‘চামড়া শিল্প নিয়ে সরকারের অব্যবস্থাপনায় আমরা উদ্বিগ্ন’
চামড়া শিল্প নিয়ে সরকারের অব্যবস্থাপনায় আমরা উদ্বিগ্ন-এমন মন্তব্য করেছে সিলেট বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনের নেতারা বলেন, সরকার প্রতিবছর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও লবণ বিতরণ করলেও বাস্তবে নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি ও ক্রয় নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে মাদরাসা, এতিমখানা ও গরিব জনগোষ্ঠী ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং দেশীয় চামড়া শিল্পও সংকটে পড়ছে। শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টায় সিলেট মহানগরীর সোহানীঘাটে সংগঠনের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কোরবানির পশুর চামড়া সংক্রান্ত বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত সদস্যরা ওই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত মুমিন কখনো হতাশ হয় না এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষও হতাশ নয়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী চামড়া শিল্পকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে চামড়া সংগ্রহের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও গরিব জনগোষ্ঠীর হক সংরক্ষণ এবং দেশীয় এই শিল্প টিকিয়ে
চামড়া শিল্প নিয়ে সরকারের অব্যবস্থাপনায় আমরা উদ্বিগ্ন-এমন মন্তব্য করেছে সিলেট বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সরকার প্রতিবছর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও লবণ বিতরণ করলেও বাস্তবে নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি ও ক্রয় নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে মাদরাসা, এতিমখানা ও গরিব জনগোষ্ঠী ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং দেশীয় চামড়া শিল্পও সংকটে পড়ছে।
শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টায় সিলেট মহানগরীর সোহানীঘাটে সংগঠনের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব কথা বলা হয়।
সভায় গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কোরবানির পশুর চামড়া সংক্রান্ত বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত সদস্যরা ওই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত মুমিন কখনো হতাশ হয় না এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষও হতাশ নয়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী চামড়া শিল্পকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে চামড়া সংগ্রহের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও গরিব জনগোষ্ঠীর হক সংরক্ষণ এবং দেশীয় এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলেননি।
বক্তারা বলেন, সরকার প্রতি বছরের মতো এ বছরও লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে কি না এবং ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনছে কি না-তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। তাদের দাবি, শুধু মূল্য নির্ধারণ ও এতিমখানাগুলোতে লবণ বিতরণের মাধ্যমে দায়সারা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় আরও বলা হয়, ঈদের দিনে গরিব ও অসহায় ছাত্রদের মাধ্যমে সংগৃহীত চামড়া আদৌ বিক্রি হচ্ছে কি না এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে তা ক্রয় করা হচ্ছে কি না-এ বিষয়ে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। চামড়া বিক্রি না হওয়ায় এতিমখানা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সমস্যায় পড়লেও তখন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে ট্যানারি সিন্ডিকেটকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান বক্তারা।
সংগঠনের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং দেশীয় এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে কাজ করে আসছে। কিন্তু সরকারের সঠিক উদ্যোগের অভাবে তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা জানান, চামড়া সংগ্রহের জন্য ঈদের সময় মাদরাসা খোলা রাখা, বোর্ডিংয়ের খাবারের ব্যবস্থা সচল রাখা, বিশেষ খাবারের আয়োজন এবং চামড়া পরিবহনের খরচসহ বিভিন্ন ব্যয় মাদরাসার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করতে হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদরাসাভেদে একজন ছাত্রের দৈনিক খাদ্য ব্যয় ৭০ থেকে ১০০ টাকা। সে হিসেবে দুইশ ছাত্রের একটি মাদরাসায় ঈদের আগের পাঁচ দিনে প্রায় এক লাখ টাকা বা তার বেশি ব্যয় হয়। অন্যান্য খরচ বাদ দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে লোকসান ছাড়া আর কিছু থাকে না।
সভায় আরও বলা হয়, সরকার গত বছর থেকে লবণ বিতরণ করলেও বাস্তবে মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্রদের পক্ষে যথাযথভাবে চামড়া সংরক্ষণ করা কঠিন। অদক্ষতার কারণে অনেক চামড়া নষ্টও হয়ে যায়। শুধু মূল্য নির্ধারণ, লবণ বিতরণ ও বিবৃতি দিয়ে চামড়া শিল্প রক্ষা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
চামড়া শিল্প টিকিয়ে রাখতে বাজারে ক্রেতা ও ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা এবং শক্তিশালী বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শামীমাবাদ মাদরাসার মুহতামিম সৈয়দ হাফিয শামীম আহমদ, কাজির বাজার মাদরাসার প্রতিনিধি মাওলানা শিব্বির আহমদ, দরগাহ মাদরাসার প্রতিনিধি মুফতি রশিদ আহমদ, দারুস সালাম মাদরাসার প্রতিনিধি মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ, সোবহানীঘাট মাদরাসার মুহতামিম হাফিয মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, মুক্তিরচক মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিব্বুর রহমান এবং রামধা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইউছুফ আহমদ খাদিমানীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
What's Your Reaction?