নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নৌ সদর দপ্তরে আয়োজিত দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি পূর্বতন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য সামরিক অভিজ্ঞতা, উচ্চতর শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি দেশের নৌবাহিনীর নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন। বৃহস্পতিবার আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ উপলক্ষে নৌ সদর দপ্তরে অপরাহ্ণে দায়িত্বভার হস্তান্তর/গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নৌপ্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর/গ্রহণ বইতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। এ সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। রয়েল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী থেকে বিশ

নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নৌ সদর দপ্তরে আয়োজিত দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি পূর্বতন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য সামরিক অভিজ্ঞতা, উচ্চতর শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি দেশের নৌবাহিনীর নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন। বৃহস্পতিবার আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ উপলক্ষে নৌ সদর দপ্তরে অপরাহ্ণে দায়িত্বভার হস্তান্তর/গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নৌপ্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর/গ্রহণ বইতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। এ সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। রয়েল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি তার ব্যাচে জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিসহ তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) আওতাভুক্ত আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের (এএফডব্লিউসি) একজন কৃতি গ্র্যাজুয়েট। ছাত্রজীবনে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান লাভ করায় তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল (কমচিট), কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল (কমঢাকা), কমান্ডার সাবমেরিন (কমসাব) এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক (নৌ অপারেশন্স) এবং পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুকসহ বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয়, বানৌজা সৈকত এবং বানৌজা তিতুমীরের অধিনায়ক ছিলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি লেবানন এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ-ওমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি), ‘নৌ-পারদর্শিতা পদক’ (এনপিপি), ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ এবং ‘জাতীয় স্কাউট পুরস্কার’ (রৌপ্য ইলিশ পদক) অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া লাভ করেন। তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার, ‘সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার’ এবং এন্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কার অর্জন করেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি একজন মননশীল পাঠক, লেখক ও গবেষক। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সামরিক ও নৌ-কৌশলগত বিষয়ে সমাদৃত জার্নাল ও সাময়িকীতে তার একাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। খেলাধুলার মধ্যে তার আগ্রহ গলফ, বাস্কেটবল, দাবা ও টেবিল টেনিসে। তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল এবং মালে ও ফরাসি ভাষায় ব্যবহারিক দক্ষতা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow