খানাখন্দে ভরা সড়ক সংস্কারে এগিয়ে এলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

কিশোরগঞ্জ-নিকলী আঞ্চলিক সড়কের পুলেরঘাট-গচিহাটা-নিকলী অংশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বেড়ে যায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সংস্কারের অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সম্প্রতি জামায়াতে যোগ দেওয়া মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আট থেকে নয়টি বড় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। সরেজমিনে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন গর্তে মেরামতসামগ্রী ফেলা হচ্ছে। শ্রমিকরা কাজ করছেন। কয়েকটি অংশের মেরামত শেষ হওয়ায় সেখানে যানবাহন আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। স্থানীয়রা জানান, কিশোরগঞ্জ-নিকলী সড়কটি প্রতিদিন হাজারো মানুষ ব্যবহার করেন। কেউ কর্মস্

খানাখন্দে ভরা সড়ক সংস্কারে এগিয়ে এলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

কিশোরগঞ্জ-নিকলী আঞ্চলিক সড়কের পুলেরঘাট-গচিহাটা-নিকলী অংশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বেড়ে যায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সংস্কারের অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সম্প্রতি জামায়াতে যোগ দেওয়া মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আট থেকে নয়টি বড় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন গর্তে মেরামতসামগ্রী ফেলা হচ্ছে। শ্রমিকরা কাজ করছেন। কয়েকটি অংশের মেরামত শেষ হওয়ায় সেখানে যানবাহন আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।

স্থানীয়রা জানান, কিশোরগঞ্জ-নিকলী সড়কটি প্রতিদিন হাজারো মানুষ ব্যবহার করেন। কেউ কর্মস্থলে, কেউ স্কুল-কলেজে আবার কেউ বাজার কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত থাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে।

রিকশাচালক মোহাম্মদ খাইরুল আলম বলেন, ‘গর্তের কারণে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। যাত্রী নিয়ে গর্তে পড়লে রিকশা সামলানো কঠিন হয়ে যায়। এখন মেরামতকাজ শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি লাগছে।’

যাত্রী হামিদের কথায়ও উঠে আসে একই দুর্ভোগের চিত্র। তিনি বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ যাতায়াত করেন। গর্তের কারণে গাড়ি ধীরে চালাতে হয়। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের নিয়ে চলাচলে বেশি সমস্যা হয়। রাস্তার গর্তগুলো ঠিক হলে মানুষের কষ্ট অনেকটাই কমবে।’

রায়সা নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময় গর্তের কারণে গাড়ি ধীরে চলে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে গেলে বোঝা যায় না কোথায় কতটা গর্ত। তখন ভয় লাগে।

বনগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মোহাম্মদ আবু ইসহাক মিয়া নূর বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই মেরামতকাজ শুরু করা হয়েছে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের অর্থায়নে এবং জামায়াতে ইসলামীর সহযোগিতায় কাজটি হচ্ছে। আপাতত গর্তগুলো ঠিক করে মানুষের চলাচলের কষ্ট কিছুটা কমানোই আমাদের উদ্দেশ্য।’

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ছেলে মোহাম্মদ সাব্বির জামান বলেন, ‘বাবা সড়কটির মানুষের দুর্ভোগের কথা জানতে পারেন। এরপর নিজের উদ্যোগে ও অর্থায়নে মেরামতকাজ শুরু করেন। জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরাও এতে সহযোগিতা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত আট থেকে নয়টি অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে অন্তত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোই আমাদের চেষ্টা।’

তবে স্থানীয়দের চাওয়া আরও বড়। তাদের মতে, গর্ত ভরাট করে আপাতত স্বস্তি মিললেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। কিশোরগঞ্জ-নিকলী আঞ্চলিক সড়কটির পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই সংস্কার প্রয়োজন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখন গর্তগুলো ঠিক হচ্ছে, এটা ভালো লাগছে। কিন্তু আমরা চাই পুরো রাস্তার স্থায়ী সংস্কার হোক। তাহলে আমাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়া, রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কিংবা প্রতিদিনের যাতায়াত অনেক নিরাপদ হবে।’

রাস্তা মেরামতের সময় উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, সাইফুল ইসলাম বিএসসি, অধ্যাপক আবু ইউসুফ সানহু, বনগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী ও হান্নান ভূঁইয়াসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এসকে রাসেল/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow