জিনের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন, ভাইরাল ঘটনার অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত
জামালপুরের মেলান্দহে জিনের নির্দেশে কবর থেকে নারীর মরদেহ উত্তোলন করার ঘটনার অনুসন্ধানে গিয়ে কালবেলার স্থানীয় প্রতিনিধি মশিউর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠেছে। ওই নারীর ছেলে যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠে।
সোমবার (০৩ আগস্ট) উপজেলার চর মাহমুদপুরের নয়াপাড়ায় মৃত হালিমার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলার মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মশিউর রহমান।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, শনিবার থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘মারা যাওয়ার পর আবার জীবিত হয়েছেন এক নারী’ এমন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। আমি দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে অফিসের নির্দেশে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ঘটনার বিস্তারিত জানান জন্য ওই নারীর বাড়িতে যাই। ওখানে গিয়ে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই নারীর ছেলেকে ডাকা হয়।
এ সময় সাংবাদিকের পরিচয় দেওয়া মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে যান মৃত হালিমার ছেলে এবং ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। একপর্যায়ে একাধিক ব্যক্তি হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী আচরণ শুরু করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মশিউর রহমানকে রক্ষা করেন। ওই নারীর বড় ছেলে যুবদল নেতা নিজের রাজনৈতিক পরিচয় উল্ল
জামালপুরের মেলান্দহে জিনের নির্দেশে কবর থেকে নারীর মরদেহ উত্তোলন করার ঘটনার অনুসন্ধানে গিয়ে কালবেলার স্থানীয় প্রতিনিধি মশিউর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠেছে। ওই নারীর ছেলে যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠে।
সোমবার (০৩ আগস্ট) উপজেলার চর মাহমুদপুরের নয়াপাড়ায় মৃত হালিমার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলার মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মশিউর রহমান।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, শনিবার থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘মারা যাওয়ার পর আবার জীবিত হয়েছেন এক নারী’ এমন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। আমি দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে অফিসের নির্দেশে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ঘটনার বিস্তারিত জানান জন্য ওই নারীর বাড়িতে যাই। ওখানে গিয়ে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই নারীর ছেলেকে ডাকা হয়।
এ সময় সাংবাদিকের পরিচয় দেওয়া মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে যান মৃত হালিমার ছেলে এবং ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। একপর্যায়ে একাধিক ব্যক্তি হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী আচরণ শুরু করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মশিউর রহমানকে রক্ষা করেন। ওই নারীর বড় ছেলে যুবদল নেতা নিজের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে পরবর্তীতে তার মায়ের মরদেহ উত্তোলনের বিষয়ে খবর সংগ্রহ করতে তাদের বাড়িতে গেলে খুন করা হবে বলে হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মশিউর রহমান বলেন, জিনের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে মেলান্দহের চর মাহমুদপুর নয়াপাড়া এলাকায় যাই। ওই নারীর বাড়িতে গেলে যুবদল নেতা হুমায়ুন এবং তার ভাইয়েরা অশোভন আচরণ করে। তাই ভাই হালিম সাংবাদিকদের ‘কাফের’ আখ্যা দিয়ে ভাইরাল নিউজের সমালোচনা করেন।
মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে মৃত হালিমার মরদেহ কবর থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে ইসিজি পরীক্ষা করার ঘটনা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। আসাদুজ্জামান নামে মৃত হালিমার এক প্রতিবেশী জানান, হালিমা শুক্রবার রাতে মারা যায়। পরদিন শনিবার সকাল ৮টায় তাকে দাফন করা হয়। এদিন রাত আটটার মেয়ে সুলতানা ও দুই পুত্রবধূ বলেন মৃত হালিমা কবরে জীবিত আছে। এ কথা শুনে তিন ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা মিলে রাত ৯টার দিকে হালিমার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে। পরে স্থানীয় এক ডাক্তার কাছে গিয়ে দেখে, মরদেহ থেকে তাজা রক্ত বের হচ্ছে। এরপর মরদেহটি হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, ওইদিন রাত ৩টার দিকে হালিমার মরদেহ পুনরায় গোসল দিয়ে দাফন করা হয়েছে বলে শুনেছি।