙার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এটি অবশ্যই একটি শাস্তি মূলক অপরাধ। আমরা আজকে প্রিন্সিপাল ম্যাডামের কাছে রানাস আপের পুরস্কার তুলে দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে সদস্যরা রুমের আবদার জানায়। পরে কোনো রুম ফাঁকা আছে কিনা জানতে চাইলে তারা ওই রুমের কথা জানায়। তারপর এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িড তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। এ ঘটনায় যারা জড়িত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি লিখন হোসেন বলেন, সাংবাদিক সমিতির পেছনের রুমটা আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্টুডিও হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। ওইখানে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস রাখা ছিল। তবে আজ হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখি রুমটার তালা ভেঙে ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা দখলে নিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত এবং যাদের নেতৃত্বে তালা ভেঙে প্রবেশ করা হয়েছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কলেজ প্রশাসন ও ক্লাবের মডারেটরের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সোকসাস সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow