ঢাকা বার নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্যানেলসহ জয়
দেশের সর্ববৃহৎ বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের ২৩ পদেই নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) রাত ১১ টা নাগাদ নির্বাচন কমিশনার রায়হান মোর্শেদ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ আইনজীবী বলেন, বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন পর্রবর্তীতে অফিশিয়ালি ঘোষণা করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বারের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, ঢাকা বারের নির্বাচনে নীল প্যানেল সকল পদে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ জোট করে নীল প্যানেলে নির্বাচন করে। অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এনসিপি সবুজ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিএনপি জোট থেকে জয়ীরা হলেন, সভাপতি পদে আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, ট্রেজারার আনিসুজ্জামান আনিস, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক ইলতুমিশ সওদাগার আ্যনি, সহসাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সেক্রেটার
দেশের সর্ববৃহৎ বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের ২৩ পদেই নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) রাত ১১ টা নাগাদ নির্বাচন কমিশনার রায়হান মোর্শেদ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ আইনজীবী বলেন, বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন পর্রবর্তীতে অফিশিয়ালি ঘোষণা করবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বারের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, ঢাকা বারের নির্বাচনে নীল প্যানেল সকল পদে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ জোট করে নীল প্যানেলে নির্বাচন করে। অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এনসিপি সবুজ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
বিএনপি জোট থেকে জয়ীরা হলেন, সভাপতি পদে আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, ট্রেজারার আনিসুজ্জামান আনিস, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক ইলতুমিশ সওদাগার আ্যনি, সহসাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সেক্রেটারি খন্দকার মাকসুদুল হাসান, কালচালার সেক্রেটারি মারজিয়া হিরা, অফিস সেক্রেটারি আফজাল হোসেন মৃধা, স্পোর্টস সেক্রেটারি সোহেল খান, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি এ এইচ এম ফিরোজ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম শফিক।
এছাড়া কার্যকরী সদস্য পদে বিএনপি জোট থেকে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভোটের ব্যবধানে ফারজানা ইয়াসমিন প্রথম, নজরুল ইসলাম মামুন দ্বিতীয়, আদনান রহমান তৃতীয় হয়েছেন। নির্বাচিত বিএনপির বাকি সদস্যরা হলেন, এ এইচ এম রেজাউনুল সৈয়দ রোমিও, মামুন মিয়া, আদনান রহমান, নিজামউদ্দিন, সামিউল, মোজাহিদুল ইসলাম সায়েম, শেখ শওকত হোসেন ও সৈয়দ সারোয়ার আলম নিশান।
অন্যদিকে জামায়াত জোট থেকে নির্বাচন করে হেরেছেন, সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি লুতফর রহমান আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, ট্রেজারার আজমত হোসেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন, কালচালার সেক্রেটারি বিলকিস আক্তার, অফিস সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক, স্পোর্টস সেক্রেটারি বাবুল আক্তার বাবু, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি শাহাজাহান মোল্লা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ। সদস্য পদে দিলরুবা আক্তার, জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহম্মেদ,কাইয়ুম হোসেন নয়ন, মহসিন রেজা, ওমর ফারক, শাহ আলম, ইউনূস ও মোশারফ হোসেন।
অপরদিকে, স্বতন্ত্র হিসেবে অনির্বাচিতরা হলেন, সভাপতি পদে ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, ট্রেজারার পদে রফিকুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ার আবুল হোসেন, কালচারাল সেক্রেটারি পদে ওলিদা বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে এদিস বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং, জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ তুলে এক বিজ্ঞপ্তি দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স। তাদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট আলহাজ্ব মো.বোরহান উদ্দিন বলেন,' আমি মনে করিনা নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগের ভিত্তি আছে। কারণ যখনই কেউ মনে করে খেলায় হেরে যাবে , তখনই বলে আজকে খেলার মাঠ ভেজা ছিল। তাই ফুটবল খেলতে পারিনি। শুধু এনসিপি না , যারা ভোট বর্জন করেছে, দেশকে অচলাবস্থায় নিয়ে যেতে চায়, তারাই এসব প্রচারণা চালাচ্ছে।
এরআগে গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিন ব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী। দুই দিনে ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ ভোট দেন নি ৬৬ শতাংশ আইনজীবী।
এদিকে এ নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল। প্যানেল না থাকলেও আওয়ামী সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চাইলে মনোনয়ন নিতে বাঁধার সম্মুখিন হন বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন কয়েকজন আইনজীবী।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। সেবার নির্বাচনে ৪৬ শতাংশ আইনজীবী ভোট দেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। এতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এরপর থেকেই তারা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
What's Your Reaction?