পদোন্নতির পর স্থগিত, এবার বরখাস্ত বিমানের সেই মিজান
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রশীদ সকালে ছিলেন মহাব্যবস্থাপক। দুপুরে পদোন্নতি পেয়ে হয়ে যান পরিচালক। বিকেলে ওই পদোন্নতি বাতিল করা হয়। একদিনের মাথায় এবার তাকে চাকরি থেকেই সাময়িক বরখাস্ত (সাসপোন্ড) করা হলো!
সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে মঙ্গলবার (১৯ মে) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে এ ঘটনা।
মিজানুর রশীদের পদ ছিল মহাব্যবস্থাপক (জিএম)। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা দুর্নীতির অভিযোগ। তবে তিনি অদৃশ্য ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটির অর্থ পরিদপ্তর আর প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সোমবার তাকে সেই পদ থেকে পরিচালকের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিমানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বলাকায় তোলপাড় চলে। শেষ পর্যন্ত সেই পদোন্নতি আদেশ বাতিলের পর মঙ্গলবার তাকে সাসপেন্ড করা হলো।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমদের সই করা সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন এমপ্লয়িজ (সার্ভিস) রেগুলেশন্স, ১৯৭৯ এর অনুচ্ছেদ ৫৮-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আপনাকে (মোহাম্মদ মিজানুর রশীদ) আগামী ২০ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখ থেকে সাময়
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রশীদ সকালে ছিলেন মহাব্যবস্থাপক। দুপুরে পদোন্নতি পেয়ে হয়ে যান পরিচালক। বিকেলে ওই পদোন্নতি বাতিল করা হয়। একদিনের মাথায় এবার তাকে চাকরি থেকেই সাময়িক বরখাস্ত (সাসপোন্ড) করা হলো!
সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে মঙ্গলবার (১৯ মে) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে এ ঘটনা।
মিজানুর রশীদের পদ ছিল মহাব্যবস্থাপক (জিএম)। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা দুর্নীতির অভিযোগ। তবে তিনি অদৃশ্য ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটির অর্থ পরিদপ্তর আর প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সোমবার তাকে সেই পদ থেকে পরিচালকের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিমানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বলাকায় তোলপাড় চলে। শেষ পর্যন্ত সেই পদোন্নতি আদেশ বাতিলের পর মঙ্গলবার তাকে সাসপেন্ড করা হলো।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমদের সই করা সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন এমপ্লয়িজ (সার্ভিস) রেগুলেশন্স, ১৯৭৯ এর অনুচ্ছেদ ৫৮-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আপনাকে (মোহাম্মদ মিজানুর রশীদ) আগামী ২০ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) করা হলো।’
এতে আরও বলা হয়, ‘সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে আপনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আপনি আপনার বর্তমান ঠিকানায় অবস্থান করবেন।’
বিমান সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদের সই করা এক আদেশে মিজানুর রশীদকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। এই খবর প্রকাশের পর বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এক শ্রেণির কর্মকর্তারা তাকে অভিনন্দন জানাতে তার কক্ষে ছুটে যান। তবে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কর্মকর্তারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে ওই দিন বিকেলে একই বিভাগ থেকে তার পদোন্নতি আদেশ বাতিল করা হয়।
বিমান সূত্র জানায়, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখে পড়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নিয়ে এখনো অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এই অনুসন্ধানের মধ্যেই মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ৪ মার্চ মিজানুর রশীদকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিন আবার তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল।
সূত্র আরও জানায়, মিজানুর রশীদের বাবা ও বড় ভাইও বিমানের কর্মকর্তা ছিলেন। তার বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৮ সালে আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক।