নেশার আগুনে পুড়ছে টাকা
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান এলাকার মুদি দোকানি শরীফুল। কপাল কুঁচকে দোকানে বসে ১০০ টাকার একটি নোট হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। কাস্টমার দাঁড়িয়ে থাকলেও যেন নজর নেই। পরে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শরীফুল বলেন, ‘নেওয়ার সময় খেয়াল করে উঠতে পারিনি। নোটটার কোণা পোড়া। কেউ নিতে চায় না, আবার ফেলে দেওয়ারও উপায় নেই। এমন টাকা মাঝে মধ্যেই পাচ্ছি।’ টাকা পুড়ছে কীভাবে? কারা পোড়ায়? পোড়া টাকা অচল হয়ে যেতে পারে জেনেও কেন এই পথ বেছে নেয়? বাজারে কেন বাড়ছে পোড়া নোট? এসব বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানে নামে জাগো নিউজ। অনুসন্ধানে জানা যায়, নেশার আগুনে প্রতিদিন পুড়ছে টাকা। ইয়াবাসেবীরা ইয়াবার ধোঁয়া টানার জন্য ব্যবহার করে নতুন ও শক্ত কাগুজে নোট। এই নোট পেঁচিয়ে রোল করে ধোঁয়া টানার সময় অসাবধানতাবশত কোণায় আগুন লেগে যায়। আর তাতেই পুড়ছে জাতীয় মুদ্রা। এই নেশার আগুন সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, নতুন নোট ছাপানোর পেছনে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে রাষ্ট্রের। নেশার ধোঁয়ায় জাতীয় মুদ্রা পুড়িয়ে ফেলার এই উদ্বেগজনক চিত্র ভাবিয়ে তুলছে অর্থনীতিবিদ, অপরাধবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকদের। দেশের বিভিন্ন এলা
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান এলাকার মুদি দোকানি শরীফুল। কপাল কুঁচকে দোকানে বসে ১০০ টাকার একটি নোট হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। কাস্টমার দাঁড়িয়ে থাকলেও যেন নজর নেই।
পরে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শরীফুল বলেন, ‘নেওয়ার সময় খেয়াল করে উঠতে পারিনি। নোটটার কোণা পোড়া। কেউ নিতে চায় না, আবার ফেলে দেওয়ারও উপায় নেই। এমন টাকা মাঝে মধ্যেই পাচ্ছি।’
টাকা পুড়ছে কীভাবে? কারা পোড়ায়? পোড়া টাকা অচল হয়ে যেতে পারে জেনেও কেন এই পথ বেছে নেয়? বাজারে কেন বাড়ছে পোড়া নোট? এসব বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানে নামে জাগো নিউজ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নেশার আগুনে প্রতিদিন পুড়ছে টাকা। ইয়াবাসেবীরা ইয়াবার ধোঁয়া টানার জন্য ব্যবহার করে নতুন ও শক্ত কাগুজে নোট। এই নোট পেঁচিয়ে রোল করে ধোঁয়া টানার সময় অসাবধানতাবশত কোণায় আগুন লেগে যায়। আর তাতেই পুড়ছে জাতীয় মুদ্রা।
এই নেশার আগুন সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, নতুন নোট ছাপানোর পেছনে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে রাষ্ট্রের। নেশার ধোঁয়ায় জাতীয় মুদ্রা পুড়িয়ে ফেলার এই উদ্বেগজনক চিত্র ভাবিয়ে তুলছে অর্থনীতিবিদ, অপরাধবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকদের।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাঁচ, ১০, ২০, ৫০, ১০০ এমনকি ৫০০ টাকার নোটও বাজারে ঘুরছে, যার কোণা আগুনে পোড়া। এসব নোট গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছেন অনেক দোকানি।
অসাবধান হলেই গচ্চা
মতিঝিলের টং দোকানি নাহিদ হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘৫, ১০ ও ২০ টাকার পোড়া নোটই বেশি আসে। কিছুদিন আগে ১০০ টাকার একটি পোড়া নোটও পেয়েছিলাম। পরে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে হয়েছে।’
আমাদের ব্যবসায় বেশির ভাগ লেনদেনই ৫, ১০ আর ২০ টাকার নোটে হয়। এখন মাঝেমধ্যেই কোণা পোড়া নোট পাই। অনেকেই বলে, ‘ভাই, এটা চালিয়ে নেন।-ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা মো. সুজন
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা হাদিসুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত মানুষের সঙ্গে লেনদেন করি। অনেক সময় খেয়াল না করেই কোণা পোড়া নোট নিয়ে ফেলি। পরে অন্য ক্রেতাকে দিলে তিনি নিতে চান না। আবার ক্রেতা দিলে না নিতে চাইলে তর্ক-বিতর্ক করতে হয়। ব্যাংকে গিয়ে বদলানোও ঝামেলার। ছোট ব্যবসা করি, তাই একটা নোট আটকে গেলেও আমাদের জন্য সেটা লোকসান।’

ইয়াবা আসছেই
ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা মো. সুজন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায় বেশির ভাগ লেনদেনই ৫, ১০ আর ২০ টাকার নোটে হয়। এখন মাঝেমধ্যেই কোণা পোড়া নোট পাই। অনেকেই বলে, ‘ভাই, এটা চালিয়ে নেন।’
পোড়া নোট পরিবর্তনেও ভোগান্তি
হামিদুল ইসলাম একটি প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন পরিচালনা করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘কর্মকর্তারা খাবার খাওয়ার পর অনেক সময় ছেঁড়া-ফাটা বা পোড়া নোট দিয়ে বিল পরিশোধ করেন। পোড়া, ছেঁড়া-ফাটা টাকা নিতে না চাইলেও ধমক দেন। অনেকটা জোর করেই এসব টাকায় বিল পরিশোধ করেন।’
ইয়াবার আগুনে পোড়া নোট
তিনি বলেন, ‘কিন্তু এসব নোট নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়ি। বাজারে পণ্য কিনতে গেলে অনেকেই নোটগুলো নিতে চান না। আবার ব্যাংকে বদলাতে গেলেও কয়েক দিন ধরে ঘুরতে হয়।’
পোড়া টাকা পরিবর্তনে ব্যাংকের অনীহা আছে কি না- এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (এসপিও) মাহবুব আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা গ্রাহকের পোড়া, ছেঁড়া বা ফাটা টাকা নীতিমালা অনুযায়ী পরিবর্তন করে দিই। তবে প্রতিটি নোটের কত শতাংশ অক্ষত আছে, তা যাচাই করে মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। তাই কখনো কিছুটা সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত গ্রাহক তার প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যান।’
‘নতুন নোটে ইয়াবা সেবন সুবিধা’
ইয়াবাসেবী কল্লোল (ছদ্মনাম)। কড়াইল বস্তি এলাকায় থাকেন। গত শনিবার কড়াইল বস্তিতে কথা হলে জানা যায় তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে মাদক সেবন করেন।
ইয়াবা সেবনের সময় অধিকাংশ মানুষ নতুন নোটই খোঁজে। নতুন নোট শক্ত থাকে, তাই রোল বানাতে সুবিধা হয়। ব্যবহার করতে গিয়ে আগুনের তাপে অনেক সময় নোটের একপাশ পুড়ে যায়।-ইয়াবাসেবী
কল্লোল বলেন, ‘পাঁচ মাস আগে গুলিস্তান থেকে পাঁচ টাকার ১০০টি নতুন নোট ৭০০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। নতুন নোট শক্ত থাকে, তাই ইয়াবার ধোঁয়া টানতে সুবিধা হয়। এখন পাঁচ টাকার নতুন নোট পাওয়া যায় না। অনেকেই এখন ১০ বা ৫০০ টাকার নতুন নোটও ব্যবহার করছে।’
মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকার তৃতীয় লিঙ্গের ইয়াবাসেবী ও বিক্রেতা নদীর (ছদ্মনাম) সঙ্গে কথা হয়। নদী বলেন, ‘ইয়াবা সেবনের সময় অধিকাংশ মানুষ নতুন নোটই খোঁজে। নতুন নোট শক্ত থাকে, তাই রোল বানাতে সুবিধা হয়। ব্যবহার করতে গিয়ে আগুনের তাপে অনেক সময় নোটের একপাশ পুড়ে যায়।’
টাকা মুড়িয়ে যেভাবে ইয়াবা সেবন করা হয়
আগে পাঁচ ও ১০ টাকার নতুন নোট বেশি ব্যবহার হতো জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সেগুলো পাওয়া কঠিন। তাই অনেকেই ১০০ বা ৫০০ টাকার নতুন নোটও ব্যবহার করছে। একটি নোট অনেক সময় একাধিকবারও ব্যবহার করা হয়। জানি এতে টাকার ক্ষতি হয়, কিন্তু নেশার সময় এসব নিয়ে কেউ ভাবে না।’
ইয়াবা সেবনকারী শরিফ ইসলাম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘ইয়াবা সেবনের সময় অনেকেই ধোঁয়া টানার জন্য অস্থায়ী একটি নল বা পাইপ ব্যবহার করেন। সাধারণ কাগজ দিয়ে তৈরি পাইপ সহজেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ তুলনামূলকভাবে শক্ত হওয়ায় নতুন কাগুজে নোট ব্যবহার করেন।’
মাদকসেবীর ৬০ শতাংশই ইয়াবায় আসক্ত
বেসরকারি সংস্থা মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবন করেন। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি মাদকাসক্ত, আর বাকি ৫০ লাখ অনিয়মিতভাবে মাদক গ্রহণ করেন। মাদকসেবীদের প্রায় ৬০ শতাংশই ইয়াবায় আসক্ত।
বর্তমানে দেশে আনুমানিক দেড় কোটি মাদকসেবী রয়েছে। উদ্বেগের বিষয়, মাদকসেবীদের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন ইয়াবায় আসক্ত, যা কয়েক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নারীদের মধ্যেও ইয়াবা সেবনের প্রবণতা বাড়ছে।-ডা. অরূপ রতন চৌধুরী
জাতীয় গবেষণা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সমীক্ষা বলছে, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ অবৈধ মাদক সেবন করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
মানস সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে মাদকাসক্তি এখন শুধু জনস্বাস্থ্যের সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশে আনুমানিক দেড় কোটি মাদকসেবী রয়েছে। উদ্বেগের বিষয়, মাদকসেবীদের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন ইয়াবায় আসক্ত, যা কয়েক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নারীদের মধ্যেও ইয়াবা সেবনের প্রবণতা বাড়ছে।’
উদ্বিগ্ন ব্যাংক
বর্তমানে ছেঁড়া-ফাটা নোটের পাশাপাশি আগুনে পোড়া, বিশেষ করে কোণা পোড়া টাকার নোটও বিনিময়ের জন্য ব্যাংকে আসছে। এ ধরনের নোট সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার ছোট মূল্যমানের নোটে। সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংকের গ্রাহকই এসব নোট নিয়ে বিনিময়ের জন্য আসছেন।
ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তাদের দাবি, এ ধরনের পোড়া নোটের সংখ্যা ঢাকা ও চট্টগ্রামে তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে প্রতি ২০টি ছেঁড়া-ফাটা ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোটের মধ্যে গড়ে এক থেকে দুটি পোড়া নোট পাওয়া যাচ্ছে।
এক-দুই বছর আগে ছেঁড়া-ফাটা নোট এলেও আগুনে পোড়া বা কোণা পোড়া নোট তেমন দেখা যেত না। এখন এ ধরনের নোটের সংখ্যা বেড়েছে। আমি দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছি, তবে ঢাকায়ই গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন নোট সবচেয়ে বেশি পেয়েছি।-ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা আবু বকর
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা আবু বকর জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক-দুই বছর আগে ছেঁড়া-ফাটা নোট এলেও আগুনে পোড়া বা কোণা পোড়া নোট তেমন দেখা যেত না। এখন এ ধরনের নোটের সংখ্যা বেড়েছে। আমি দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছি, তবে ঢাকায়ই গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন নোট সবচেয়ে বেশি পেয়েছি।’
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা আবু তাহের। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় সহকর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ইয়াবা সেবনের সময় আগুনের সংস্পর্শে এসে পোড়া নোটই বেশি আসে, বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে।’
ইয়াবার আগুনে পোড়া নোট
গড়ে প্রতি ২০টি নোটের মধ্যে এক থেকে দুটি এমন নোট পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো নোট বিনিময়ের আগে আমরা কতটুকু অংশ পুড়েছে তা যাচাই করি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী বিনিময়যোগ্য হলে গ্রাহককে নতুন নোট দেওয়া হয়। অন্য জেলায়ও এ ধরনের নোট আসে, তবে সংখ্যায় তা তুলনামূলক কম।’
পুলিশ কী বলছে
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৩২৮ ধারা অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে টাকার নোট নষ্ট বা বিকৃত করা অপরাধ। ইয়াবা সেবনের সময় নোট পুড়িয়ে বা বিকৃত করাও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।’
মাদকসেবীরা ইয়াবা সেবনের জন্য নতুন নোট ব্যবহার করেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।-পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘মাদকসেবীরা ইয়াবা সেবনের জন্য নতুন নোট ব্যবহার করেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মাদক সেবন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ জানিয়ে বলেন, ‘যদি টাকার নোট পুড়িয়ে মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেটিও আলাদাভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় আসবে। এ ধরনের ঘটনার তথ্য পেলে পুলিশ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্বেগ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, ইয়াবা সেবনের জন্য নতুন কাগুজে নোট ব্যবহার করার প্রবণতা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি আরও বেশি নজরে আসছে। এটি শুধু মাদকাসক্তির প্রমাণ নয়, জাতীয় সম্পদেরও অপচয়।
ইয়াবা সেবনের জন্য নতুন টাকার নোট ব্যবহার করা হয়, বিষয়টি আমার জন্য নতুন তথ্য। আমি এ বিষয়ে এখনই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্রিফ করবো।-ডিএনসি মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইয়াবা সেবনের জন্য নতুন টাকার নোট ব্যবহার করা হয়, বিষয়টি আমার জন্য নতুন তথ্য। আমি এ বিষয়ে এখনই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্রিফ করবো।’
অভিযানের সময় যদি এ ধরনের পোড়া ব্যাংক নোট পাওয়া যায়, তাহলে তা আলামত হিসেবে জব্দ করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন মামলায় মাদকের পাশাপাশি পোড়ানো ব্যাংক নোটও আলামত হিসেবে সংযুক্ত করা হবে। এফআইআর দায়েরের সময়ও এটি অপরাধের প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে।’
যা বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতি বছর কত পরিমাণ ছেঁড়া-ফাটা বা নষ্ট নোট জমা পড়ে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত প্রকাশিত তথ্যভান্ডারে নির্দিষ্ট কোনো বার্ষিক পরিসংখ্যান নেই। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং সেগুলো পরিবর্তনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হয়।
প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো নোটের অন্তত ৯০ শতাংশ অংশ অক্ষত থাকলে গ্রাহক নোটটির পূর্ণ মূল্য পান। তবে আগুনে পোড়া নোটের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংক সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে পারে না। এ ধরনের নোট পরিবর্তনের জন্য গ্রাহককে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোনো শাখা অফিসে আবেদন করতে হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোটটির বিনিময়যোগ্য মূল্য নির্ধারণ করে।
ইয়াবার আগুনে পোড়া নোট
অন্যদিকে, কোনো নোটের ৯০ শতাংশের কম অংশ অবশিষ্ট থাকলে বাণিজ্যিক ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ ফেরত দেয় না। সেক্ষেত্রে ব্যাংক আবেদন গ্রহণ করে নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোটটি পরীক্ষা করে কত টাকা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। বিধি অনুযায়ী, আবেদন পাওয়ার পর সর্বোচ্চ আট সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নোটের কতটুকু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে সেটি পরিবর্তনযোগ্য কি না। একসময় আমরা টাকার ওপর নাম-ফোন নম্বর লিখে রাখার সংস্কৃতি দেখতাম। এখন সেটি কমেছে। কিন্তু নেশার জন্য টাকা পুড়িয়ে ফেলা আরও উদ্বেগজনক। এটি শুধু মাদকের সমস্যা নয়, জাতীয় সম্পদের অপচয়ও।
একজন নাগরিকের দায়িত্ব টাকার মর্যাদা রক্ষা করা। নিজের পকেটের টাকা কীভাবে নষ্ট করছে, তা সব সময় নজরদারি করা সম্ভব নয়। তবে মাদক গ্রহণ যেহেতু অপরাধ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখানেই ভূমিকা রয়েছে।-বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান
এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নোট ইয়াবায় পুড়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে পুড়েছে, সেটা বিষয় নয়। যদি নোটের অবশিষ্ট অংশ গ্রহণযোগ্য থাকে, তাহলে যে কোনো ব্যাংকে জমা দিয়ে পরিবর্তন করা যাবে।’
মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, ‘যদি কোনো ব্যাংক গ্রহণযোগ্য পোড়া নোট নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘একসময় আমরা টাকার ওপর নাম-ফোন নম্বর লিখে রাখার সংস্কৃতি দেখতাম। এখন সেটি কমেছে। কিন্তু নেশা গ্রহণের জন্য টাকা পুড়িয়ে ফেলা আরও উদ্বেগজনক। এটি শুধু মাদকের সমস্যা নয়, জাতীয় সম্পদের অপচয়ও।’
তার ভাষায়, ‘একজন নাগরিকের দায়িত্ব টাকার মর্যাদা রক্ষা করা। নিজের পকেটের টাকা কীভাবে নষ্ট করছে, তা সব সময় নজরদারি করা সম্ভব নয়। তবে মাদক গ্রহণ যেহেতু অপরাধ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখানেই ভূমিকা রয়েছে।’
টাকা পোড়ানোর কি শাস্তি আছে?
আইনজ্ঞদের মতে, শাস্তির বিষয়টি নোট পোড়ানোর কারণে নয়, বরং নিষিদ্ধ মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের কারণেই প্রযোজ্য হয়।
বাংলাদেশে মুদ্রা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা আইনগতভাবে নিরুৎসাহিত করা হলেও শুধু নোট পুড়িয়ে ফেলার জন্য আলাদা ফৌজদারি শাস্তির বিধান স্পষ্টভাবে নেই। যদি তা কোনো অপরাধ, যেমন মাদক সেবন বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।-আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান ডালিম
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান ডালিম বলেন, ‘বাংলাদেশে মুদ্রা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা আইনগতভাবে নিরুৎসাহিত করা হলেও শুধু নোট পুড়িয়ে ফেলার জন্য আলাদা ফৌজদারি শাস্তির বিধান স্পষ্টভাবে নেই। যদি তা কোনো অপরাধ, যেমন মাদক সেবন বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।’
রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি কত?
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর কোটি কোটি কাগুজে নোট ছাপায়। একটি নোট ছাপাতে কাগজ, নিরাপত্তা উপাদান, কালি, পরিবহন ও সংরক্ষণ সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। সাধারণভাবে একটি কাগুজে নোটের আয়ুষ্কাল মূল্যমান অনুযায়ী কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ইয়াবা সেবনের মতো অপব্যবহারে সেই আয়ু অনেক আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ছাপানো নোট এখন আর আগের মতো বেশিদিন টিকছে না। মাত্র ছয় মাসেই নষ্ট হচ্ছে, যে নোটগুলো (ছেঁড়া-ফাটা) বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষণ করার পর তা পুড়িয়ে ফেলা হয়।
নতুন টাকা ছাপাতে খরচ
পুড়িয়ে ফেলা ব্যবহার অযোগ্য নোট ও বাজার সার্কুলেশন বা অর্থের প্রবাহের বিষয়টি দেখেই পরে নতুন নোট ছাপানো হয়। এক্ষেত্রেও মার্কেট টুলস ব্যবহার করে পর্যালোচনা করে দেখা হয়। সেখানে উঠে আসে কী পরিমাণ নতুন টাকার দরকার পড়বে। সেভাবেই ছাপিয়ে বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে ছাড়া হয়।
এক্ষেত্রে প্রতি বছর টাকা ছাপাতে গড়ে ৬শ কোটি টাকার বেশি খরচ হয় বলে জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। তবে টাকা পরিবহন ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক ব্যয় ধরা হলে এর পেছনে খরচ কয়েক হাজার কোটি টাকা বলেও জানান তিনি।

ইয়াবার পথেই আসছে ভয়ঙ্কর মাদক আইস
বর্তমানে ১০০০ টাকার নোট ছাপাতে ৫ টাকা ও ৫০০ টাকার নোট ছাপানোয় খরচ পড়ে ৪ টাকা ৭০ পয়সা। ২০০ টাকার নোটে তিন টাকা ২০ পয়সা, ১০০ টাকার নোটে ৪ টাকা, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার সবগুলো নোটই দেড় টাকা খরচ পড়ে। অন্যদিকে ৫ টাকা, ২ টাকার নোট ছাপাতে খরচ পড়ে ১ টাকা ৪০ পয়সা।
ফলে শুধু একটি নোট নয়, প্রতিটি পোড়া নোটের সঙ্গে অপচয় হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অর্থও।
যা বলছেন অর্থনীতিবিদ
গবেষণাভিত্তিক থিংক ট্যাংক চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও ব্যাংকখাত বিশ্লেষক অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি কাগুজে নোট শুধু কাগজ নয়, এটি রাষ্ট্রের একটি সম্পদ। প্রতিটি নোট ছাপানো, বাজারে সরবরাহ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নোট প্রত্যাহার করে নতুন নোট ছাপতে সরকারের উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়।’
ইয়াবা সেবনের কারণে যদি বিপুলসংখ্যক নোট আগেভাগেই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। তাই এটি শুধু মাদক সমস্যা নয়, অর্থনীতির দৃষ্টিতেও জাতীয় সম্পদের অপচয়।-অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি
‘ইয়াবা সেবনের কারণে যদি বিপুলসংখ্যক নোট আগেভাগেই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। তাই এটি শুধু মাদক সমস্যা নয়, অর্থনীতির দৃষ্টিতেও জাতীয় সম্পদের অপচয়’ বলেন এই বিশেষজ্ঞ।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ যা বলছেন
ইয়াবা সেবনের সময় টাকার নোট পোড়ানোর ঘটনা ছোট মনে হলেও এটি গভীর সামাজিক ও অপরাধগত সংকটের প্রতিফলন। এটি শুধু ব্যক্তিগত নেশার বিষয় নয়, বরং মাদকের সহজলভ্যতা, অপরাধচক্র ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।-অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক
এ বিষয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইয়াবা সেবনের সময় টাকার নোট পোড়ানোর ঘটনা ছোট মনে হলেও এটি গভীর সামাজিক ও অপরাধগত সংকটের প্রতিফলন। এটি শুধু ব্যক্তিগত নেশার বিষয় নয়, বরং মাদকের সহজলভ্যতা, অপরাধচক্র ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।’
একই সঙ্গে এটি জাতীয় সম্পদের অপচয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অবক্ষয়কে তুলে ধরে। নাগরিকদের এই উদাসীনতা সমাজের মূল্যবোধের সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘মাদকাসক্তি ও অপরাধ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং সামাজিক সচেতনতা সবগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা জরুরি। সার্বিকভাবে, পোড়া নোট একটি বড় সমস্যার লক্ষণ। এর সমাধানে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।’
সমাধান কোন পথে
কথা হয় সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ইয়াবার আগুনে পোড়া একটি নোট শুধু একটি ক্ষতিগ্রস্ত মুদ্রা নয়, এটি সমাজের একটি গভীর সংকটের প্রতীক। যখন মানুষ মাদক গ্রহণের জন্য জাতীয় সম্পদ ব্যবহার করে নষ্ট করে, তখন সেটি মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার ঘাটতি এবং মাদকের সহজলভ্যতার প্রতিফলন।
এ সমস্যা সমাধানে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
ইয়াবার আগুনে যখন একটি টাকার নোটের কোণা পুড়ে যায়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি কাগজ নয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রীয় সম্পদ, বাজারব্যবস্থা এবং নাগরিক আস্থাও।-জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘ইয়াবার আগুনে যখন একটি টাকার নোটের কোণা পুড়ে যায়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি কাগজ নয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রীয় সম্পদ, বাজারব্যবস্থা এবং নাগরিক আস্থাও।’
‘একটি পোড়া নোট হাতে নিয়ে প্রশ্ন জাগে আগুনে পুড়েছে কি শুধু মুদ্রা? নাকি ধীরে ধীরে পুড়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজের একাংশ, আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদও? মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ, আসক্তদের চিকিৎসা, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা সব মিলিয়েই থামানো সম্ভব এই নীরব ক্ষয়।’
ইএআর/এএসএ/ এমএফএ
What's Your Reaction?




