দেড় মাসের শিশুর এক রাতের কারাবাস

মায়ের জামিন হলেও এক রাতের জন্য কারাগারেই যেতে হলো যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের দেড় মাসের কন্যাশিশুকে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে শিল্পীর জামিন হলেও মেয়েসহ তিনি ছাড়া পাবেন বুধবার সকালে। এ বিষয়ে আসামি শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি কালবেলাকে বলেন, যেখানে মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামি শিল্পীর সম্পৃক্ততাই নেই, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় শিল্পীর বাবা-মায়ের পরিচয় নেই, ঠিকানা নেই। আন্দোলন হয়েছে রাস্তায়। কিন্তু বাড়ি লুটপাট চুরির মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে শিল্পীকে। আইনজীবী আরও বলেন, মায়ের বিরুদ্ধে এরুপ মিথ্যা মামলায় দেড় মাসের শিশুকর (কাইফা ইসলাম সিমরান) এক রাতের জন্য হলেও হাজতবাস খাটতে হচ্ছে। এটা ইতিহাসের বিরুপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। একই সাথে শিশু মানবধিকারের চরম লঙ্ঘও। আইনজীবী বলেন, আমাদের প্রত্যাশা যেহেতু জামিন হয়েছে। কাল বুধবার মা-শিশু সুস্থ্যভাবে কারামুক্ত হবেন। আর কোনো শিশুকে যেন মায়ের সাথে কারাগারে যেতে না হয়। এর আগে এদিন দুপুর ২টার দিকে তাকে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলা

দেড় মাসের শিশুর এক রাতের কারাবাস

মায়ের জামিন হলেও এক রাতের জন্য কারাগারেই যেতে হলো যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের দেড় মাসের কন্যাশিশুকে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে শিল্পীর জামিন হলেও মেয়েসহ তিনি ছাড়া পাবেন বুধবার সকালে।

এ বিষয়ে আসামি শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি কালবেলাকে বলেন, যেখানে মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামি শিল্পীর সম্পৃক্ততাই নেই, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় শিল্পীর বাবা-মায়ের পরিচয় নেই, ঠিকানা নেই। আন্দোলন হয়েছে রাস্তায়। কিন্তু বাড়ি লুটপাট চুরির মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে শিল্পীকে।

আইনজীবী আরও বলেন, মায়ের বিরুদ্ধে এরুপ মিথ্যা মামলায় দেড় মাসের শিশুকর (কাইফা ইসলাম সিমরান) এক রাতের জন্য হলেও হাজতবাস খাটতে হচ্ছে। এটা ইতিহাসের বিরুপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। একই সাথে শিশু মানবধিকারের চরম লঙ্ঘও।

আইনজীবী বলেন, আমাদের প্রত্যাশা যেহেতু জামিন হয়েছে। কাল বুধবার মা-শিশু সুস্থ্যভাবে কারামুক্ত হবেন। আর কোনো শিশুকে যেন মায়ের সাথে কারাগারে যেতে না হয়।

এর আগে এদিন দুপুর ২টার দিকে তাকে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন।

এ সময় তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে বলেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যা সন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে বিকেল ৩ টার দিকে আদালত আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে আদালত থেকে বের করা হয়। এ সময় আদালতের চতুর্থ তলায় কাঁদতে থাকেন তিনি। পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সী একটা বাচ্চা। এ সময় আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসিয়ে সেই বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান ওই মা। পরে ওই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় তিনি কাঁদতে থাকেন। যুবলীগ নেত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’ এরপর মায়ের সাথে শিশুকে প্রিজন ভ্যানে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এরপর রাত ৭ টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান আসামি শিল্পীর ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের আক্রমণ করেন। পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাতপরিচয় ১২০-১৩০ জন আসামি দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালান। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আসামি শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর পিতা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow