তেলাপোকার কাছে হেরে গেল মোদীর বিজেপি!

তেলাপোকা শব্দ ঘিরে শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন এখন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) মাত্র পাঁচদিনে ইনস্টাগ্রামে এক কোটির বেশি অনুসারী পেয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপির অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই তেলাপোকা আন্দোলন এখন ভারতে তরুণদের ক্ষোভ, ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক আলোচনার নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ককরোচ জনতা পার্টি নামের অ্যাকাউন্টটি এক কোটি অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় তাদের অনুসারীর সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে। আরও পড়ুন>>ভারতে ঝড় তুলেছে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’মাদরাসায়ও গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম’, নির্দেশ বিজেপি সরকারেরপশ্চিমবঙ্গে ‘১৪ বছরের কম বয়সী’ পশু কোরবানি দেওয়া যাবে না অন্যদিকে বিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারী প্রায় ৮৭ লাখ। কংগ্রেসের অনুসারী প্রায় এক কোটি ৩২ লাখ। কীভাবে শুরু তেলাপোকা বিতর্ক গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক উন্মুক্ত

তেলাপোকার কাছে হেরে গেল মোদীর বিজেপি!

তেলাপোকা শব্দ ঘিরে শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন এখন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) মাত্র পাঁচদিনে ইনস্টাগ্রামে এক কোটির বেশি অনুসারী পেয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপির অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই তেলাপোকা আন্দোলন এখন ভারতে তরুণদের ক্ষোভ, ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক আলোচনার নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ককরোচ জনতা পার্টি নামের অ্যাকাউন্টটি এক কোটি অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় তাদের অনুসারীর সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন>>
ভারতে ঝড় তুলেছে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’

মাদরাসায়ও গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম’, নির্দেশ বিজেপি সরকারের
পশ্চিমবঙ্গে ‘১৪ বছরের কম বয়সী’ পশু কোরবানি দেওয়া যাবে না

অন্যদিকে বিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারী প্রায় ৮৭ লাখ। কংগ্রেসের অনুসারী প্রায় এক কোটি ৩২ লাখ।

কীভাবে শুরু তেলাপোকা বিতর্ক

গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক উন্মুক্ত শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশটির যুবসমাজের একটি অংশকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যারা কোনো কর্মসংস্থান পায় না। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা তথ্য অধিকার কর্মী হয়ে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করে।’

প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য ভারতের ‘জেন জি’ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর জবাবে শনিবার অভিজিৎ দিপকে এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে চলে আসে, তবে কী হবে?’ এর পরদিনই তিনি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন।

শুরুতে এটি মিমভিত্তিক প্রচারণা হিসেবে দেখা হলেও দ্রুত তা বড় ডিজিটাল আন্দোলনে পরিণত হয়। অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘যিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করবেন, তার কাছ থেকে এমন তুলনা মানুষকে বেশি আঘাত করেছে।’

তবে পরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তার দাবি, তিনি তরুণদের নয়, ভুয়া সনদ ব্যবহারকারীদের সমালোচনা করেছিলেন।

হেরে গেল মোদীর বিজেপি

সিজেপির উত্থান এখন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এটি মোদীর বিজেপির তুলনায় দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মাত্র ৫৬টি পোস্ট দিয়ে এক কোটি অনুসারী পেয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। বিপরীতে বিজেপি দীর্ঘ সময় ধরে ১৮ হাজারের বেশি পোস্ট প্রকাশ করেছে।

সিজেপির একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘তরুণদের শক্তিকে ছোট করে দেখবেন না।’

আরেকটি পোস্টে ব্যঙ্গ করে বলা হয়, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় দল—এটাই বলা হয়েছিল।’

এই তেলাপোকা আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন বেশ কয়েকজন রাজনীতিক ও আলোচিত ব্যক্তি। তাদের মধ্যে আছেন মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, প্রশান্ত ভূষণসহ কয়েকজন।

প্রশান্ত ভূষণ বলেন, সিজেপির জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে নিট প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করা উচিত।

ভারতের অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আমলা আশিস জোশী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘গত এক দশকে দেশে তীব্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভারত এখন এতটাই ঘৃণায় পূর্ণ যে, এই দলটিকে মুক্ত বাতাসের ঝাপটা মনে হচ্ছে।’

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow