থ্যালাসেমিয়ার ভয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করা যাবে কি

সন্তান প্রতিটি দম্পতির কাছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অমূল্য নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ উপহার। একটি সুস্থ-সুন্দর ফুটফুটে সন্তানের স্বপ্ন বুনেই প্রতিটি বাবা-মা আগামীর দিনগুলো সাজান। কিন্তু বর্তমান সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে থ্যালাসেমিয়ার মতো কিছু বংশগত রোগ আমাদের সমাজে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন জানা যায় যে, স্বামী এবং স্ত্রী উভয়েই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বা এই রোগের বাহক, তখন অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা। চিকিৎসকদের মতে, এমন দম্পতির অনাগত সন্তানের এই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত একটি শিশুর সারা জীবনের অবর্ণনীয় কষ্ট, বারবার রক্ত নেওয়া এবং বাবা-মায়ের অন্তহীন ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অনেক পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক দম্পতির মনে এক বড় প্রশ্ন ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, ‘অনাগত সন্তানের অসীম কষ্টের কথা বিবেচনা করে কি গর্ভপাত করা সম্ভব? ইসলামি শরিয়াহ কি এমন বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ছাড় দেয়, নাকি এটি কোনোভাবেই বৈধ নয়?’ এই সংবেদনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়টি নিয়ে ইসলামের সুষ্পষ্ট দিকনি

থ্যালাসেমিয়ার ভয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করা যাবে কি

সন্তান প্রতিটি দম্পতির কাছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অমূল্য নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ উপহার। একটি সুস্থ-সুন্দর ফুটফুটে সন্তানের স্বপ্ন বুনেই প্রতিটি বাবা-মা আগামীর দিনগুলো সাজান। কিন্তু বর্তমান সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে থ্যালাসেমিয়ার মতো কিছু বংশগত রোগ আমাদের সমাজে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন জানা যায় যে, স্বামী এবং স্ত্রী উভয়েই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বা এই রোগের বাহক, তখন অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা।

চিকিৎসকদের মতে, এমন দম্পতির অনাগত সন্তানের এই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত একটি শিশুর সারা জীবনের অবর্ণনীয় কষ্ট, বারবার রক্ত নেওয়া এবং বাবা-মায়ের অন্তহীন ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অনেক পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক দম্পতির মনে এক বড় প্রশ্ন ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, ‘অনাগত সন্তানের অসীম কষ্টের কথা বিবেচনা করে কি গর্ভপাত করা সম্ভব? ইসলামি শরিয়াহ কি এমন বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ছাড় দেয়, নাকি এটি কোনোভাবেই বৈধ নয়?’ এই সংবেদনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়টি নিয়ে ইসলামের সুষ্পষ্ট দিকনির্দেশনা জানা এখন সময়ের দাবি।

নিছক আশঙ্কার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নয়

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কেবল সন্দেহ বা সাধারণ আশঙ্কার ভিত্তিতে গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করা বা ফেলে দেওয়া জায়েজ নয়। সন্তান মহান আল্লাহর দান, তাই কেবল অনাগত ভবিষ্যতের ভয়ে কোনো প্রাণ নাশ করা সমর্থনযোগ্য নয়।

কখন এবং কোন শর্তে অনুমতি থাকতে পারে?

শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, যদি বিষয়টি কেবল সন্দেহ না হয়ে বরং চিকিৎসাগতভাবে প্রমাণিত হয় এবং প্রবল আশঙ্কা থাকে যে, সন্তানটি থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মাবে, তবে কিছু বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে মূল বিষয়গুলো হলো:

  • ভয়াবহ কষ্টের আশঙ্কা: যদি এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, সন্তানটি জন্ম নিলে সে নিজে চরম ভোগান্তির শিকার হবে এবং তার লালন-পালন বাবা-মায়ের জন্য স্থায়ী ও বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে ।
  • সময়ের সীমাবদ্ধতা: গর্ভস্থ সন্তানের বয়স যদি খুব অল্প হয় (যেমন ৪৫ দিন), যখনও শরীরে হার্টবিট আসেনি বা রুহ (প্রাণ) সঞ্চার হয়নি, তবেই কেবল বিশেষ প্রয়োজনে এটি বিবেচনার সুযোগ থাকে।

কঠিন শর্ত

মনে রাখতে হবে, এটি সাধারণ কোনো অনুমতি নয়; বরং অত্যন্ত কঠিন শর্ত সাপেক্ষে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুনিশ্চিত মতামতের ভিত্তিতেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow