কোরবানির পশু কেনার সময় এই ৪ বিষয় অবশ্যই দেখবেন
ইসলামে সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না, তার ব্যাপারে হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩৫১৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব : ২/১৫৫) ইবাদতের মূলকথা হলো মহান আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই যেকোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরি। ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং শরিয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল অনুযায়ী সম্পাদন করা। এ উদ্দেশ্যে কালবেলার পাঠকদের জন্য কোরবানির পশুর ৪টি ত্রুটির দিক উল্লেখ করা হলো, যেগুলো থাকলে কোরবানি সহিহ হবে না। ১. চোখে স্পষ্ট ত্রুটি থাকা চোখ একেবারে কোটরের ভেতরে ঢুকে যাওয়া কিংবা বোতামের মত বের হয়ে থাকা কিংবা এমন সাদা হয়ে যাওয়া, এতে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে চোখে সমস্যা আছে—এমন পশু কোরবানির উপযোগী নয়। ২. সুস্পষ্ট রুগ্নতা যে রোগের প্রতিক্রিয়া পশুর মাঝে ফুটে ওঠে। যেমন— জ্বর হওয়া, যার ফলে পশু ঘুরতে বের হতে চায় না ও খাবারে তৃপ্তি পায় না। এমন চর্মরোগ যা পশুর গোশত
ইসলামে সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না, তার ব্যাপারে হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩৫১৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব : ২/১৫৫)
ইবাদতের মূলকথা হলো মহান আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই যেকোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরি। ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং শরিয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল অনুযায়ী সম্পাদন করা। এ উদ্দেশ্যে কালবেলার পাঠকদের জন্য কোরবানির পশুর ৪টি ত্রুটির দিক উল্লেখ করা হলো, যেগুলো থাকলে কোরবানি সহিহ হবে না।
১. চোখে স্পষ্ট ত্রুটি থাকা
চোখ একেবারে কোটরের ভেতরে ঢুকে যাওয়া কিংবা বোতামের মত বের হয়ে থাকা কিংবা এমন সাদা হয়ে যাওয়া, এতে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে চোখে সমস্যা আছে—এমন পশু কোরবানির উপযোগী নয়।
২. সুস্পষ্ট রুগ্নতা
যে রোগের প্রতিক্রিয়া পশুর মাঝে ফুটে ওঠে। যেমন— জ্বর হওয়া, যার ফলে পশু ঘুরতে বের হতে চায় না ও খাবারে তৃপ্তি পায় না। এমন চর্মরোগ যা পশুর গোশত নষ্ট করে দেয় কিংবা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে; এজাতীয় পশু কোরবানি দেওয়া যাবে না।
৩. স্পষ্ট খোঁড়া হওয়া
যার ফলে পশুর স্বাভাবিক হাঁটা-চলা ব্যাহত হয়— এমন পশু দিয়ে কোরবানি হবে না।
৪. জীর্ণ-শীর্ণতা
দেখতে অসুস্থ, জীর্ণ-শীর্ণ, রোগক্রান্ত, হাড্ডিসার— এমন পশু কোরবানির উপযোগী নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত দিয়ে ইশারা করে বলেছেন, চার ধরনের পশু দ্বারা কোরবানি করা যায় না। সেগুলো হলো, যে পশুর চোখের দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট, যে পশু অতি রুগ্ন, যে পশু সম্পূর্ণ খোঁড়া এবং যে পশু এত শীর্ণ যে, তার হাড়ে মগজ নেই। (তিরিমিজি: ১৪৯৭, আবু দাউদ: ২৮০২, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১৮২)
উল্লিখিত চার মৌলিক ত্রুটি ছাড়াও এমন কিছু ত্রুটি রয়েছে, যেগুলোকে এর পর্যায়ে ধরা হয়—
১. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না; এমন পশু দ্বারাও কোরবানি করা জায়েজ নয়। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১৫, আলমগীরী: ৫/২৯৮)
২. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সে পশু দিয়েও কোরবানি করা জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি, সে পশু কোরবানি করা জায়েজ। (তিরমিজি: ১/২৭৬, আবু দাউদ: ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩২৪, আলমগীরী: ৫/২৯৭)
৩. যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা, সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কোরবানি জায়েজ। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। (তিরমিজি: ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ: ১/৬১০, ইলাউস সুনান: ১৭/২৩৮, কাজিখান: ৩/৩৫২, আলমগীরী: ৫/২৯৭-২৯৮)
লেখক : সাবেক সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ
What's Your Reaction?