গ্যাং দমনে হাইতিতে প্রথম সেনা পাঠাল জাতিসংঘ

ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে বাড়তে থাকা গ্যাং সহিংসতা মোকাবিলায় জাতিসংঘ-সমর্থিত নতুন বাহিনীর প্রথম বিদেশি সেনারা দেশটিতে পৌঁছেছে। বুধবার (০১ এপ্রিল) ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’ (জিএসএফ) জানিয়েছে, আফ্রিকার দেশ চাদের একটি অগ্রবর্তী দল রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতিসংঘ কর্মকর্তা জ্যাক ক্রিস্টোফিডস। তিনি বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন। বুধবার (০১ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বাহিনীটি আগামীতে প্রায় ৫,৫০০ সদস্যে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মাস। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই বাহিনী অনুমোদন পায়। এটি মূলত ২০২৩ সালে গঠিত কেনিয়া-নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নিরাপত্তা মিশনের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে, যা পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জনবলের অভাবে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা নতুন গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সের প্রস্তাব দেয়। তাদের লক্ষ্য হাইতির গ্যাংগুলোকে ‘নিষ্ক্রিয়, বিচ্ছিন্ন ও প্রতিরোধ’ করা। পূর্বের মিশনের তুলনায় এই বাহিনীকে সরাসরি গ্রেপ্ত

গ্যাং দমনে হাইতিতে প্রথম সেনা পাঠাল জাতিসংঘ

ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে বাড়তে থাকা গ্যাং সহিংসতা মোকাবিলায় জাতিসংঘ-সমর্থিত নতুন বাহিনীর প্রথম বিদেশি সেনারা দেশটিতে পৌঁছেছে। বুধবার (০১ এপ্রিল) ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’ (জিএসএফ) জানিয়েছে, আফ্রিকার দেশ চাদের একটি অগ্রবর্তী দল রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতিসংঘ কর্মকর্তা জ্যাক ক্রিস্টোফিডস। তিনি বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন।

বুধবার (০১ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বাহিনীটি আগামীতে প্রায় ৫,৫০০ সদস্যে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মাস। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই বাহিনী অনুমোদন পায়। এটি মূলত ২০২৩ সালে গঠিত কেনিয়া-নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নিরাপত্তা মিশনের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে, যা পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জনবলের অভাবে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা নতুন গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সের প্রস্তাব দেয়। তাদের লক্ষ্য হাইতির গ্যাংগুলোকে ‘নিষ্ক্রিয়, বিচ্ছিন্ন ও প্রতিরোধ’ করা। পূর্বের মিশনের তুলনায় এই বাহিনীকে সরাসরি গ্রেপ্তার করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। রাশিয়ার প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া এটিকে ‘তাড়াহুড়ো করে নেওয়া’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন এবং সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে। ২০১০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কলেরা প্রাদুর্ভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা যায়। এছাড়া অতীতে জাতিসংঘ সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।

২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়সির হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হাইতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছায়। নির্বাচনের অভাব ও ক্ষমতার শূন্যতার সুযোগ নিয়ে গ্যাংগুলো দেশের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে।

বর্তমানে রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা গ্যাংদের দখলে রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

হাইতি এখন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী এলিক্স দিদিয়ার ফিলস এইমির নেতৃত্বে রয়েছে। দীর্ঘ বিলম্বের পর দেশটি আগামী আগস্টে জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে প্রায় ৩০০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow