আফগানিস্তানে গোপনে পরিচালিত নারীদের সব বিউটি পার্লার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার। এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, দেশের যেসব পার্লার এখনো লুকিয়ে চালু রয়েছে, সেগুলো এক মাসের মধ্যে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় এসব পার্লারের মালিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালেবানদের দাবি, নারীদের জন্য বিউটি পার্লার ইসলামী শরিয়াহবিরোধী, তাই এগুলো কোনোভাবেই চালু থাকতে দেওয়া যাবে না। ফলে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে যেসব নারী গোপনে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন, তারা এখন নতুন করে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
তালেবান সরকার ২০২৩ সালে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সব বিউটি পার্লার বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় ১২ হাজার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় এবং চাকরি হারান অন্তত ৫০ হাজার নারী। তবুও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভেতরে লুকিয়ে কিছু পার্লার চালু ছিল। এবার সেই রুপচর্চা কেন্দ্রগুলো বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তালেবান।
দেশটির কমিউনিটি নেতা ও স্থানীয় প্রবীণদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন গোপন বিউটি পার্লারের খোঁজ দিয়ে মালিকদের পুলিশের হাতে তুলে দেন।
৩৮ বছর বয়সী এক নারী, ফ্রেশতা (ছদ্মনাম), জানান—২০২৩ সালে পার্লার বন্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি লুকিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। কারণ সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন তিনি। তার স্বামী অসুস্থ, আর তিন সন্তানের ভরণপোষণ করতে হয় তাকে।
তিনি বলেন, যখনই কোনো নারী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সৌন্দর্য দেখে হাসতেন, তার আনন্দ আমার আনন্দ হয়ে যেত। শুধু টাকার জন্য নয়, নিজের কাজের জন্যও আমি খুশি হতাম। কিন্তু এখন ঝুঁকি এত বেশি যে হয়তো আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি আর কোনো কাজ জানি না, অথচ আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। এই পৃথিবীতে আমাদের আর্তনাদ শোনার কেউ নেই।
২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই নারীদের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করছে তালেবান। অধিকাংশ নারীরা চাকরি থেকে বাদ পড়েছেন, মেয়েদের মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, তালেবান কার্যত নারীদের বিরুদ্ধে এক ধরনের “লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদ” চালু করেছে। নারীরা এখন পার্কে হাঁটতে পারেন না, জিম বা সেলুনে যেতে পারেন না, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন না। এমনকি তাদের বাইরে বের হলে পুরো শরীর ঢেকে রাখতে হয় এবং জনসমক্ষে তাদের কণ্ঠস্বরও শোনা যায় না।