জমজ শিশু হত্যার ঘটনায় মায়ের যাবজ্জীবন

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় জমজ শিশু হত্যার ঘটনায় মাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার (১৩ মে) খুলনার বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত কানিজ ফাতেমা কনা উপজেলার কুশলা গ্রামের বাসিন্দা শেখ খাইরুজ্জামান ওরফে খায়েরের মেয়ে।  ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর মোল্লাহাট লাকি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে কনার গর্ভে জমজ কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। ক্লিনিক থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসেন তিনি। কনা তার স্বামীকে প্রায় মোবাইলে কল করে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু স্বামী মাসুম খুব তাড়াতাড়ি তাকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। ২০২২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কনার ছোট বোন মোবাইলে মাসুম বিল্লাহকে জানান তার দুই শিশুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ পেয়ে তিনি শ্বশুর বাড়িতে চলে আসেন। শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সদস্যসহ সবাই একসঙ্গে খুঁজতে থাকেন। ওই দিন ভোর ৬টার দিকে শ্বশুর বাড়ির প

জমজ শিশু হত্যার ঘটনায় মায়ের যাবজ্জীবন

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় জমজ শিশু হত্যার ঘটনায় মাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (১৩ মে) খুলনার বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত কানিজ ফাতেমা কনা উপজেলার কুশলা গ্রামের বাসিন্দা শেখ খাইরুজ্জামান ওরফে খায়েরের মেয়ে। 

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর মোল্লাহাট লাকি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে কনার গর্ভে জমজ কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। ক্লিনিক থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসেন তিনি। কনা তার স্বামীকে প্রায় মোবাইলে কল করে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু স্বামী মাসুম খুব তাড়াতাড়ি তাকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন।

২০২২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কনার ছোট বোন মোবাইলে মাসুম বিল্লাহকে জানান তার দুই শিশুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ পেয়ে তিনি শ্বশুর বাড়িতে চলে আসেন। শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সদস্যসহ সবাই একসঙ্গে খুঁজতে থাকেন। ওই দিন ভোর ৬টার দিকে শ্বশুর বাড়ির পারিবারিক পুকুর থেকে যমজ দুই শিশুর মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পরে এ ঘটনায় নিহত জমজ দুই শিশুর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে তেরখাদা থানায় স্ত্রী কনাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেরখাদা থানার এসআই মো. এনামুল হক একই বছরের ৩১ মার্চ কনাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর আগে, ২০১৮ সালে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট গ্রামের বাসিন্দা মোল্লা আবু বকরের ছেলে মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে তেরখাদা উপজেলার কুশলা গ্রামের খায়েরের মেয়ে কনার বিয়ে হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow