কে হবে এস আলম, কে হবে সালমান এফ রহমান প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকারে মধ্যে নতুন করে এস আলম এবং সালমান এফ রহমান হওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, সরকার আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। আমাদের এই আলোচনা সরকার কতটুকু গুরুত্ব সহকারে নেবে, যেখানে সংসদে বিরোধী দলের অনেক আলোচনা পাশ কাটিয়ে সরকার তার মতো করে আইন পাশ করেছে। অভিজ্ঞতা আমাদের এটাই। তারপরও আমরা ছায়াবাজেট করতে চাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা একটি সংস্কারমুখী, বিনিয়োগমুখী এবং কর্মসংস্থানমুখী বাজেট চাই। বর্তমান দেশের অর্থনীতি সরকার খুব ভালোভাবে ফেস করতে পারতো, যদি তারা ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতো। অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে অত্যন্ত সম্পর্কিত। আমরা দেখলাম, প্রথম অধিবেশনে সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটে যে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো, সেগুলো রক্ষা করেনি। ফলে আমাদের যে
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকারে মধ্যে নতুন করে এস আলম এবং সালমান এফ রহমান হওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, সরকার আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। আমাদের এই আলোচনা সরকার কতটুকু গুরুত্ব সহকারে নেবে, যেখানে সংসদে বিরোধী দলের অনেক আলোচনা পাশ কাটিয়ে সরকার তার মতো করে আইন পাশ করেছে। অভিজ্ঞতা আমাদের এটাই। তারপরও আমরা ছায়াবাজেট করতে চাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা একটি সংস্কারমুখী, বিনিয়োগমুখী এবং কর্মসংস্থানমুখী বাজেট চাই। বর্তমান দেশের অর্থনীতি সরকার খুব ভালোভাবে ফেস করতে পারতো, যদি তারা ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতো। অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে অত্যন্ত সম্পর্কিত। আমরা দেখলাম, প্রথম অধিবেশনে সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটে যে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো, সেগুলো রক্ষা করেনি। ফলে আমাদের যে অর্থনৈতিক সংস্কারের যাত্রা ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকে আমরা আবার দুই ধাপ পিছিয়ে গেলাম।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে বিগত ১৬ বছরে নজিরবিহীন লুটপাট এবং দুর্নীতি হয়েছে। কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও পরিবারকেই বিশাল বিশাল অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং সেই ঋণের টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে, তারা ঋণখেলাপি হয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা যে, এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে আর হবে না। কিন্তু সরকারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যে, সরকারের এস আলম কে হবে? এই সরকারের সালমান এফ রহমান কে হবে? এইটার একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদেশিরা বিনিয়োগ করার জন্য আগে তো দেশীয় ব্যবসায়ীদের আস্থাটা নিতে হবে। দেশীয় ব্যবসায়ীদের যদি বিনিয়োগ করার আস্থা না থাকে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না, এটা খুবই স্বাভাবিক। সরকারের লোকেরা আগে বলেছে, নির্বাচিত সরকার এলেই বিদেশি বিনিয়োগ হুরহুর করে আসা শুরু করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, ড. ইউনূস যতটুকু সক্ষমতা দেখিয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন সম্পর্ক স্থাপন এবং বাংলাদেশে টাকা আনার ক্ষেত্রে, এই সরকার কিন্তু কোনো একটা দেশ থেকে এখন পর্যন্ত দাওয়াত পর্যন্ত পায়নি। আইএমএফের ঋণ বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিজের উপদেষ্টা কমিটিতে রেখে বিশ্বাস অর্জন করা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস অর্জন করা দরকার। যেসব ব্যবসায়ী একটু সৎভাবে ব্যবসা করে, তাদেরকে ঋণ দেওয়া, যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাদেরকে শিল্প বিস্তারের কথা আমরা বলে আসছি। কিন্তু বড় বড় গোষ্ঠীকে, কর্পোরেটকে আপনারা ঋণ দেবেন, যে ঋণ তারা রাজনৈতিক লবিংয়ের মাধ্যমে পায়, যেই ঋণ সে শোধ করে না। কিন্তু একটা কৃষকের যদি পাঁচ হাজার টাকা ঋণ হয়, সেই ঋণ পরিশোধ না করলে তার কোমরে আপনি দড়ি বেঁধে জেলে নিয়ে যান।
অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কোনো সরকার এককভাবে মোকাবিলা করতে পারবে না। সবার সহযোগিতায় আমরা ভঙ্গুর অবস্থা থেকে মুক্তি পাবো।
এনএস/এসএনআর
What's Your Reaction?