পাহাড়ের কোলে ছোট্ট জীবন, ক্যানসারের সঙ্গে ৬ বছরের শিশুর লড়াই

সীমান্তঘেঁষা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের কালাপানি গ্রাম। চারদিকে সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা ছড়া আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের আড়ালে একটি দরিদ্র পরিবারের ঘরে এখন নেমে এসেছে গভীর বিষাদের ছায়া। যে বয়সে বই-খাতা হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে ওঠার কথা; সেই বয়সেই মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে জীবনযুদ্ধ করছে ছয় বছরের শিশু ইসমাঈল। অভাব-অনটনের সংসারে ইসমাঈলের বাবা শহিদুল ইসলাম একজন দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ পেলে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার জোটে, আর কাজ না থাকলে কাটে অনিশ্চয়তার দিন। এমন এক বাস্তবতার মধ্যেই তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ইসমাঈল ক্যানসারে আক্রান্ত। এই খবর যেন মুহূর্তেই থমকে দেয় পরিবারটিকে। সন্তানের জীবন বাঁচাতে যা কিছু ছিল, সবই প্রায় চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেছেন বাবা-মা। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করেও চিকিৎসার খরচ চালানোর চেষ্টা করেছেন তারা। ক্যানসারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় একজন দিনমজুর বাবার সামর্থ্যের বাইর

পাহাড়ের কোলে ছোট্ট জীবন, ক্যানসারের সঙ্গে ৬ বছরের শিশুর লড়াই

সীমান্তঘেঁষা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের কালাপানি গ্রাম। চারদিকে সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা ছড়া আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের আড়ালে একটি দরিদ্র পরিবারের ঘরে এখন নেমে এসেছে গভীর বিষাদের ছায়া। যে বয়সে বই-খাতা হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে ওঠার কথা; সেই বয়সেই মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে জীবনযুদ্ধ করছে ছয় বছরের শিশু ইসমাঈল।

অভাব-অনটনের সংসারে ইসমাঈলের বাবা শহিদুল ইসলাম একজন দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ পেলে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার জোটে, আর কাজ না থাকলে কাটে অনিশ্চয়তার দিন। এমন এক বাস্তবতার মধ্যেই তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ইসমাঈল ক্যানসারে আক্রান্ত।

এই খবর যেন মুহূর্তেই থমকে দেয় পরিবারটিকে। সন্তানের জীবন বাঁচাতে যা কিছু ছিল, সবই প্রায় চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেছেন বাবা-মা। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করেও চিকিৎসার খরচ চালানোর চেষ্টা করেছেন তারা। ক্যানসারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় একজন দিনমজুর বাবার সামর্থ্যের বাইরে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইসমাঈলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি ঘরের বিছানার ওপর নীরবে শুয়ে আছে শিশুটি। একসময় যে শিশুর হাসি আর চঞ্চলতায় মুখর থাকত বাড়ির আঙিনা, এখন সেই শিশুই যেন হারিয়ে ফেলেছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। কারও সঙ্গে তেমন কথা বলে না সে। ডাকলেও অনেক সময় নীরব থাকে। অসুস্থতার যন্ত্রণা যেন কেড়ে নিয়েছে তার শৈশবের সব আনন্দ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই ইসমাঈলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রোগের প্রভাব দেখা দিয়েছে শরীরে। আগের মতো খেলাধুলা করতে পারে না, স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে কষ্ট হয়। দিনের বেশির ভাগ সময় বিছানাতেই কাটে তার।

শিশুটির বাবা-মা জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন তারা। তাদের ইচ্ছা ছিল, ইসমাঈল বড় হয়ে একজন ভালো হাফেজ হবে, পবিত্র কোরআনের হাফেজ হয়ে পরিবার ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু ক্যানসারের কঠিন বাস্তবতায় আজ সেই স্বপ্ন থমকে গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন দিনমজুর মানুষ। প্রতিদিন কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু এখন চিকিৎসার টাকাই জোগাড় করতে পারছি না। আমার ছেলে আগের মতো হাসে না, কারও সঙ্গে কথাও বলে না। শুধু চুপচাপ থাকে।’

তিনি আরও বলেন, আমি শুধু চাই, আমার সন্তান সুস্থ হয়ে আবার মাদ্রাসায় যাক, পড়াশোনা করুক। সমাজের মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে রয়েছে। দিনমজুর বাবার পক্ষে ক্যান্সারের মতো ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। তাই তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, জনপ্রতিনিধি, মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় মানুষের কাছে শিশুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

কলমাকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার বলেন, পরিবারটি সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কী ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও এ ধরনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow