টোল নৈরাজ্যে কমছে পর্যটক-দর্শনার্থী, ব্যবসায় মন্দা
৫০০ মিটার সড়কের ব্যবধানে দুই দফা টোল আদায় হয়রানির শিকার যাত্রী-পর্যটকরা ঘাট এলাকায় গাড়ি পার্কিং করলেই দিতে হয় টাকা পদ্মারপাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যে শিমুলিয়া ঘাটে প্রতিদিন ভিড় করতেন হাজারো পর্যটক-দর্শনার্থী, সেই ঘাটেই এখন দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। ঘাটের প্রবেশমুখে মাত্র আধা কিলোমিটার পথের ব্যবধানে দুই দফায় টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। এর প্রভাবে গত দুই সপ্তাহে ঘাট এলাকায় পর্যটক-দর্শনার্থীর সংখ্যা কমেছে বলে দাবি স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের। এতে ভাটা পড়েছে বাণিজ্যিক সব কার্যক্রম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিমুলিয়া ঘাটে মাত্র আধা কিলোমিটারের পথের ব্যবধানে পরপর দুটি স্থানে বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। সম্প্রতি টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে আসা চার পর্যটককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজনদের বিরুদ্ধে। ‘বিআইডব্লিউটিএ লোগো সম্বলিত হলুদ ও আকাশি রঙের একটি টোকেন ধরিয়ে দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নেওয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা করে। দুইবারে দিতে হচ্ছে ৬০ টাকা। প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত বিভিন্
- ৫০০ মিটার সড়কের ব্যবধানে দুই দফা টোল আদায়
- হয়রানির শিকার যাত্রী-পর্যটকরা
- ঘাট এলাকায় গাড়ি পার্কিং করলেই দিতে হয় টাকা
পদ্মারপাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যে শিমুলিয়া ঘাটে প্রতিদিন ভিড় করতেন হাজারো পর্যটক-দর্শনার্থী, সেই ঘাটেই এখন দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। ঘাটের প্রবেশমুখে মাত্র আধা কিলোমিটার পথের ব্যবধানে দুই দফায় টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। এর প্রভাবে গত দুই সপ্তাহে ঘাট এলাকায় পর্যটক-দর্শনার্থীর সংখ্যা কমেছে বলে দাবি স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের। এতে ভাটা পড়েছে বাণিজ্যিক সব কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিমুলিয়া ঘাটে মাত্র আধা কিলোমিটারের পথের ব্যবধানে পরপর দুটি স্থানে বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। সম্প্রতি টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে আসা চার পর্যটককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজনদের বিরুদ্ধে।
‘বিআইডব্লিউটিএ লোগো সম্বলিত হলুদ ও আকাশি রঙের একটি টোকেন ধরিয়ে দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নেওয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা করে। দুইবারে দিতে হচ্ছে ৬০ টাকা। প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহন থেকে বিনা রসিদে শুধুমাত্র গাড়ির নম্বর নোট করেই নেওয়া হচ্ছে ১০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত’
বুধবার (২৯ জুলাই) লৌহজংয়ে ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাওয়া চৌরাস্তা হয়ে শিমুলিয়া ঘাটের দিকে কিছুদূর এগিয়ে গেলেই ফেরিঘাটের প্রবেশপথ। সেখানে হাতের ইশারায় থামানো হচ্ছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহন কিংবা পিকনিকে আসা যাত্রীবাহী বাস। সেসব যানবাহনকে ঘিরে ধরছেন লাঠি হাতে থাকা ৪-৫ জন। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অর্থ। মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই পরপর দুবার টাকা দিতে হচ্ছে যানবাহন চালক ও পর্যটকদের।
পদ্মাপাড়ে আসা দর্শনার্থীদের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ লোগো সম্বলিত হলুদ ও আকাশি রঙের একটি টোকেন ধরিয়ে দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নেওয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা করে। দুইবারে দিতে হচ্ছে ৬০ টাকা। প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহন থেকে বিনা রসিদে শুধুমাত্র গাড়ির নম্বর নোট করেই নেওয়া হচ্ছে ১০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর রসিদের মাধ্যমে এসব টাকা তুলছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি চক্রের সদস্যরা। তবে তাদের দাবি, ইজারাদার হাজি আলমগীরের নেতৃত্বে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে।
‘চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে এক কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বিনিময় শিমুলিয়া ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে আলমগীর হোসেন নামের স্থানীয় এক ঠিকাদারকে। এরপর থেকেই দৈন্যদশা দেখা দিয়েছে ঘাট এলাকায়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত টোলের কারণে যদি পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে শুধু ব্যবসা নয় শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বৈত টোল আদায়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পর্যটননির্ভর ব্যবসা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে। গত দুই সপ্তাহে শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটক ও দর্শনার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আগে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটলেও এখন ঘাটে সুনসান নীরবতা। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের।
বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে এক কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বিনিময় শিমুলিয়া ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে আলমগীর হোসেন নামের স্থানীয় এক ঠিকাদারকে। এরপর থেকেই দৈন্যদশা দেখা দিয়েছে ঘাট এলাকায়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত টোলের কারণে যদি পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে শুধু ব্যবসা নয় শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভোগান্তির কথা জানান রাজধানীর আরামবাগ থেকে পরিবার নিয়ে পদ্মাপাড়ে বেড়াতে আসা ভুক্তভোগী দর্শনার্থী সুমনা আক্তার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়ক পাড়ি দিতে গাড়িটির টোল দিতে হয়েছে সব মিলিয়ে ১৮০ টাকা। তবে ঘাট এলাকায় মাত্র আধা কিলোমিটার পাড়ি দিতে দিতে হয়েছে ২০০ টাকা।’
‘নতুন টোল চালুর পর থেকেই ঘাট এলাকায় পর্যটক কমতে শুরু করেছে। এতে আমাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পদ্মাপাড়ে আসা সাধারণ দর্শনার্থীকে সেবা দেওয়ার পরিবর্তে বিআইডব্লিউটিএ এখনে টোলনির্ভর ব্যবসা করছে’
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরেক দর্শনার্থী সাইফুল আলম মজুমদার। তিনি জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত আসতে তাকে মহাসড়কে টোল দিতে হয়েছে মাত্র ১০ টাকা। কিন্তু ঘাট এলাকায় ঢুকতেই প্রথমে একবার দিয়েছেন ৩০ টাকা এরপর আবার কিছু দূর এগিয়ে যেতেই আবার তাকে দিতে হয়েছে আরও ৩০ টাকা।
বিষয়টি ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ মন্তব্য করে সাইফুল আলম বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় একটি এলাকাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য মাত্রাতিরিক্ত টোল আদায়সহ চলছে নানাভাবে পর্যটক হয়রানি। তিনি অভিযোগ করেন, দফায় দফায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাঠিসোঁটা হাতে তাকে মারতে তেড়ে আসেন ঠিকাদারের লোকজন।
এর আগে, সবশেষ ১৬ জুলাই রাতে টোল আদায়কারীদের সঙ্গে পর্যটকদের বাগবিতণ্ডা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অতিরিক্ত টোলের প্রতিবাদ করায় ইজারাদারের লোকজন হামলা চালিয়ে কয়েকজন পর্যটককে আহত করেন।
‘এবছরই নতুন রাস্তা ব্যবহারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ টোল ইজারা দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। খুব কাছাকাছি দুটি টোল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা এটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে’—ইউএনও
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সাইফুদ্দিন বেপারী বলেন, মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার জন্য আলাদা করে আবার টোল নেওয়াটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ঘাট এলাকায় টোলের নামে নারী পর্যটকদের হয়রানি করা হচ্ছে নিয়মিত। এভাবে চলতে থাকলে মানুষ শিমুলিয়া ঘাটে আসা বন্ধ করে দেবে।
ঘাট এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান পিন্টু, শরীফ মোল্লা, আহাম্মেদ দেওয়ানসহ আরও বেশ কয়েকজন বলেন, নতুন টোল চালুর পর থেকেই ঘাট এলাকায় পর্যটক কমতে শুরু করেছে। এতে আমাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পদ্মাপাড়ে আসা সাধারণ দর্শনার্থীকে সেবা দেওয়ার পরিবর্তে বিআইডব্লিউটিএ এখনে টোলনির্ভর ব্যবসা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, শিমুলিয়া ঘাটের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে এ টোল ব্যবস্থা চালু করেছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘মানুষ যেটাকে চাঁদাবাজি বলছে সেটা চাঁদাবাজি নয়। সরকারি রাজস্ব বাড়াতে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।’
কোন যানবাহন থেকে কী পরিমাণ টোল আদায় করতে হবে, সে বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ইজারাদারের বিষয়।
সুনির্দিষ্ট কোনো পার্কিং ব্যবস্থা আছে কি-না জানতে চাইলে শাহ নেওয়াজ বলেন, পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ঘাট এলাকায় যেখানে গাড়ি পার্কিং করবেন, সেখানেই তাকে টাকা দিতে হবে।
অতিরিক্ত টাকা ও দুই দফা টোল নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার আলমগীর হোসেন দাবি করেন, বিআইডব্লিউটিএ থেকেই দুই দফা টোল আদায় করাসহ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে যানবাহন পার্কিং করার জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় দুই কোটি টাকার কাছাকাছি টাকার বিনিময়ে ঘাটটি ইজারা নিয়েছি। এখন বিআইডব্লিউটিএ আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে, আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’
মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল বিএনপি ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কে দুইবার টোলের টাকা নিচ্ছে। ঘাট এলাকায় পর্যটক হয়রানিসহ বিভিন্ন অনিয়ম চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে জানানো হবে।’
শিমুলিয়া ঘাটে কাছাকাছি দুটি টোল নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু।
তিনি বলেন, ‘এবছরই নতুন রাস্তা ব্যবহারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ টোল ইজারা দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। খুব কাছাকাছি দুটি টোল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা এটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’
এসআর/জেআইএম
What's Your Reaction?





