ঢাকায় পানির চাহিদা মেটাতে হবে ৭ কৃত্রিম জলাধার
ঢাকা ও এর আশপাশে সাতটি জলাধার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ২০৫০ সাল পর্যন্ত ঢাকার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চায় সরকার। কৃত্রিম এসব জলাধারে ১৭ হাজার কোটি লিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে। গত ২৬ জুলাই ‘ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের বিষয়ে একনেক সভা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জলাধারগুলো হবে আশুলিয়া, বেলাই বিল, মকস বিল, উত্তরখান, দাশেরকান্দি, কল্যাণপুর ও গোড়ান চাটবাড়িতে। ঢাকা শহরের মানুষের পানির ভবিষ্যৎ চাহিদা নিরূপণ ও তা সমাধানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হবে এসব জলাধারে। কীভাবে পানির পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে অপচয় রোধ করা যায় সে ব্যবস্থা করবে সরকার। কোন জলাধারে কত ব্যয় সাতটি জলাধার নির্মাণে মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে আশুলিয়ায় ১৩ হাজার ১৬৭ কোটি, বেলাই বিলে ৯ হাজার ২৭০, মকস বিলে ৫ হাজার ৫৪৯, উত্তরখানে ২ হাজার ২৮৯, দাশেরকান্দিতে ২ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব ধরা হয়েছে। কল্যাণপুর ও গোড়ান চাটবাড়িতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ তার অধিভুক্ত ঢাকা উত্তর ও ঢাকা
ঢাকা ও এর আশপাশে সাতটি জলাধার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ২০৫০ সাল পর্যন্ত ঢাকার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চায় সরকার। কৃত্রিম এসব জলাধারে ১৭ হাজার কোটি লিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে।
গত ২৬ জুলাই ‘ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের বিষয়ে একনেক সভা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জলাধারগুলো হবে আশুলিয়া, বেলাই বিল, মকস বিল, উত্তরখান, দাশেরকান্দি, কল্যাণপুর ও গোড়ান চাটবাড়িতে।
ঢাকা শহরের মানুষের পানির ভবিষ্যৎ চাহিদা নিরূপণ ও তা সমাধানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হবে এসব জলাধারে। কীভাবে পানির পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে অপচয় রোধ করা যায় সে ব্যবস্থা করবে সরকার।
কোন জলাধারে কত ব্যয়
সাতটি জলাধার নির্মাণে মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে আশুলিয়ায় ১৩ হাজার ১৬৭ কোটি, বেলাই বিলে ৯ হাজার ২৭০, মকস বিলে ৫ হাজার ৫৪৯, উত্তরখানে ২ হাজার ২৮৯, দাশেরকান্দিতে ২ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব ধরা হয়েছে। কল্যাণপুর ও গোড়ান চাটবাড়িতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ তার অধিভুক্ত ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পানি সরবরাহ সেবা দেয়। তবে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের ফলে এসব এলাকায় পানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
কোন সিটিতে পানির চাহিদা কত
বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৩১৩ কোটি লিটার, বিপরীতে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০০ কোটি লিটার। দ্রুত নগরায়ণ ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে ২০৩০ সালে পানির চাহিদা দিনে ৩৩০ কোটি লিটার এবং ২০৫০ সালে দিনে ৫৫০ কোটি লিটার গিয়ে দাঁড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বর্তমানে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৭৭ শতাংশ নির্ভর করে ১ হাজার ৩৮৮টি গভীর নলকূপের ওপর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভূ-উপরিস্থ পানির দিকে কৌশলগত পরিবর্তন এখন আর বিকল্প নয়, অপরিহার্য।
ঢাকা ওয়াসা ইতোমধ্যে মেঘনা ও পদ্মা নদীতে কয়েকটি ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার ঘাটতি পূরণে নতুন সম্পূরক উৎসও চিহ্নিত করতে হবে।
একনেক সভায় উত্থাপিত ওয়াসার প্রতিবেদনে ঢাকা মেট্রোপলিটন ও আশপাশে সাতটি জলাভূমির স্থানের প্রাথমিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো ভূ-উপরিস্থ পানির জলাধার হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রধান নদী, প্রান্তিক নদী ও বৃষ্টির পানি সংগ্রহের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ঢাকায় প্রতিনিয়ত মানুষ বাড়ছে। বর্ধিত মানুষের জন্য বাড়ছে খাবার পানির চাহিদাও। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করার ফলে স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াবো।-পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকায় প্রতিনিয়ত মানুষ বাড়ছে। বর্ধিত মানুষের জন্য বাড়ছে খাবার পানির চাহিদাও। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করার ফলে স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াবো।’
সচিব বলেন, ‘সেই লক্ষ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে সাতটি জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা সার্ভেও করেছি। কীভাবে জলাধারের পানি ব্যবহার করে ঢাকা শহরে খাবার পানির চাহিদা মেটানো যায়। তবে আমাদের এই মেগা উদ্যোগ একেবারেই প্রাথমিকভাবে আছে।’
জলাধারের পানি শুধু খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার হবে না। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সরকারের সমীক্ষায় যা উঠে এসেছে
আশুলিয়া জলাধার (১ হাজার হেক্টর) ও বেলাই বিল জলাধার (২২৫০ হেক্টর) দুটি ঢাকার কাছাকাছি সবচেয়ে উপযোগী ভূ-উপরিস্থ জলাধার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ৪১ কোটি লিটারের বেশি পানি সরবরাহ সম্ভব। মকস বিল (৬৪০ হেক্টর) সরাসরি ঢাকা শহরের জন্য উপযুক্ত না হলেও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য পানি সরবরাহের ভালো সম্ভাবনা রাখে।
উত্তরখান (২৩০ হেক্টর) ও দাশেরকান্দি (২৫৩ হেক্টর) জলাধারের সরবরাহ ক্ষমতা সীমিত এবং রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতে আইনগত বাধার মুখে পড়তে পারে। কল্যাণপুর ও গোড়ান-চাটবাড়ি জলাশয় দুটি চরম মাত্রার দূষণ ও পানির প্রাপ্যতার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি সরবরাহের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে অনুপযুক্ত বলে মূল্যায়িত হয়েছে।
এই সাতটি জলাধারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ঢাকায় পানি সরবরাহ করতে গেলে ওয়াসা সংশ্লিষ্ট আরও কিছু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করবে।
যেমন গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার ফেজ-২ ইনটেক, সঞ্চালন পাইপলাইন ও পরিশোধনাগারের জায়গা এরই মধ্যে ঢাকা ওয়াসা অধিগ্রহণ করেছে। গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার ফেজ-২ চালু করতে হলে জরিপ ও প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন আপডেট করে তারপর ক্রয়াদেশ দিতে হবে।
পদ্মা পানি শোধনাগার ফেজ-২ এর ইনটেক ও পরিশোধনাগারের জায়গা এরই মধ্যে অধিগ্রহণ হয়েছে। এখন সঞ্চালন পাইপলাইনের রুট নির্ধারণ করতে হবে, তারপর রুট বরাবর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এ দুটি প্রকল্প একসঙ্গে এগিয়ে নিলে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও দিনে ৯৫ কোটি লিটার ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ যোগ হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রান্তিক নদীগুলো (তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, টঙ্গী খাল) প্রবাহের দিক থেকে যথেষ্ট হলেও ব্যাপক দূষণের কারণে প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিশোধন সম্ভব নয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না হলে এগুলো সরবরাহ উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনর্ভরণের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি লিটার পানি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এজন্য শহরজুড়ে প্রায় ৮৪ হাজার ৫০০ পুনর্ভরণ ইউনিট বসাতে হবে।
সরকারের অগ্রাধিকারমূলক সুপারিশ
অগ্রাধিকারভিত্তিতে আশুলিয়া ও বেলাই বিল জলাধারের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করতে বলা হয়েছে। প্রান্তিক নদীগুলো পানির উৎস হিসেবে ব্যবহারের পূর্বশর্ত হিসেবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার কৌশল
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতার ঝুঁকি বিবেচনায় ঢাকা ওয়াসা ইতোমধ্যে ভূ-উপরিস্থ পানি পরিশোধন ও সরবরাহের দিকে কৌশলগতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যমান ভূ-উপরিস্থ পানি পরিশোধনের অবকাঠামো বৃহত্তর ঢাকা এলাকাজুড়ে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত আহরণ এখন একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

রেকর্ড তাপমাত্রার মধ্যে ঢাকায় পানির সংকট
সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-১ ও ২ অন্যতম। শীতলক্ষ্যা নদীর সারুলিয়া পয়েন্ট থেকে পানি আহরণ করে দিনে মোট ৪৫ কোটি লিটার উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু সে জায়গায় ভয়াবহ দূষণ বেড়ে যাওয়ায় ইনটেক সোনারগাঁ উপজেলার হাড়িয়ায় মেঘনার ডান তীরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন।
পদ্মা পানি শোধনাগার ফেজ-১: মুন্সিগঞ্জের যশলদিয়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন ৪৫ কোটি লিটার পানি শোধন করে সরবরাহ করা হচ্ছে।
চাঁদনীঘাট ওয়াটার ওয়ার্কস
বুড়িগঙ্গা নদী থেকে পুরান ঢাকায় প্রতিদিন এক থেকে দুই কোটি লিটার পানি সরবাহ হচ্ছে। আরও দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। এর একটি গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার ফেজ-১ (৫০ কোটি লি/দিন) ও মেঘনা নদীর বিশনন্দী নামক পয়েন্ট থেকে পানি উত্তোলন করা হবে। ২০২৭ সালে এটি চালু হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা।
সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩
মেঘনা নদীর হাড়িয়া নামক পয়েন্ট থেকে পানি উত্তোলন করা হবে। ২০৩০ সালে এটি চালু হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা। ২০৩০ সালের মধ্যে সায়েদাবাদের তিনটি ফেজ মিলে মেঘনা থেকে দিনে ঢাকায় ৯০ কোটি লিটার পানি আসবে। তবু ২০৫০ সালের ৫৫০ কোটি লিটারের চাহিদার কথা মাথায় রাখলে এ পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। নতুন উৎস খুঁজে বের করতে হবে।
সমীক্ষার প্রেক্ষাপট
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগ মেট্রোপলিটন ঢাকার আশপাশে জলাভূমি, প্রান্তিক নদী, প্রধান বড় নদী ও বৃষ্টির পানির সব উৎসের সম্ভাবনা যাচাই করতে একটি দ্রুত মূল্যায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এই প্রতিবেদনে সেই মূল্যায়নের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে এবং একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক সুপারিশমালা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক সমীক্ষায় ঢাকা মেট্রোপলিটনের ভেতরে ও আশপাশে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পরিকল্পিত পানি সরবরাহ জলাধারে রূপান্তর করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি স্থানকে পানি ধারণক্ষমতা, পানির গুণগত মান ও সরবরাহ ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আশুলিয়া জলাধার
এক হাজার হেক্টর জমিতে হবে আশুলিয়া জলাধার। যার পানি ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ২৯৪ কোটি লিটার। এখান থেকে দিনে দৈনিক ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হবে।
প্রস্তাবিত আশুলিয়া জলাধার ঢাকার উত্তর-পশ্চিম কোণে, উত্তরা তৃতীয় ফেজের পাশেই অবস্থিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তুরাগ নদীর প্লাবনভূমিতে চারটি আন্তঃসংযুক্ত বেসিন তৈরি করা হবে, যেখানে বর্ষায় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হবে এবং প্রতি বছর অক্টোবর মাসের শুরুতে গেট বন্ধ করে ৪ হাজার ২৯৪ কোটি লিটার পানি ধরে রাখা হবে, যা শুষ্ক মৌসুমের জোগান মেটাবে।
বেলাই বিল জলাধার
২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিজুড়ে তৈরি হবে বেলাই বিল জলাধার। পানি ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৫০ কোটি লিটার, এখান থেকে ২৬ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা হবে।
গাজীপুর জেলায়, ঢাকার উত্তর-পূর্ব সীমানা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে বেলাই বিলের অবস্থান। ভাওয়াল অঞ্চলের খাল ও প্লাবনভূমির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থেকে গড়ে ওঠা এ বিলটি বালু নদীর উৎপত্তিস্থল। বৃহত্তর ঢাকা-গাজীপুর অঞ্চলে যে কয়টি বড় প্লাবন জলাভূমি এখনো টিকে আছে, বেলাই বিল তাদের অন্যতম।
মকস বিল জলাধার
মকস বিলের আয়তন ৬৪০ হেক্টর। ১ হাজার ৭৮১ কোটি লিটার পানি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জলাধারে ৬ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা হবে।
মকস বিল কালিয়াকৈর উপজেলায়, বংশী নদীর পাশে ঢাকা শহরের আব্দুল্লাহপুর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার উত্তরে। মৎস্য চাষ, বন্যার পানি ধারণ, ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ বিলটির গুরুত্ব অনেক।
সবচেয়ে বড় সমস্যা দূরত্ব। ঢাকা থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাইপলাইনে পানি আনতে সঞ্চালন খরচ ও হেড-লস মিলিয়ে ব্যাপারটা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হবে না।
উত্তরখান জলাধার
২৩০ হেক্টর জমিতে উত্তরখান জলাধারে পানি ধারণক্ষমতা ৬৮৮ কোটি লিটার। এখান থেকে ২ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা হবে।
উত্তরখান জলাভূমির অবস্থান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তর-পূর্ব অংশে বালু নদীর প্লাবনভূমিতে। রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় এটিকে প্রধান বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তবে জনস্বার্থে অপরিহার্য অবকাঠামো বিশেষ অনুমোদনে নির্মাণযোগ্য হতে পারে। দৈনিক সরবরাহ সম্ভাবনা মাত্র ২ কোটি লিটার হলেও উত্তর ঢাকার নিকটবর্তিতা একটি সুবিধা।
দাশেরকান্দি জলাধার
২৫৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে দাশেরকান্দি জলাধার। পানি ধারণক্ষমতা ৪৭৮ কোটি লিটার। এখান থেকে দেড় কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা হবে।
পূর্ব ঢাকার দাশেরকান্দি-গজারিয়া, ডেমরা ও খিলগাঁও-সবুজবাগ এলাকায় এ জলাভূমির অবস্থান। এটি বালু নদীর প্লাবনভূমির অংশ বালু নদীর পশ্চিমে ও হাতিরঝিল-রামপুরার দক্ষিণ-পূর্বে।
উত্তরখানের মতো এখানেও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলের বিধিনিষেধ কার্যকর। তবে জনস্বার্থমূলক কাজে বিশেষ অনুমোদনে এটি নির্মাণযোগ্য হতে পারে। সরবরাহ ক্ষমতা (১.৫ কোটি লি/দিন) সীমিত হওয়ায় যে কোনো বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের আগে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আবশ্যক।
কল্যাণপুর পুকুর জলাধার
কল্যাণপুর জলাধারের আয়তন ৭২ হেক্টর। তবে পানি ধারণক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়নি।
কল্যাণপুরের আশপাশের এলাকার রেইনফল ধারণ করে। এই পানির মান এতটাই খারাপ যে কোনো বাস্তবসম্মত পরিশোধন পদ্ধতিতেই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পানির উৎস হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়। পানি সরবরাহের জন্য এ স্থান নিয়ে আর কোনো সমীক্ষার প্রয়োজন প্রতীয়মান হচ্ছে না।
গোড়ন-চাটবাড়ি পুকুর জলাধার
গোড়ান-চাটবাড়ি জলাধারের আয়তন ২৩৫ হেক্টর। এ জলাধারে ২২৫ কোটি লিটার পানি ধারণ করা হবে এবং ঢাকায় সরবরাহ করা হবে ১৩ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি।
গোড়ান-চাটবাড়িতে ২২৫ কোটি লিটার সংরক্ষণের সুযোগ আছে এবং তাত্ত্বিকভাবে ১৩ কোটি লি/দিন সরবরাহও সম্ভব। কিন্তু শুধু বর্ষায়, মাত্র তিন মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর)। এই সীমাবদ্ধতার সঙ্গে ভয়াবহ পানি দূষণ মিলিয়ে স্থানটি পানি সরবরাহের জন্য অনুপযুক্ত। এ স্থানেও আর কোনো সমীক্ষার প্রয়োজন প্রতীয়মান হচ্ছে না।
ঢাকার ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস হলো মেঘনা ও পদ্মা নদী। শুকনো মৌসুমেও দুটি নদীতে পর্যাপ্ত প্রবাহ থাকে এবং ঢাকা ওয়াসার দীর্ঘমেয়াদি পানি সরবরাহ পরিকল্পনার ভিত্তিই এই দুই নদী। এই উৎস থেকে পানি নেওয়া হচ্ছে।
এমওএস/এএসএ/এমএফএ
What's Your Reaction?


