নারায়ণগঞ্জে ৭০০ কোটি টাকার কোরবানির পশু বিক্রির টার্গেট
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে কোরবানির পশুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলার বিভিন্ন খামারে এখন চলছে গরু-ছাগলের পরিচর্যা, হৃষ্টপুষ্টকরণ ও বিক্রির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ বছর নারায়ণগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৪টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ১০ হাজার ৭০৭টি পশু। জেলার ৫টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৬ হাজার ৫৩৭টি খামারে কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক খামারেই বিক্রি শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের সুবিধার জন্য অনেক খামারি অগ্রিম বুকিংয়ের পাশাপাশি ঈদের আগে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও চালু করেছেন। ফলে হাটের ভিড় ও ঝামেলা এড়িয়ে সরাসরি খামার থেকেই পশু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকেই। এবারের কোরবানির পশুর বাজারে আরেকটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে বাহারি নামের গরু ও মহিষ। বিভিন্ন খামারে পশুর আকার, গঠন কিংবা চেহারার সঙ্গে মিল রেখে রাখা হয়েছে নানা আলোচিত ব্যক্তির নাম। এরমধ্যে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, ‘নরেন্দ্র মোদি’ ও ‘নেতানিয়াহু’ নামের গরু ও মহিষ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে কোরবানির পশুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলার বিভিন্ন খামারে এখন চলছে গরু-ছাগলের পরিচর্যা, হৃষ্টপুষ্টকরণ ও বিক্রির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ বছর নারায়ণগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৪টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ১০ হাজার ৭০৭টি পশু।
জেলার ৫টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৬ হাজার ৫৩৭টি খামারে কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক খামারেই বিক্রি শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের সুবিধার জন্য অনেক খামারি অগ্রিম বুকিংয়ের পাশাপাশি ঈদের আগে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও চালু করেছেন। ফলে হাটের ভিড় ও ঝামেলা এড়িয়ে সরাসরি খামার থেকেই পশু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকেই।
এবারের কোরবানির পশুর বাজারে আরেকটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে বাহারি নামের গরু ও মহিষ। বিভিন্ন খামারে পশুর আকার, গঠন কিংবা চেহারার সঙ্গে মিল রেখে রাখা হয়েছে নানা আলোচিত ব্যক্তির নাম। এরমধ্যে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, ‘নরেন্দ্র মোদি’ ও ‘নেতানিয়াহু’ নামের গরু ও মহিষ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অনেক দর্শনার্থী শুধু এসব পশু এক নজর দেখতে খামারে ভিড় করছেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ৬১ হাজার ৮৯৯টি ষাঁড়, ১৯ হাজার ৭৪৩টি গাভি, ৬ হাজার ৪৮৬টি বলদ, ২ হাজার ৮৪১টি মহিষ, ১৭ হাজার ১৭২টি ছাগল, ৫ হাজার ৪৯৩টি ভেড়া এবং অন্যান্য ১২৭টি পশু।
বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, এখন থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কেউ মাঝারি আকারের গরু খুঁজছেন, আবার কেউ বড় আকৃতির পশুর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
অনেকেই বলছেন, খামার থেকে সরাসরি পশু কিনলে প্রতারণার ঝুঁকি কম থাকে এবং পশুর পরিচর্যা সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়।
মাহবুব হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, খামারে এসে গরু দেখা হচ্ছে। সুস্থ ও দেশীয় গরু কিনতে চাই। খামার থেকে কিনলে পশুর খাবার ও পরিচর্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
সুমাইয়া আক্তার নামের অন্য এক ক্রেতা বলেন, ‘হাটের তুলনায় খামারে পরিবেশ ভালো। পরিবারের সবাই নিয়ে এসে পছন্দ করে গরু কিনতে পারছি। বাহারি নামের গরুগুলো দেখতে বাচ্চারাও অনেক আগ্রহ দেখাচ্ছে।’
খামারিদেরও ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। আর কে এগ্রোর ব্যবস্থাপক নাজির হোসেন জানান, তাদের খামারের পশুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পশুকে কোনো ক্ষতিকর উপাদান দেই না। সব ধরনের খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে খাওয়ানো হয়। সম্পূর্ণ হালাল ও নিরাপদ খাবার খেয়ে পশুগুলো বড় হয়েছে।
এদিকে কোরবানির পশুর হাট ও খামারগুলোকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ মনিটরিং টিম। হাটগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের মোতায়েনের পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি ও মোবাইল টিমও কাজ করবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, ‘এ বছর চাহিদার তুলনায় দেশীয় পশুর সরবরাহ বেশি রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে আরও পশু আসবে। ফলে ক্রেতারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী পশু কিনতে পারবেন।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ‘পশুর হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি থাকবে। হাটকেন্দ্রিক যানজট, চুরি, ছিনতাই কিংবা জাল টাকার প্রতারণা ঠেকাতে বিশেষ টিম কাজ করবে। এছাড়া অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবীর বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাট ও খামারগুলোতে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা ভেজাল পশু বিক্রির ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চাহিদা ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবার নারায়ণগঞ্জে কোরবানির পশু বিক্রির বাজার প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
What's Your Reaction?