জ্যোতি পোদ্দারের কবিতা 

গন্ধগোকুল     চেনাজানা একটা স্মৃতিবাহী সম্পর্ক-জ্ঞান যা নিজে নিজের ভেতর থেকে শুধু জেগে ওঠে না বরং জাগিয়ে দিয়ে কড়া নাড়ে   ইন্দ্রিয়ের দরোজায়। অথচ গোয়ামসুরি চালের সৌরভ ছড়িয়ে তিনি যখন কামরাঙা ডালে আছড়ে পড়লেন—ভেবেছি হয়তো   ঘন পাতার কামরাঙা ছোপ ছোপ অন্ধকারের সাথে বাতাসকে নিয়ে খেলছেন হুড়োহুড়ি লুটোপুটি হাপুসহুপুস ডিগবাজি।   খেলার উন্মত্ততায় গোয়ামসুরি চালের বাসনা শুধু ঘরময় ছড়িয়ে পড়ছে না—রসে ডুবানো গোল্লার মতো জিবও যেন   চাটতে চাইছে গোয়ামসুরি চাল আর ঘন দুধের থাল-ভরা পায়েস—গালফোলা গোটা চারেক লুচি হলে মন্দ হতো না।   তুমি যখন দুপুরে শুকনো মরিচ আর লবণ দিয়ে তারার মতো চাক চাক করে কাটা কামরাঙা খেতে খেতে টক আর ঝালের   চোটে ঠোঁট আর কান গরম হয়ে তোমার চোখ দিয়ে অবিরত জল গড়িয়ে পড়ছে তখনও আমার মুখভরা রসে ভাসছে জিব    আর টাকরা। তারার মতো চাক চাক করে কাটা কাঁচা কামরাঙা খাবার স্বাদ ও সাধের মিলনে আনন্দে নেচে উঠেছে আমার মন।   এই অন্ধকারে কামরাঙা ডালে কে তবে আছড়ে পরে ছড়াচ্ছে  বাসনা চালের সুবাস—সমস্ত ঘরময় হয়ে উঠছে পৌষের মিঠাই ?   ঢেউটিন চালে ছর ছর শব্দ-প্রপাত হতেই চিনে গেলাম আমার পড়শী গন্ধগোকুলকে

জ্যোতি পোদ্দারের কবিতা 

গন্ধগোকুল

 

 

চেনাজানা একটা স্মৃতিবাহী সম্পর্ক-জ্ঞান যা নিজে নিজের
ভেতর থেকে শুধু জেগে ওঠে না বরং জাগিয়ে দিয়ে কড়া নাড়ে

 

ইন্দ্রিয়ের দরোজায়। অথচ গোয়ামসুরি চালের সৌরভ ছড়িয়ে
তিনি যখন কামরাঙা ডালে আছড়ে পড়লেন—ভেবেছি হয়তো

 

ঘন পাতার কামরাঙা ছোপ ছোপ অন্ধকারের সাথে বাতাসকে
নিয়ে খেলছেন হুড়োহুড়ি লুটোপুটি হাপুসহুপুস ডিগবাজি।

 

খেলার উন্মত্ততায় গোয়ামসুরি চালের বাসনা শুধু ঘরময়
ছড়িয়ে পড়ছে না—রসে ডুবানো গোল্লার মতো জিবও যেন

 

চাটতে চাইছে গোয়ামসুরি চাল আর ঘন দুধের থাল-ভরা
পায়েস—গালফোলা গোটা চারেক লুচি হলে মন্দ হতো না।

 

তুমি যখন দুপুরে শুকনো মরিচ আর লবণ দিয়ে তারার মতো
চাক চাক করে কাটা কামরাঙা খেতে খেতে টক আর ঝালের

 

চোটে ঠোঁট আর কান গরম হয়ে তোমার চোখ দিয়ে অবিরত
জল গড়িয়ে পড়ছে তখনও আমার মুখভরা রসে ভাসছে জিব 

 

আর টাকরা। তারার মতো চাক চাক করে কাটা কাঁচা কামরাঙা
খাবার স্বাদ ও সাধের মিলনে আনন্দে নেচে উঠেছে আমার মন।

 

এই অন্ধকারে কামরাঙা ডালে কে তবে আছড়ে পরে ছড়াচ্ছে 
বাসনা চালের সুবাস—সমস্ত ঘরময় হয়ে উঠছে পৌষের মিঠাই ?

 

ঢেউটিন চালে ছর ছর শব্দ-প্রপাত হতেই চিনে গেলাম আমার
পড়শী গন্ধগোকুলকে।তিনি এ পাড়াতে অনেকদিন আসেননি।

 

আসবেন কী করে?একটাও আড়া রাখিনি—আবডাল রাখিনি।
কামরাঙা গাছে ঝুঁলতে থাকা গন্ধগোকুল  সবুজ-অন্ধকার পাতার 

 

সাথে খসখস শব্দের ভেতর ছর ছর করে প্রশ্রাব করতে করতে 
ছড়াচ্ছেন গোয়ামসুরি চালের বাসনা।আহা!কতদিন পর এমন সুবাসে

 

যেন বহুদিনের অব্যবহৃত লালচে-বাদামী রঙের জং ধরা তালা ঝুর
ঝুর করে অকস্মাৎ ভেঙে খুলে গেলো আলি বাবার গন্ধ-গুহার মুখ।


 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow