আগের বছরও স্পোর্টিকোর জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয়কারী ক্রীড়াবীদ ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বের সেরা ধনী ক্রীড়াবীদ নির্বাচিত হলেন আল নাসরে খেলা পর্তুগিজ এই ফুটবলার। ২০২৪ সালেও রোনালদোর আয় ছিল ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ফুটবল, এনবিএল, এনএফএল, গলফ, বক্সিং, টেনিসের মত বিশ্বের জনপ্রিয় এবং মাল্টি বিলিয়ন ডলার মূল্যের ডিসিপ্লিনগুলোর খেলোয়াড়দের বার্ষিক আয় নিয়ে এ জরিপ চালিয়েছিলো স্পোর্টিকো। তবে, এবার পত্রিকাটির জরিপে যে চিত্র উঠে এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ আয়কারী ১০০ ক্রীড়াবীদের মধ্যেও নেই কোনো নারী।
২০২৪ সালে সেরা ১০০জন ক্রীড়াবীদ মিলে আয় করেছে ৬.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় ১৪% বেশি। এর মধ্যে ৪.৮ বিলিয়ন রয়েছে ক্রীড়াবীদদের পারিশ্রমিক এবং প্রাইজ মানি। এছাড়া ১.৪ বিলিয়ন রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের করা এনডোর্সমেন্ট।
ইউএস ওপেনজয়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস তারকা কোকো গফ ২০২৪ সালে নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ আয়কারী ছিলেন। এই নারী আয় করেন ৩০.৪ মিলিয়ন ডলার। সেরা ১০০ জনের শেষজন হিসেবে নাম লিখেছেন মিনেসোটা ভাইকিংসের ড্যানিয়েল জোন্স। তার আয় ছিল ৩৭.৫ মিলিয়ন ডলার।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বয়স এখন ৪০। এই বয়সে যেখানে অন্য ক্রীড়াবীদরা নিজেদের বুট, র্যাকেট তুলে রাখেন, সেখানে রোনালদো এখনও দিব্যি খেলে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে ৯২০ গোলের মাইলফলকে পার হয়ে গেছেন। তার লক্ষ্য ১০০০ গোলের মাইলফলক অতিক্রম করা। তবে, যেভাবে পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন, তাতে একহাজার গোল হওয়া বিচিত্র কিছু নয়।
যার প্রভাব দেখা যায় তার বার্ষিক উপার্জনে। ২০২৪ সালে আয় করা ২৬০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে আল নাসর থেকে আয় করেছেন ২১৫ মিলিয়ন ডলার। বাকি ৪৫ মিলিয়ন ডলার এসেছে মাঠের বাইরের আয় থেকে।
টানা আট বছর ধরে রোনালদোর বার্ষিক আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি, আর ২০২৪ সালে এটি ২০০ মিলিয়নেরও বেশি হয়েছে। তার ক্যারিয়ারের মোট আয় এখন ১.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা তিনি ২০০২ সালে স্পোর্টিং সিপি-তে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে অর্জন করেছেন। নাইকি, হার্বালাইফ, অল্টিস ও বিন্যান্সের মতো ১২টি ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেন তিনি।
রোনালদোর পর আছে এনবিএ তারকা স্টিফেন কারি। তার আয় ১৫৩.৮ মিলিয়ন ডলার। বক্সার টাইসন ফিউরি আছেন তিন নম্বরে। ১৪৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন গত বছর।
সিআর সেভেনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি আছেন চতুর্থ স্থানে। গত বছরে তার আয় ১৩৫ মিলিয়ন ডলার। সৌদিতে না খেললেও দেশটির পর্যটন বোর্ডের কাছ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছেন মেসি।
এরপর বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমসের আয় ১৩৩.২ মিলিয়ন ডলার। সদ্যই সৌদি আরব ছেড়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে যোগ দেওয়া নেইমারের আয় ১৩৩ মিলিয়ন ইউরো। আছেন ছয় নম্বরে। সেরা দশে আছেন আরও দুই ফুটবলার করিম বেনজেমা ও কিলিয়ান এমবাপে। সবমিলিয়ে সেরা দশের তালিকায় তাই পাঁচ জনই ফুটবলার।
আইএইচএস/