ডেভিড ইমনকে এবার সিএমপির মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল আদালত, ১০ আগস্ট হাজিরের নির্দেশ

আলোচিত ডেভিড ইমনকে এবার চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালত তাকে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দিন সকাল ১০টায় তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ এ আদেশ দেন। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গত বছর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলায় ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই দিন চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরিন হিমার আদালতে ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র আইনের মামলা এবং একটি হত্যা মামলা। চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, অস্ত্রের দুটি মামলায় ডেভিড

ডেভিড ইমনকে এবার সিএমপির মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল আদালত, ১০ আগস্ট হাজিরের নির্দেশ

আলোচিত ডেভিড ইমনকে এবার চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালত তাকে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দিন সকাল ১০টায় তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ এ আদেশ দেন। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গত বছর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলায় ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

একই দিন চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরিন হিমার আদালতে ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র আইনের মামলা এবং একটি হত্যা মামলা।

চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, অস্ত্রের দুটি মামলায় ডেভিড ইমন এজাহারভুক্ত আসামি। এর মধ্যে একটি মামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে এবং অপরটি বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয়েছে। আর হত্যা মামলায় অন্য এক আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তার নাম উঠে আসায় তাকে এজাহারবহির্ভূত সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুনানির সময় ডেভিড ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ওসি (প্রসিকিউশন) হাবিবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ফটিকছড়ি থানার তিন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এসব মামলায় রোববার রিমান্ড আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডেভিড ইমনকে তার তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলার পর তিনি আলোচনায় আসেন।

পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতেন এবং অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ ছিলেন। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ওপর ছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, বিদেশে অবস্থানরত বড় সাজ্জাদের পক্ষে চট্টগ্রামে অপরাধী চক্র পরিচালনায় বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান নেতৃত্বে আসেন।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হতো।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow