দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ইনভেস্ট বিল পাস

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট, শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনে অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত করার লক্ষ্যে সংসদে কণ্ঠ ভোটে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ বিল পাস হয়েছে। এরই মধ্যে এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ ও সমন্বিত করতে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন এ আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রম সমন্বিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে গত ৯ জুলাই এ অনুমোদন দেওয়া হয়। আরও পড়ুন অমুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্তে কাজ করছে বিশেষজ্ঞ কমিটি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ইনভেস্ট বিল পাস

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট, শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনে অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত করার লক্ষ্যে সংসদে কণ্ঠ ভোটে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ বিল পাস হয়েছে। এরই মধ্যে এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ ও সমন্বিত করতে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

নতুন এ আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রম সমন্বিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে গত ৯ জুলাই এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এতে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার মনে করে, নতুন আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান নীতিগত অসামঞ্জস্যতা কমবে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের দ্বৈততা দূর হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে। আইনটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলসহ ঘোষিত শিল্পাঞ্চলকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ, লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রদানের পদ্ধতি এবং সময়সীমা নির্ধারণ, ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে সহজ অনুমোদনের ব্যবস্থা এবং অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ।

এছাড়া বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে। বিলে দেখা গেছে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিতকরণ, দেশে ও বিদেশে প্রচার ও প্রসার, বিনিয়োগ উন্নয়নে নিয়োজিত দেশি, বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় সাধন; দেশি ও বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ বিকাশের জন্য আর্থিক ও অ-আর্থিক সুযোগ, সুবিধা ও প্রণোদনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা, গাইডলাইন, নির্দেশিকা, আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি প্রণয়ন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ, সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা। দেশি-বিদেশি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগ উদ্যোগের অনুমোদন; শিল্প-বিনিয়োগ পুঁজি গঠন ও ব্যাংক খাতের বিনিয়োগ সহজলভ্য করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বা সুপারিশ দেওয়া, পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প শক্তিশালীকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। শিল্প, শাখা অফিস, লিয়াজোঁ অফিস, প্রতিনিধি অফিস, প্রকল্প অফিস, বায়িং হাউসসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সমজাতীয় অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় বিদেশি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, কর্মচারী বা পরামর্শক নিয়োগের শর্তাবলি, কার্যপরিধি নির্ধারণ করা। এছাড়া, ভিসা সুপারিশ ও কর্মানুমতি প্রদান এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর, পর্যায়ক্রমিক স্থানীয় উৎপাদন, কারিগরি উত্তম চর্চা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

এমওএস/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow