জন্মদিনে খুরশীদ আলমের স্মৃতি ও আক্ষেপ

বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম। ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘বন্দী পাখির মত’, ‘পাখির বাসার মত দুইটি চোখ তোমার’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দেওয়া এই শিল্পী প্রায় সাড়ে ৪০০ সিনেমায় গান গেয়েছেন। বয়স ৮১ ছুঁলেও এখনো নিয়মিত গান গেয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্লেব্যাক না করলেও বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, পাশাপাশি প্রকাশ পাচ্ছে তার নতুন একক ও দ্বৈত গান। আজ শনিবার (১ আগস্ট) এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর ৮১তম জন্মবার্ষিকী। বিশেষ দিনটি ঘিরে জন্মদিন, সংগীতজীবন ও স্মৃতিচারণ করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী। প্রতিবারের মতো এবারও জন্মদিনে নেই কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গেই দিনটি কাটানোর পরিকল্পনা তার। খুরশীদ আলম বলেন, 'আমার জন্মদিন সবসময়ই নীরবেই পালিত হয়। কখনো ঘটা করে উদযাপনের অভ্যাস নেই। এবারও দিনটি খুব সাধারণভাবেই কাটবে।'  তবে সংবাদমাধ্যমের ভালোবাসায় দিনটি কিছুটা ব্যতিক্রমী হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি। দুপুরে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘তারকাকথন’-এ অংশ নেন। সেখানে তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া বিকেল ৫টা ৪৫

জন্মদিনে খুরশীদ আলমের স্মৃতি ও আক্ষেপ

বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম। ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘বন্দী পাখির মত’, ‘পাখির বাসার মত দুইটি চোখ তোমার’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দেওয়া এই শিল্পী প্রায় সাড়ে ৪০০ সিনেমায় গান গেয়েছেন। বয়স ৮১ ছুঁলেও এখনো নিয়মিত গান গেয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্লেব্যাক না করলেও বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, পাশাপাশি প্রকাশ পাচ্ছে তার নতুন একক ও দ্বৈত গান।

আজ শনিবার (১ আগস্ট) এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর ৮১তম জন্মবার্ষিকী। বিশেষ দিনটি ঘিরে জন্মদিন, সংগীতজীবন ও স্মৃতিচারণ করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী। প্রতিবারের মতো এবারও জন্মদিনে নেই কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গেই দিনটি কাটানোর পরিকল্পনা তার।

খুরশীদ আলম বলেন, 'আমার জন্মদিন সবসময়ই নীরবেই পালিত হয়। কখনো ঘটা করে উদযাপনের অভ্যাস নেই। এবারও দিনটি খুব সাধারণভাবেই কাটবে।' 

তবে সংবাদমাধ্যমের ভালোবাসায় দিনটি কিছুটা ব্যতিক্রমী হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি। দুপুরে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘তারকাকথন’-এ অংশ নেন। সেখানে তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রচার হয় শাইখ সিরাজ নির্মিত তার জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’।

তিনি বলেন, 'এবারের জন্মদিন ঘিরে বেশ আলোচনা হচ্ছে। প্রামাণ্যচিত্রটির মাধ্যমে অনেকেই আমার কাজ ও জীবন সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারছেন।' 

দীর্ঘ সংগীতজীবনের দিকে ফিরে তাকালে সবচেয়ে বেশি যে অনুভূতিটি তাকে নাড়া দেয়, সেটি হলো নিজের গাওয়া পুরোনো গানগুলো নতুন করে গাওয়ার ইচ্ছা। খুরশীদ আলমের ভাষায়, 'আগের গানগুলো নতুন করে গাওয়ার সুযোগ পেলে হয়তো আগের চেয়ে আরও ভালো গাইতে পারতাম।' 

প্রযুক্তির পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'আমাদের সময় প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না। এক মাইকে গান রেকর্ড করতাম। একটি গান ঠিকভাবে না হলে দশবারও গাইতে হতো। এখন প্রযুক্তির কারণে অনেক কিছু সহজ হয়ে গেছে। মনে হয়, যদি এই সময়ে এসে গানগুলো আবার গাওয়ার সুযোগ পেতাম, তাহলে হয়তো আরও ভালোভাবে গাইতে পারতাম। কিন্তু এখন তো আর সেটা সম্ভব নয়।' 

চলচ্চিত্র ও আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও খুরশীদ আলমের সংগীতজীবনের শুরু রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। চাচা আবু হায়দার সাজেদুর রহমানের কাছে তার হাতেখড়ি। ষাটের দশকের শুরুতে তিনি নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করতেন। ১৯৬৫ সালে শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজে প্রথম মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছিলেন। পরে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রবীন্দ্রসংগীতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর তিনি রেডিওতে আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে অডিশন দেন।

১৯৬৯ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ সিনেমায় প্রথম প্লেব্যাক করেন খুরশীদ আলম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চার শতাধিক চলচ্চিত্রে গান গেয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল প্লেব্যাক শিল্পী।

তার কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়েছে ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘বন্দী পাখির মত’, ‘পাখির বাসার মত দুইটি চোখ তোমার’, ‘যদি বউ সাজো গো, আরও সুন্দর লাগবে গো’, ‘মাগো মা’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান। 

খুরশীদ আলমের গাওয়া গানে পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাক থেকে শুরু করে ওয়াসিম, জাভেদ, মাহমুদ কলি, আলমগীর, জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল রানা, বুলবুল আহম্মেদসহ বাংলা চলচ্চিত্রের প্রায় সব জনপ্রিয় নায়ক। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তার কণ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। 
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow