পাংশা সেনগ্রাম শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে রাজবাড়ীর পাংশায় বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা দুই দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সেনগ্রাম ডাকঘরের সামনে কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা অংশ নেন। ধর্মঘটের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার শাখা ডাকঘরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মচারী মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শাখা ডাক বিভাগের কর্মচারীরা ন্যায্য বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ৬ জুলাই থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়ার আওতাধীন সব শাখা ডাকঘর বন্ধ রাখা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে ফিরব না। সরকার দাবি মেনে নিলেই কর্মস্থলে ফিরে যাব। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একজন শাখা ডাক কর্মচারীর মাসিক বেতন মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এ বেতনে পরিবার চালানো অসম্ভব।“ একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও সরকারি কর্মচারীদের ত

পাংশা সেনগ্রাম শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে রাজবাড়ীর পাংশায় বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা দুই দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সেনগ্রাম ডাকঘরের সামনে কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা অংশ নেন। ধর্মঘটের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার শাখা ডাকঘরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

কর্মচারী মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শাখা ডাক বিভাগের কর্মচারীরা ন্যায্য বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ৬ জুলাই থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, “রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়ার আওতাধীন সব শাখা ডাকঘর বন্ধ রাখা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে ফিরব না। সরকার দাবি মেনে নিলেই কর্মস্থলে ফিরে যাব। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একজন শাখা ডাক কর্মচারীর মাসিক বেতন মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এ বেতনে পরিবার চালানো অসম্ভব।“

একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় তারা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাই এই বৈষম্যের অবসান ও সমান অধিকারের দাবি জানান তিনি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।

ডাক কর্মচারী গোবিন্দ বল জানান, তিনি মাসে মাত্র ৪ হাজার ১৭৭ টাকা বেতন পান। এই সামান্য আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো অত্যন্ত কঠিন।

তিনি বলেন, সারাদিন চিঠি বিলি করে দিন শেষ হয়ে যায়। অথচ একজন দিনমজুরও প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন। আমাদের সংসারে পাঁচ-ছয়জন সদস্য। এত অল্প বেতনে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব।

আরেক কর্মচারী বলেন, বর্তমানে প্রায় ২৯ হাজার শাখা ডাক কর্মচারীর মধ্যে ১৬ হাজার কর্মচারী সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও বাকিরা তা থেকে বঞ্চিত। তিনি দাবি করেন, হাইকোর্ট ২৯ হাজার শাখা ডাক কর্মচারীকে স্বীকৃতি দিলেও ডাক বিভাগ এখনো সেই রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করেনি।

তাই আদালতের রায় কার্যকর করে সব শাখা ডাক কর্মচারীকে বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তারা।

ধর্মঘটকারী কর্মচারীরা জানান, তাদের দুই দফা দাবি বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow