খেজুর নাকি গুড়, ওজন কমানোর জন্য কোনটি বেশি ভালো?
মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বা ‘সুইট ক্রেভিং’ মেটাতে গিয়ে আমরা অনেকেই সাধারণ সাদা চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুঁজি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুডের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পরিশোধিত চিনি বর্জন করার দৌড়ে প্রাকৃতিক সুইটনার হিসেবে বর্তমানে খেজুর এবং গুড় সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বাঙালির রান্নাঘর থেকে শুরু করে আধুনিক ডায়েট চার্ট; সবখানেই এদের জয়জয়কার। তবে সাধারণ চিনির চেয়ে এগুলি পুষ্টিকর হলেও এতে ক্যালরি এবং প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা সরাসরি ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। তাই প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক, ওজন কমানোর লড়াইয়ে খেজুর নাকি গুড়; সেরা কে? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের পুষ্টিগুণ এবং আমাদের শরীরে তাদের বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর।
পুষ্টিগুণের লড়াই
পুষ্টির বিচারে খেজুর এবং গুড় উভয়ই বেশ সমৃদ্ধ। খেজুর হলো একটি আস্ত ফল যাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রয়োজনীয় খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এই ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং হঠাৎ করে রক্তে চিনির মাত্রা বাড়তে দেয় না।
অন্যদিকে, গুড় আখের রস বা তালের রস থেকে তৈরি একটি প্রাকৃতিক সুইটনার যা চিনির চেয়ে কম পরিশোধিত। প্রক্রিয়াজাতকরণের
মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বা ‘সুইট ক্রেভিং’ মেটাতে গিয়ে আমরা অনেকেই সাধারণ সাদা চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুঁজি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুডের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পরিশোধিত চিনি বর্জন করার দৌড়ে প্রাকৃতিক সুইটনার হিসেবে বর্তমানে খেজুর এবং গুড় সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বাঙালির রান্নাঘর থেকে শুরু করে আধুনিক ডায়েট চার্ট; সবখানেই এদের জয়জয়কার। তবে সাধারণ চিনির চেয়ে এগুলি পুষ্টিকর হলেও এতে ক্যালরি এবং প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা সরাসরি ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। তাই প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক, ওজন কমানোর লড়াইয়ে খেজুর নাকি গুড়; সেরা কে? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের পুষ্টিগুণ এবং আমাদের শরীরে তাদের বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর।
পুষ্টিগুণের লড়াই
পুষ্টির বিচারে খেজুর এবং গুড় উভয়ই বেশ সমৃদ্ধ। খেজুর হলো একটি আস্ত ফল যাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রয়োজনীয় খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এই ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং হঠাৎ করে রক্তে চিনির মাত্রা বাড়তে দেয় না।
অন্যদিকে, গুড় আখের রস বা তালের রস থেকে তৈরি একটি প্রাকৃতিক সুইটনার যা চিনির চেয়ে কম পরিশোধিত। প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় গুড় তার ফাইবার হারিয়ে ফেললেও এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।
পেট ভরা রাখার ক্ষমতা বা তৃপ্তি
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে পেট ভরা রাখার অনুভূতি বা ‘স্যাটায়িটি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে খেজুর গুড়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। খেজুরের ফাইবার পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ থাকে, যা ঘন ঘন ক্ষুধা পাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। এতে করে সারাদিনে মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমে আসে, যা ওজন কমানোর জন্য সহায়ক। কিন্তু গুড়ে ফাইবার না থাকায় এটি দ্রুত রক্তে মিশে যায় এবং খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবারও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা জাগিয়ে তুলতে পারে। পুষ্টি বিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
রক্তে শর্করার প্রভাব ও ক্যালরি
খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থেকে মাঝারি, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি বজায় রাখে। অন্যদিকে, গুড়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হওয়ায় এটি রক্তে চিনির মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীকালে ওজন বাড়াতে বা আবারও ক্ষুধা অনুভব করতে প্ররোচিত করতে পারে। এছাড়া, উভয়ই উচ্চ ক্যালরিযুক্ত হলেও খেজুর চিবিয়ে খেতে হয় বলে এর পরিমাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সহজ। গুড় সাধারণত চা বা মিষ্টান্নে মেশানো হয় বলে অজান্তেই বেশি ক্যালরি গ্রহণ করার ঝুঁকি থাকে।
ব্যায়াম ও দৈনিক খাদ্যতালিকায় ব্যবহার
ব্যায়ামের আগে তাৎক্ষণিক শক্তির জন্য খেজুর একটি চমৎকার উৎস। এর প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে ক্লান্তি আসতে দেয় না।
পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন কমাতে চাইলে দিনে ১-২টি খেজুর অথবা খুব সামান্য পরিমাণে (আধা থেকে এক চা চামচ) গুড় খাওয়া যেতে পারে। তবে গুড় ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে কারণ এটি শরীরের ভেতর অনেকটা সাধারণ চিনির মতোই আচরণ করে।
চূড়ান্ত রায়
ওজন কমানোর মূল লক্ষ্য থাকলে খেজুরই হবে আপনার সেরা পছন্দ। এর ফাইবার এবং পেট ভরা রাখার ক্ষমতা একে ডায়েটের জন্য আদর্শ করে তোলে। তবে মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক হলেও দুটির ক্ষেত্রেই পরিমিতিবোধ বা 'মডারেশন' সাফল্যের চাবিকাঠি। খেজুরকে নিয়মিত নাস্তা হিসেবে বেছে নিতে পারেন এবং গুড়কে তুলে রাখতে পারেন বিশেষ কোনো দিনের স্বাদ বদলের জন্য।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড