ধর্ষণ মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে চলেছেন আশরাফ হাকিমি
মরক্কোর তারকা ফুটবলার ও প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হতে চলেছে। ফ্রান্সের ভার্সাই আপিল আদালতের তদন্ত বিভাগ হাকিমির আপিল খারিজ করে দিয়েছে। ফলে তাকে হো-দ্য-সেন বিভাগের ফৌজদারি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। মামলাটির সূত্রপাত ২০২৩ সালে। এক তরুণী অভিযোগ করেন, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয়ের পর হাকিমি তাকে নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তার সম্মতি ছাড়া শারীরিক স্পর্শ করেন এবং পরে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। শুনানি চলাকালে ওই তরুণী বলেন, ‘সে পশুর মতো আচরণ করেছিল। কোনো ধরনের কোমলতা দেখায়নি এবং মনে হচ্ছিল সে যেকোনোভাবেই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।’ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আদালতের এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাকিমির আইনজীবী ফ্যানি কলিন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগকারীর বক্তব্যের অসঙ্গতি ও মিথ্যা তথ্য, বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা, সত্য উদঘাটনের পথে বাধা সৃষ্টি করা, এমনকি তার মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নেও ঘটনাগুলো সম্পর্কে দ্বিধা ও অস্পষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে;
মরক্কোর তারকা ফুটবলার ও প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হতে চলেছে। ফ্রান্সের ভার্সাই আপিল আদালতের তদন্ত বিভাগ হাকিমির আপিল খারিজ করে দিয়েছে। ফলে তাকে হো-দ্য-সেন বিভাগের ফৌজদারি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
মামলাটির সূত্রপাত ২০২৩ সালে। এক তরুণী অভিযোগ করেন, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয়ের পর হাকিমি তাকে নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তার সম্মতি ছাড়া শারীরিক স্পর্শ করেন এবং পরে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
শুনানি চলাকালে ওই তরুণী বলেন, ‘সে পশুর মতো আচরণ করেছিল। কোনো ধরনের কোমলতা দেখায়নি এবং মনে হচ্ছিল সে যেকোনোভাবেই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।’
আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আদালতের এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাকিমির আইনজীবী ফ্যানি কলিন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগকারীর বক্তব্যের অসঙ্গতি ও মিথ্যা তথ্য, বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা, সত্য উদঘাটনের পথে বাধা সৃষ্টি করা, এমনকি তার মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নেও ঘটনাগুলো সম্পর্কে দ্বিধা ও অস্পষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে; কিন্তু এসব কিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’
বর্তমানে বিশ্বকাপে মরক্কো দলের সঙ্গে থাকা হাকিমি আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা পোস্ট করেন। বোস্টনে তখন রাত ৩টা পেরিয়ে গেলেও তিনি নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেননি। আজ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ম্যাচেও মাঠে নামার কথা রয়েছে তার।
এক্স (টুইটার)-এ নিজের বার্তায় হাকিমি লিখেছেন, ‘বিচারব্যবস্থা আমাকে বলেছে, আমি যদি বিখ্যাত কোনো ব্যক্তি না হতাম, তাহলে কখনোই এই মামলা হতো না। আমি বছরের পর বছর নীরব থেকেছি। ভেবেছিলাম মর্যাদা বজায় রাখা, ধৈর্য ধরা এবং বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখলেই সত্য সামনে আসবে।’
অন্যদিকে অভিযোগকারী নারীর আইনজীবী র্যাচেল-ফ্লোর পারদো আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াই, মানহানি এবং বিভিন্ন চাপের পর এই সিদ্ধান্ত আমার মক্কেলের জন্য স্বস্তি ও আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। বিচারব্যবস্থা তার কথা শুনেছে এবং তিনি ন্যায়বিচারের সুযোগ পেয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিচার অন্য নারীদেরও সাহস জোগাবে এবং পুরুষদের ফুটবলের জগতেও যৌন সহিংসতাকে ঘিরে থাকা অস্বীকার ও দায়মুক্তির যে প্রাচীর গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।’
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত হাকিমির দোষী বা নির্দোষ হওয়ার চূড়ান্ত রায় নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
এমএআর/আইএইচএস
What's Your Reaction?