জৌলুস হারিয়েছে ‘পাখাওয়ালা বাড়ি’
নারায়ণগঞ্জে ২ নম্বর বাবুরাইলের বাসিন্দা মো. ইউসুফ ব্যাপারী। তার বাড়ি সকলের কাছে `পাখাওয়ালা বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে সেই পাখাওয়ালা বাড়ির জৌলুস নেই। প্রযুক্তির প্রভাবে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে তালপাতার পাখার ব্যবসা। গরমকালে একসময় যে বাড়ি থেকে প্রায় দেড় লাখ পাখা বিক্রি হতো এখন সেখানে বিক্রি হয় পাঁচ থেকে ছয় হাজার পাখা। ৭২ বছর বয়সি মো.ইউসুফ ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মিলে কোনোরকম এ ব্যবসাটা ধরে রেখেছেন। মো. ইউসুফ ব্যাপারীর হাত ধরেই তাদের প্রায় ১২০ বছরের পারিবারিক ব্যবসার ইতি ঘটার সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি। দিন দিন হাতপাখার প্রচলন কমে যাওয়ায় তার পরে আর কেউ এ ব্যবসা করতে রাজি নয়। তার দুই ছেলেই অন্য পেশাতে জড়িয়ে গেছেন। যখন মো. ইউসুফ ব্যাপারী অসুস্থ থাকেন তখন হাতপাখা বেচাকেনা বন্ধ থাকে। মো. ইউসুফ ব্যাপারীর স্ত্রী হাসি বেগম বলেন, ‘এটা প্রায় ১২০ বছরের ব্যবসা। আমি যখন তাদের পরিবারের বউ হয়ে আসি তখন থেকেই এই ব্যবসা দেখে আসছি। সে সময় হাতপাখার জন্য অনেক কারিগর ছিলো। চারআনা করে একটা পাখা বিক্রি করতো। বর্তমানে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় একটা পাখা বিক্রি হয়। পাখা বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলতো। বাড়িতে সবস
নারায়ণগঞ্জে ২ নম্বর বাবুরাইলের বাসিন্দা মো. ইউসুফ ব্যাপারী। তার বাড়ি সকলের কাছে `পাখাওয়ালা বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে সেই পাখাওয়ালা বাড়ির জৌলুস নেই। প্রযুক্তির প্রভাবে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে তালপাতার পাখার ব্যবসা। গরমকালে একসময় যে বাড়ি থেকে প্রায় দেড় লাখ পাখা বিক্রি হতো এখন সেখানে বিক্রি হয় পাঁচ থেকে ছয় হাজার পাখা।
৭২ বছর বয়সি মো.ইউসুফ ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মিলে কোনোরকম এ ব্যবসাটা ধরে রেখেছেন। মো. ইউসুফ ব্যাপারীর হাত ধরেই তাদের প্রায় ১২০ বছরের পারিবারিক ব্যবসার ইতি ঘটার সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি। দিন দিন হাতপাখার প্রচলন কমে যাওয়ায় তার পরে আর কেউ এ ব্যবসা করতে রাজি নয়। তার দুই ছেলেই অন্য পেশাতে জড়িয়ে গেছেন। যখন মো. ইউসুফ ব্যাপারী অসুস্থ থাকেন তখন হাতপাখা বেচাকেনা বন্ধ থাকে।
মো. ইউসুফ ব্যাপারীর স্ত্রী হাসি বেগম বলেন, ‘এটা প্রায় ১২০ বছরের ব্যবসা। আমি যখন তাদের পরিবারের বউ হয়ে আসি তখন থেকেই এই ব্যবসা দেখে আসছি। সে সময় হাতপাখার জন্য অনেক কারিগর ছিলো। চারআনা করে একটা পাখা বিক্রি করতো। বর্তমানে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় একটা পাখা বিক্রি হয়। পাখা বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলতো। বাড়িতে সবসময় পাইকারদের ভিড় লেগে থাকতো। এখন এ হাতপাখা চলে না।’
মো. ইউসুফ ব্যাপারী বলেন, ‘আমাদের এ পাখার ব্যবসা ব্রিটিশ আমল থেকেই চলে আসছে। আমার বাবার আগে দাদা এই ব্যবসা করতো। চাচারাও এ ব্যবসা করেছে। তবে আমার মৃত্যুর পর পাখার ব্যবসা কেউ করবে না। কারণ এখন আর আগের মতো পাখা চলে না। আমার ছেলেরা অন্য পেশাতে জড়িয়ে গেছেন। আগে বিদ্যুৎ কম ছিলো। যার কারণে পাখার চাহিদা ছিলো। তালগাছও তেমন নেই। আগে নারায়ণগঞ্জের আশপাশ থেকেই পাখা আনা যেতো। এখন ময়মনসিংহ থেকে আনতে হয়। তারপরও বাবা-দাদাদের ব্যবসা ধরে রাখছি।’
প্রতিবেশী বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম তখন থেকেই তাদের এ ব্যবসা দেখে আসছি। কিন্তু এখন আর তাদের বাড়িতে আগের মতো পাখা ব্যবসায়ীদের আনাগোনা দেখা যায় না। কারণ মানুষ আর আগের মতো পাখা ব্যবহার করে না।’
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজউদ্দিন বলেন, যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের জন্য বিভিন্ন রকমের সহযোগিতা রয়েছে। যদি মো.ইউসুফ ব্যাপারীর জন্য কিছু করার সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?