নিত্য নতুন খাবারের সমাহারে পাবনায় জমজমাট ইফতার বাজার
একসময় মফস্বল শহরে ইফতার মানেই ছিল ঘরোয়া আয়োজন। উত্তরের জেলা পাবনায় ইফতারে ঐতিহ্য মেনে বাড়িতে তৈরি হতো ছোলা, বেগুনি, পেঁয়াজু, পাঁপড় ভাজা ও শরবত। এর সঙ্গে যুক্ত হতো বাইরের খেজুর, ফুটপাত ও রেস্তোরাঁগুলো থেকে অনেকে নিতেন জিলাপি। কেবল পথচারীদের জন্য সীমিত পরিসরে কিছু ইফতার সামগ্রী বিক্রি হতো হোটেল রেস্তোরাঁয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা বা বড় শহরগুলোর মতো মফস্বল জেলাগুলোতেও বদলেছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও রুচি। এখন ঘরের ইফতারের সঙ্গে বাইরের দোকানের ইফতার সামগ্রীর ওপর ঝোঁক বাড়ছে মানুষের। পাবনায়ও গড়ে উঠেছে ইফতারের বিশাল বাজার। রেস্তোরাঁ মালিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে পাবনায় ভোক্তাদের চাহিদায় পরিসর বেড়েছে ইফতার বাজারের। গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী রেস্তোরাঁগুলোও তৈরি করছে ইফতারের দেশি-বিদেশি বাহারি নানা পদ। তাতে সাড়াও মিলছে ব্যাপক। একসময় রমজানে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যবসায়িক মন্দার কাল বিবেচনা করা হলেও এখন আর তা নেই। ইফতার বাজার পাবনা হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে ভালো ব্যবসা হচ্ছে। পাবনার অভিজাত রেস্তোরাঁ খাবারবাড়ী, কাশমেরী, বনলতা, প্যারাডাইস, রাজ বিরিয়ানি হাউজ, প্রেসিডেন্ট কাচ্চি, ও র
একসময় মফস্বল শহরে ইফতার মানেই ছিল ঘরোয়া আয়োজন। উত্তরের জেলা পাবনায় ইফতারে ঐতিহ্য মেনে বাড়িতে তৈরি হতো ছোলা, বেগুনি, পেঁয়াজু, পাঁপড় ভাজা ও শরবত। এর সঙ্গে যুক্ত হতো বাইরের খেজুর, ফুটপাত ও রেস্তোরাঁগুলো থেকে অনেকে নিতেন জিলাপি। কেবল পথচারীদের জন্য সীমিত পরিসরে কিছু ইফতার সামগ্রী বিক্রি হতো হোটেল রেস্তোরাঁয়।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা বা বড় শহরগুলোর মতো মফস্বল জেলাগুলোতেও বদলেছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও রুচি। এখন ঘরের ইফতারের সঙ্গে বাইরের দোকানের ইফতার সামগ্রীর ওপর ঝোঁক বাড়ছে মানুষের। পাবনায়ও গড়ে উঠেছে ইফতারের বিশাল বাজার।
রেস্তোরাঁ মালিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে পাবনায় ভোক্তাদের চাহিদায় পরিসর বেড়েছে ইফতার বাজারের। গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী রেস্তোরাঁগুলোও তৈরি করছে ইফতারের দেশি-বিদেশি বাহারি নানা পদ। তাতে সাড়াও মিলছে ব্যাপক। একসময় রমজানে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যবসায়িক মন্দার কাল বিবেচনা করা হলেও এখন আর তা নেই। ইফতার বাজার পাবনা হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে ভালো ব্যবসা হচ্ছে।
পাবনার অভিজাত রেস্তোরাঁ খাবারবাড়ী, কাশমেরী, বনলতা, প্যারাডাইস, রাজ বিরিয়ানি হাউজ, প্রেসিডেন্ট কাচ্চি, ও রূপকথার কাব্য রমজানের ইফতারে নানা বৈচিত্রময় ও সুস্বাদু পদের সমাহার সাজিয়েছে। এসব দোকানে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে গ্রাহকের উপচে পড়া ভিড়।
খাবারবাড়ী রেস্তোরাঁয় চিকেন সাসলিক, চিকেন ফ্রাই, কাবাবের নানা পদের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে গরু ও খাসির হালিম। এছাড়া চাইনিজ বিভিন্ন আইটেম নিয়েও সাড়া ফেলেছে এই রেস্তোরাঁ। কাশমেরী রেস্তোরাঁ, চিকেন অঙ্গার, বিফ কাবাব, জালি কাবাব, হায়দারাবাদি বিরিয়ানির মতো তাদের সুখ্যাত আইটেমগুলোর পাশাপাশি এবারই প্রথম নিয়ে এসেছে স্পেশাল বাকলাবা। মিষ্টি জাতীয় এ খাবারটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ভোক্তাদের মাঝে।
খাসির লেগ রোস্ট, জিলাপির নানা পদ ও হালিমে ক্রেতাদের সুখ্যাতি পেয়েছে বনলতা ও প্যারাডাইস সুইটস। সৌদি আরবের প্রখ্যাত খাবার চিকেন খাবসা নিয়ে বাজারে সাড়া ফেলেছে প্রেসিডেন্ট কাচ্চি। এছাড়া এখানে মিলছে কাচ্চি বিরিয়ানি, মোরগ পোলাও ও মজাদার বিফ তেহারিসহ অন্তত ৪০ পদের খাবার। রাজ বিরিয়ানি হাউজে মিলছে মধ্যবিত্তের জন্য কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যের হালিম। রূপকথার কাব্যে পাওয়া যাচ্ছে সাড়া জাগানো তুলুম্বা ও বড় বাপের পোলায় খায়।
পাবনার স্বনামধন্য মিষ্টি বিপণি প্যারাডাইস সুইটসে পাওয়া যাচ্ছে নানা পদের জিলাপি ও তেহারি। এই রেস্তোরাঁর পরিচালক শোয়েব ইকবাল বলেন, পাবনায় গত কয়েক বছরে ইফতারের বাজারের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। রেস্তোরাঁগুলোও নিত্য নতুন স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু খাবার স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। রমজানের প্রতি সম্মান রেখে আমরা মুনাফা নয়, গ্রাহক সন্তুষ্টিকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। সাড়াও মিলছে ভালো।
এদিকে ইফতারের খাবারের মান যাচাইয়ে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির পাবনার সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, পাবনায় রেস্তোরাঁগুলোর ইফতারে গ্রাহক চাহিদা বেড়েছে। এই চাহিদাকে পুঁজি করে কোনো কোনো অসাধু ব্যবসায়ী জিলাপিতে ক্ষতিকর হাইড্রোজ, রং মিশিয়ে বিক্রির চেষ্টা করছিল। আমরা হাতেনাতে ধরে জরিমানা ও সতর্ক করেছি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রোজাদাররা যেন সঠিক মূল্যে মানসম্মত ইফতার সামগ্রী পান তা নিশ্চিতে আমরা সজাগ দৃষ্টি রেখেছি।
আলমগীর হোসাইন নাবিল/এমএন/এএসএম
What's Your Reaction?