ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সোনু নিগম

ভারতীয় সংগীতজগতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সোনু নিগম। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে সাফল্যের এই পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই বড় দুটি সংগীত প্রতিষ্ঠানের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছিল এই গায়ককে। সম্প্রতি চলচ্চিত্র বিশ্লেষক কোমল নাহতার পডকাস্টে অংশ নিয়ে জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন সোনু নিগম। তিনি বলেন, একসময় তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। নতুন অ্যালবাম প্রকাশ হলেই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিত। এমনকি তার পোস্টারও বিক্রি হতো। কিন্তু কপিরাইট নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পরই বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি। সোনুর দাবি, কপিরাইট ইস্যু সামনে আনার পর দেশের অন্যতম বড় সংগীত প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজ তার সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেয়। একই পথ অনুসরণ করে জি মিউজিকও। হঠাৎ করেই তিনি নিজেকে সংগীতাঙ্গনের একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দেখতে পান। এ প্রসঙ্গে সোনু বলেন, ‘কখনও ভাবিনি আমাকে এভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। আমার বিশ্বাস ছিল, শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠ

ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সোনু নিগম

ভারতীয় সংগীতজগতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সোনু নিগম। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে সাফল্যের এই পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই বড় দুটি সংগীত প্রতিষ্ঠানের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছিল এই গায়ককে।

সম্প্রতি চলচ্চিত্র বিশ্লেষক কোমল নাহতার পডকাস্টে অংশ নিয়ে জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন সোনু নিগম।

তিনি বলেন, একসময় তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। নতুন অ্যালবাম প্রকাশ হলেই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিত। এমনকি তার পোস্টারও বিক্রি হতো। কিন্তু কপিরাইট নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পরই বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।

সোনুর দাবি, কপিরাইট ইস্যু সামনে আনার পর দেশের অন্যতম বড় সংগীত প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজ তার সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেয়। একই পথ অনুসরণ করে জি মিউজিকও। হঠাৎ করেই তিনি নিজেকে সংগীতাঙ্গনের একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দেখতে পান।

এ প্রসঙ্গে সোনু বলেন, ‘কখনও ভাবিনি আমাকে এভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। আমার বিশ্বাস ছিল, শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠতে থাকে।’

তবে সেই সময়ও ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সোনুর ভাষায়, ‘তারা আমার গান প্রকাশ বন্ধ করে দিতে পারে, কিন্তু মঞ্চে গান গাওয়া বন্ধ করতে পারবে না।’ সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি দেশ-বিদেশে কনসার্ট করে গেছেন।

সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতিও পাল্টেছে। একসময় যেসব সংগীত প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে কাজ করতে অনাগ্রহী ছিল, এখন তারাই আবার নতুন করে একসঙ্গে কাজ করতে চাইছে বলে জানান এই গায়ক।

তিনি বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলি, একসঙ্গে বসে কাজের বিষয়ে আলোচনা করি। কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।’

কপিরাইট আন্দোলন নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন সোনু নিগম। তার দাবি, কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী লতা মঙ্গেশকর যে লড়াই শুরু করেছিলেন, সেটিকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। সেই লড়াইয়ে নিজের ক্যারিয়ারও ঝুঁকির মুখে ফেলতে হয়েছিল।

সোনুর ভাষায়, ‘আইন পরিবর্তনের পর সংগীত সংস্থাগুলোও বুঝতে পেরেছে, আমাদের দাবিগুলো অযৌক্তিক ছিল না। ইন্ডাস্ট্রির দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পর ধীরে ধীরে সবকিছুই পরিবর্তিত হয়েছে।’

এদিকে কনসার্ট নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন এই শিল্পী। আগামী ২৩ আগস্ট লন্ডনের ওভিও এরিনা ওয়েম্বলিতে ‘রেভোলিউশন’ শিরোনামের একটি কনসার্টে পারফর্ম করবেন তিনি। এরপর অক্টোবর থেকে শুরু হবে তাঁর ‘রেভোলিউশন ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৬’। এই সফরে বেঙ্গালুরু, পুনে, সুরাট, ইন্দোর, ভোপাল, নাগপুর, লখনউ, চণ্ডীগড় ও যোধপুরসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে গান শোনাবেন সোনু নিগম। সফরটি চলবে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত।

এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow