গ্রিসে ভ্রমণের আদ্যোপান্ত

মেজেন্ডা (MAGENDA) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত গ্রিসে অনুষ্ঠিত স্টাডি ভিজিট ও প্রজেক্ট মিটিংয়ে অংশগ্রহণ আমার পেশাগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ২৬ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত গ্রিসের মনোরম পরিবেশে, বিশেষ করে ইউনিভার্সিটি অব পেলোপোনিজে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ আমাকে যেমন জ্ঞানসমৃদ্ধ করেছে, তেমনি দিয়েছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। কর্মসূচির প্রথম দিন থেকেই পরিবেশটি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও আন্তরিক। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত গবেষক, শিক্ষক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। প্রথম তিন দিনের স্টাডি ভিজিট মূলত অ্যাকাডেমিক আলোচনা, উপস্থাপনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিটি সেশন ছিল সুচিন্তিতভাবে সাজানো এবং অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ভরপুর। আমি প্রতিটি সেশনে মনোযোগ সহকারে অংশগ্রহণ করি এবং আলোচনার বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করি। এই সেশনগুলোর আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল জেন্ডার সমতা, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নীতি নির্ধারণের ক্

গ্রিসে ভ্রমণের আদ্যোপান্ত
মেজেন্ডা (MAGENDA) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত গ্রিসে অনুষ্ঠিত স্টাডি ভিজিট ও প্রজেক্ট মিটিংয়ে অংশগ্রহণ আমার পেশাগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ২৬ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত গ্রিসের মনোরম পরিবেশে, বিশেষ করে ইউনিভার্সিটি অব পেলোপোনিজে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ আমাকে যেমন জ্ঞানসমৃদ্ধ করেছে, তেমনি দিয়েছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। কর্মসূচির প্রথম দিন থেকেই পরিবেশটি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও আন্তরিক। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত গবেষক, শিক্ষক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। প্রথম তিন দিনের স্টাডি ভিজিট মূলত অ্যাকাডেমিক আলোচনা, উপস্থাপনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিটি সেশন ছিল সুচিন্তিতভাবে সাজানো এবং অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ভরপুর। আমি প্রতিটি সেশনে মনোযোগ সহকারে অংশগ্রহণ করি এবং আলোচনার বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করি। এই সেশনগুলোর আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল জেন্ডার সমতা, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা। ইউরোপীয় প্রেক্ষাপটে এই বিষয়গুলো যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে নারী-পুরুষ সমতার বিষয়টি যে কেবল সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি— এই উপলব্ধি আমার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে। বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করেন। এতে করে একটি বহুমাত্রিক জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি হয়, যা এককভাবে কোনো একটি দেশ বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। আমি উপলব্ধি করি যে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্‌ম আমাদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে প্রয়োগ করা গেলে তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে। ২৯ ও ৩০ এপ্রিল নির্ধারিত ছিল প্রজেক্ট মিটিংয়ের জন্য। এই দুই দিনে আমরা প্রকল্পের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি। আমি এই মিটিংগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি এবং টিমের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার চেষ্টা করি। বিশেষ করে আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে মতামত প্রদান, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে আমি একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলাম। প্রজেক্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার সময় আমি লক্ষ্য করি, প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করছেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মূল শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের টিমওয়ার্ক আমাদের ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। অফিসিয়াল কার্যক্রমের বাইরে গ্রিসের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলো প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমার এই সফরকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সক্রেটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটল-এর মতো মহান দার্শনিকদের জন্মভূমি হিসেবে গ্রিসের গুরুত্ব অপরিসীম। তাদের চিন্তাধারা ও দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এই মহান ব্যক্তিত্বদের পদচারণায় ধন্য এই ভূমিতে উপস্থিত হয়ে এক ধরনের গভীর অনুভূতি কাজ করে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ভ্রমণের অংশ হিসেবে আমি বিভিন্ন জাদুঘর এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করি। প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার নিদর্শনগুলো খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাই। প্রতিটি স্থাপনা যেন অতীতের গল্প বলে— কখনো গৌরবের, কখনো সংগ্রামের। এই অভিজ্ঞতা আমাকে ইতিহাসের প্রতি নতুনভাবে আগ্রহী করে তোলে। স্থাপত্যশৈলী, ভাস্কর্য এবং শিল্পকর্মের মধ্যে যে সূক্ষ্মতা ও নান্দনিকতা বিদ্যমান, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। গ্রিসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও আমাকে মুগ্ধ করেছে। নীল আকাশ, সমুদ্রের স্বচ্ছ জল, আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি— সব মিলিয়ে এক অপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন চোখ জুড়ায়, তেমনি মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। ব্যস্ত কর্মসূচির মাঝেও এই সৌন্দর্য উপভোগ করার মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত উপভোগ্য। এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মেলামেশা। তাদের জীবনধারা, চিন্তাভাবনা এবং কাজের ধরন সম্পর্কে জানার সুযোগ পাই। এতে করে একটি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমি মনে করি, এই ধরনের অভিজ্ঞতা একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সার্বিকভাবে, ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ আমার জীবনের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র একটি অফিসিয়াল সফর ছিল না; বরং ছিল শেখার, জানার এবং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের একটি সুযোগ। এখানে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আমার পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সবচেয়ে বড় কথা, এই সফর আমাকে দলগত কাজের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে। একটি সফল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে সমন্বয়, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রয়োজন, তা আমি এই কর্মসূচির মাধ্যমে গভীরভাবে অনুভব করেছি। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে আবারও এই জ্ঞানভূমিতে যাওয়ার আগ্রহ আমার থাকবে, কারণ প্রতিবারই নতুন কিছু শেখার সুযোগ তৈরি হবে বলে আমি মনে করি। এই অভিজ্ঞতা আমার স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে এবং আমাকে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। লেখক : অধ্যাপক, গবেষক ও ট্রেজারার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow