যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিগত সময়ে ঢাকার বাইরে খেলাধুলা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। আপনারা দেখেছেন, আমরা ৫৫টি জেলা ও ১৫টি ফেডারেশনের জন্য এডহক কমিটি করেছি। আমাদের জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো গঠন করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি কাঠামো নতুন করে দাঁড় করাতে হয়েছে। ফলে এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এখন আবার ক্রীড়াঙ্গনে আস্তে আস্তে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। কমিটিগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমরা যেহেতু বিকেন্দ্রীকরণকে একটি এজেন্ডা হিসেবে নিয়েছি, সুতরাং জেলা লীগ থেকে শুরু করে সবকিছুই দ্রুতই শুরু হয়ে যাবে। মরক্কোর রয়্যাল ফুটবল একাডেমিতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ হয়েছে, আমার মনে হয় দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে। কিন্তু আমাদের দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা আপনারা জানেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট খুবই সীমিত। সেই কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে আছি। আপনারা এ স্টেডিয়াম দেখলেই বুঝতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত আমাদের সফট কমিটমেন্ট দিয়েছে যে ৮টি বিভাগে আটটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স বা স্পোর্টস হাব তৈরি করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা ডিজাইন নিয়ে কাজ করছি। আশা করি অদূর ভবিষ্যতে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
সরকারের এ উপদেষ্টা বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি, ফুটবল ফেডারেশনের এমনকি আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোও বসুন্ধরা কিংস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে—শুধু অবকাঠামোর অভাবে। তাই আমরা ঢাকা স্টেডিয়ামের কাজ খুব অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করেছি। চট্টগ্রামে একটি স্টেডিয়াম, নীলফামারীতে একটি স্টেডিয়াম প্রস্তুত হচ্ছে। এর বাইরেও আরও কয়েকটি স্টেডিয়াম নির্দিষ্টভাবে ফুটবলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া যায় কিনা সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে অবকাঠামোগত কারণে ফুটবল কোনোভাবেই থেমে না যায়।
ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, আমরা পরিকল্পনা করছি প্রতিটি জেলায় টুর্নামেন্ট ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে আয়োজন করা হবে। এতে মাঠগুলোরও নিয়মিত পরিচর্যা হবে। কারণ নিয়মিত খেলা না হলে মাঠগুলো এক সময় পরিত্যক্ত জায়গায় পরিণত হয়। নিয়মিত খেলার মাধ্যমে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাফুফে, বিসিবি ও অন্যান্য ফেডারেশনের বার্ষিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করার মাধ্যমে আমি মনে করি আমাদের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব হবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি নতুন মেগা প্রজেক্ট নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলোকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার। আমি মনে করি, একটি ভঙ্গুর ক্রীড়াঙ্গন থেকে আমরা এখন একটি কাঠামোতে আসতে পেরেছি। বিকেন্দ্রীকরণের কথাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। খুব শিগগিরই ‘মিনি বিসিবি’র মতো উদ্যোগে উন্নত অর্গানোগ্রাম তৈরি হবে, খেলোয়াড়রা অ্যাডভান্স লেভেল ট্রেনিং পাবে। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করি, অদূর ভবিষ্যতে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন আরও উন্নত হবে।
তিনি বলেন, সঠিক নীতি নিয়ে যদি পরবর্তী যেকোনো সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে, তাহলে বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলাধুলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বড় অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আসিফ বলেন, যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই নানা ধরনের বাধা থাকে। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আছে। তবে আমি বলব, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও সব পক্ষ থেকেই যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি। যার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকগুলো কাজ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। এ সহযোগিতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সামনেও আরও ভালো ভালো কাজ আপনারা দেখতে পাবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ বাফুফের কর্মকর্তারা।