নষ্ট সুপারিতে কৃষকের ভাগ্য বদল

নষ্ট বা পচে যাওয়া সুপারি একসময় কৃষকের কোনো কাজে আসত না। পোকায় খাওয়া, ঝরেপড়া নষ্ট সুপারি আগে ফেলে দেওয়া হলেও, তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করা হচ্ছে; যা কৃষকদের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।  কুড়িগ্রামের রাজারহাটে নষ্ট সুপারি সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এতে যেমন কৃষিপণ্যের অপচয় কমছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে পচা বা ঝরেপড়া সুপারি ফেলে দেওয়া হলেও বর্তমানে সেগুলো সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি নষ্ট সুপারি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় মৌসুম শেষে অতিরিক্ত আয় করছেন তারা। একজন কৃষক বলেন, আগে নষ্ট সুপারি ফেলে দিতাম। এখন আলাদা করে সংরক্ষণের পর বিক্রি করি। প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দাম পাই। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে নষ্ট সুপারি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হয়। এসব সুপারি রং,কয়েলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া প্

নষ্ট সুপারিতে কৃষকের ভাগ্য বদল

নষ্ট বা পচে যাওয়া সুপারি একসময় কৃষকের কোনো কাজে আসত না। পোকায় খাওয়া, ঝরেপড়া নষ্ট সুপারি আগে ফেলে দেওয়া হলেও, তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করা হচ্ছে; যা কৃষকদের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে নষ্ট সুপারি সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এতে যেমন কৃষিপণ্যের অপচয় কমছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে পচা বা ঝরেপড়া সুপারি ফেলে দেওয়া হলেও বর্তমানে সেগুলো সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি নষ্ট সুপারি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় মৌসুম শেষে অতিরিক্ত আয় করছেন তারা। একজন কৃষক বলেন, আগে নষ্ট সুপারি ফেলে দিতাম। এখন আলাদা করে সংরক্ষণের পর বিক্রি করি। প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দাম পাই। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে নষ্ট সুপারি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হয়। এসব সুপারি রং,কয়েলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া প্রতিবেশী ভারতেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ী সুজন মিয়া বলেন, প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ টন নষ্ট সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলা ও ভারতে পাঠাই। এতে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হয়। কৃষকরাও ভালো দাম পাচ্ছেন।

এই ব্যবসাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। নষ্ট সুপারি বাছাই, পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে শতাধিক নারী-পুরুষ কাজ করছেন। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি পেয়ে তারা পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করছেন। 

শ্রমিক ফুলমালা বলেন, দিনে পাঁচ থেকে সাতশ টাকা মজুরি পাই। এই আয় দিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষিপণ্যের প্রতিটি অংশের অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের লাভ যেমন বাড়বে, তেমনি কমবে অপচয়। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আফরিন বলেন, নষ্ট সুপারি সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ কৃষকের আয় বাড়াচ্ছে, অপচয় কমাচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিপণ্যের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এ উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষকদের বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে এ খাত আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow