তেঁতুলিয়াতে গড়ে উঠেছে ‘টিউলিপ গ্রাম’

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এখন যেন রূপকথার এক বর্ণিল অধ্যায়। শীতের হিমেল হাওয়া আর কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া মেখে পঞ্চগড়ের দর্জিপাড়া গ্রামে পঞ্চমবারের মতো ফুটতে শুরু করেছে রাজসিক সৌন্দর্যের টিউলিপ। প্রান্তিক নারীদের হাতের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা এ বাগান ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে ‘টিউলিপ গ্রাম’ হিসেবে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর উদ্যোগে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এ ব্যতিক্রমী ‘টিউলিপ প্রজেক্ট’। মূল লক্ষ্য- প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং তেঁতুলিয়াকে ইকো-ট্যুরিজমের নতুন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা। জানা গেছে, নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করা বাল্ব থেকে জানুয়ারির ১০ তারিখে বপন করা চারা ২০-২৫ দিনের মধ্যেই সবুজ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাগানে ফুটতে শুরু করেছে বাহারি রঙের টিউলিপ। এ বছর ১৯ প্রজাতির টিউলিপ চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-অ্যান্টার্কটিকা, ডেনমার্ক, লালিবেলা, ডাচ সূর্যোদয়, স্ট্রং গোল্ড, জান্টুপিঙ্ক, হোয়াইট মার্ভেল, মিস্টিক ভ্যান ইজক, হ্যাপি জেনারেশন ও গোল্ডেন টিকিট। লি

তেঁতুলিয়াতে গড়ে উঠেছে ‘টিউলিপ গ্রাম’

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এখন যেন রূপকথার এক বর্ণিল অধ্যায়। শীতের হিমেল হাওয়া আর কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া মেখে পঞ্চগড়ের দর্জিপাড়া গ্রামে পঞ্চমবারের মতো ফুটতে শুরু করেছে রাজসিক সৌন্দর্যের টিউলিপ। প্রান্তিক নারীদের হাতের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা এ বাগান ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে ‘টিউলিপ গ্রাম’ হিসেবে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর উদ্যোগে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এ ব্যতিক্রমী ‘টিউলিপ প্রজেক্ট’। মূল লক্ষ্য- প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং তেঁতুলিয়াকে ইকো-ট্যুরিজমের নতুন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা।

জানা গেছে, নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করা বাল্ব থেকে জানুয়ারির ১০ তারিখে বপন করা চারা ২০-২৫ দিনের মধ্যেই সবুজ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাগানে ফুটতে শুরু করেছে বাহারি রঙের টিউলিপ। এ বছর ১৯ প্রজাতির টিউলিপ চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-অ্যান্টার্কটিকা, ডেনমার্ক, লালিবেলা, ডাচ সূর্যোদয়, স্ট্রং গোল্ড, জান্টুপিঙ্ক, হোয়াইট মার্ভেল, মিস্টিক ভ্যান ইজক, হ্যাপি জেনারেশন ও গোল্ডেন টিকিট।

লিলিয়াসি পরিবারভুক্ত টিউলিপের বৈজ্ঞানিক নাম টিউলিপা। এটি নেদারল্যান্ডস-এর জাতীয় ফুল হিসেবে পরিচিত। বিশ্বে প্রায় ১৫০টির বেশি প্রজাতির টিউলিপ রয়েছে। পেঁয়াজের মতো দেখতে বাল্ব রোপণের ২০-২২ দিনের মধ্যেই ফুল ফোটে। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক ফুল।

শীতপ্রধান দেশের ফুল হলেও তেঁতুলিয়ার মাটি ও আবহাওয়া টিউলিপ চাষের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে। সাধারণত বসন্তকালীন ফুল হিসেবে পরিচিত টিউলিপ এখানে শীতের শেষ থেকে বসন্তের শুরু পর্যন্ত টিকে থাকে।

দর্জিপাড়ার টিউলিপ বাগানকে ঘিরে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে পর্যটকদের আনাগোনা। মহানন্দা নদীর পাড়ে বনভোজনে আসা দর্শনার্থীরাও ছুটে আসছেন টিউলিপ দেখতে। অনেকে ভালোবাসা দিবস ও জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে সরাসরি বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করছেন।

টিউলিপ চাষি নারী উদ্যোক্তা মোছা. রইসুন আক্তার জানান, প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০টি ফুল বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মৌসুমে প্রত্যেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেছেন। এই আয় তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছে এবং সন্তানদের পড়াশোনায় সহায়তা করছে।

ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তেঁতুলিয়াকে ইকোট্যুরিজমে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রকল্পটি শুধু আর্থিক নয়, সামাজিক পরিবর্তনেরও প্রতীক।

সংস্থাটির পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার বলেন, নারীদের হাতে ফোটা টিউলিপের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। এটি নারীদের সাহস ও সক্ষমতার প্রতিচ্ছবি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, এই ভিনদেশি বাহারি ফুল স্থানীয় পর্যটনে নতুন সংযোগ তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে এটি বড় সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারে।

উল্লেখ্য, সীমান্তের গ্রাম থেকে ‘টিউলিপ গ্রাম’ আজকের দর্জিপাড়া আর শুধু একটি গ্রাম নয়, এটি এখন বাংলাদেশের ‘টিউলিপ গ্রাম’। প্রান্তিক মানুষের শ্রম, নারীর সাহসিকতা আর ভিনদেশি ফুলের মিতালিতে তেঁতুলিয়া যেন হয়ে উঠেছে একখণ্ড নেদারল্যান্ডস। হিমালয়ের পাদদেশে টিউলিপের রঙিন সমারোহ দেখতে চাইলে এখনই হতে পারে সেরা সময়। উত্তরের এই সীমান্ত জনপদ অপেক্ষায় আছে রঙ, সৌরভ আর নতুন সম্ভাবনার গল্প শোনাতে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow