ট্রাম্পের কটাক্ষের পরই বায়ুশক্তিতে ঝুঁকছে ইউরোপের ৯ দেশ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে দাভোস-এ দেওয়া এক ভাষণে বায়ুশক্তিকে কটাক্ষ করে ‘উইন্ডমিলকে লুজার’ আখ্যা দেন এবং যারা এগুলো কেনে তাদের ‘বোকা মানুষ’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের এমন কটাক্ষের মাত্র পাঁচ দিন পরই ইউরোপের নয়টি দেশ উত্তর সাগরে একটি বিশাল অফশোর বায়ুশক্তি হাব নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সিএনএনের খবরে বলা হয়, এই চুক্তি সরাসরি ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া নয়, তবে এটি ইউরোপের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ইউরোপ তার জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে পারবে এবং এমন এক সময়ে মার্কিন তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে, যখন যুক্তরাষ্ট্রকে অনেকেই অনির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখছে। ইউরোপসহ অনেক জ্বালানি-আমদানিকারক অর্থনীতি এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জ্বালানি স্বাধীনতার সমার্থক হিসেবে দেখছে। ভারত দ্রুতগতিতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করছে, আর চীন ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে যত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ চালু আছে তার চেয়েও বেশি পরিমাণে নতুন বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জীবাশ্ম জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে এবং বায়ু ও সৌর প্রকল্পগুলো বন্ধ করার চে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে দাভোস-এ দেওয়া এক ভাষণে বায়ুশক্তিকে কটাক্ষ করে ‘উইন্ডমিলকে লুজার’ আখ্যা দেন এবং যারা এগুলো কেনে তাদের ‘বোকা মানুষ’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের এমন কটাক্ষের মাত্র পাঁচ দিন পরই ইউরোপের নয়টি দেশ উত্তর সাগরে একটি বিশাল অফশোর বায়ুশক্তি হাব নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, এই চুক্তি সরাসরি ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া নয়, তবে এটি ইউরোপের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ইউরোপ তার জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে পারবে এবং এমন এক সময়ে মার্কিন তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে, যখন যুক্তরাষ্ট্রকে অনেকেই অনির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখছে।
ইউরোপসহ অনেক জ্বালানি-আমদানিকারক অর্থনীতি এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জ্বালানি স্বাধীনতার সমার্থক হিসেবে দেখছে। ভারত দ্রুতগতিতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করছে, আর চীন ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে যত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ চালু আছে তার চেয়েও বেশি পরিমাণে নতুন বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জীবাশ্ম জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে এবং বায়ু ও সৌর প্রকল্পগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করছে। গেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক থিজ ভ্যান ডি গ্রাফ-এর ভাষায়, জ্বালানি নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ার মতো পেট্রোস্টেটগুলোর সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
এই বৃহৎ অফশোর উইন্ড প্রকল্পকে যৌথ ঘোষণায় বিশ্বের বৃহত্তম পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কেন্দ্র বলা হয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্য। এটি জার্মানিতে অনুষ্ঠিত নর্থ সি সামিট- এ স্বাক্ষরিত হয়।
প্রকল্পটি থেকে ১০০ গিগাওয়াট অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যা প্রায় ৫ কোটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য যথেষ্ট। উচ্চ-ভোল্টেজ সাবসি (সমুদ্রতলদেশীয়) কেবলের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে।
এটি জ্বালানি স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
What's Your Reaction?