পুষ্টিসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের অঙ্গীকার

টেকনোসার্ভ কতৃক পরিচালিত মিলার্স ফর নিউট্রিশন ঢাকায় ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি কনক্লেভ ২০২৬’ আয়োজন করেছে। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, খাদ্য শিল্পখাত, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। কনক্লেভটির লক্ষ্য ছিল ফুড ফর্টিফিকেশন বিষয়ে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশে নিরাপদ ও পুষ্টিকর ফর্টিফাইড খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ আয়োজন করা হয়। কনক্লেভটির মূল উদ্দেশ্য ফুড ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব শক্তিশালী করা, ফুড সেফটি সিস্টেম অনুসরণ করা এবং বাংলাদেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে অটোমেশনসহ উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা। এ ছাড়া, ফুড ফর্টিফিকেশন শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করা এবং সম্ভব্য সমাধান খুজে বের করা, কার্যকর কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা, ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম শক্তিশালী করা এবং টেকসই ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়, যাতে দেশের সামগ্রিক পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টেকনোসার্ভ বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. গু

পুষ্টিসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের অঙ্গীকার

টেকনোসার্ভ কতৃক পরিচালিত মিলার্স ফর নিউট্রিশন ঢাকায় ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি কনক্লেভ ২০২৬’ আয়োজন করেছে। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, খাদ্য শিল্পখাত, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। কনক্লেভটির লক্ষ্য ছিল ফুড ফর্টিফিকেশন বিষয়ে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশে নিরাপদ ও পুষ্টিকর ফর্টিফাইড খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ আয়োজন করা হয়।

কনক্লেভটির মূল উদ্দেশ্য ফুড ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব শক্তিশালী করা, ফুড সেফটি সিস্টেম অনুসরণ করা এবং বাংলাদেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে অটোমেশনসহ উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা। এ ছাড়া, ফুড ফর্টিফিকেশন শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করা এবং সম্ভব্য সমাধান খুজে বের করা, কার্যকর কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা, ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম শক্তিশালী করা এবং টেকসই ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়, যাতে দেশের সামগ্রিক পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টেকনোসার্ভ বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. গুলজার আহমেদ। তিনি দেশজুড়ে ফর্টিফাইড ফুডের প্রাপ্যতা বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ ও শিল্পখাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন ফুড ফর্টিফিকেশনের মাধ্যমে দেশে অপুষ্টি দূরীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথি খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম. জসিম উদ্দিন খান ফর্টিফাইড খাদ্য উৎপাদন, শিল্পখাতে মানসম্মত অনুশীলন এবং বহুপক্ষীয় সমন্বিত সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা দেশের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রফেসর ড. মো. রুস্তম আলী তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশে ফর্টিফাইড চালের মিশ্রণ ব্যবস্থার অটোমেশনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সম্পর্কে বর্ননা করেন, যা বর্তমান ব্যবস্থার আধুনিকিকরন ও মিলারদের কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে।

শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে এসিআই ফুডস ও বেভারেজের ইডি এবং সিওও জাকির ইবনে হাই তার বক্তব্যে এ সি আই ফুডস-এর বাংলাদেশে ফুড ফর্টিফিকেশনে আরও বিস্তৃতি লাভের আশা ব্যাক্ত করেন, তিনি মিলার্স ফর নিউট্রিশনের কারিগরী সহায়য়তা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ করেন। বাংলাদেশ ফর্টিফাইড রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন মাসুদ বেসরকারি খাতের নেতৃত্ব, মিলারদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা এবং ধারাবাহিক কারিগরি সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা ফর্টিফিকেশন কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করবে।

ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কামাল অটো রাইস মিলের (এফআরকে ইউনিট) স্বত্বাধিকারী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, যথাযথ খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিল্পখাতের মানোন্নয়ন ও ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটির, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বাংলাদেশের ফুড ফর্টিফিকেশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরি করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত অগ্রাধিকার ও কৌশলগত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

সমাপনী অধিবেশনে মিলার্স ফর নিউট্রিশন, টেকনোসার্ভ-এর এশিয়া প্রোগ্রাম লিডার মনোজিৎ ইন্দ্র উদ্যোগটির ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, শিল্পখাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশজুড়ে ফুড ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই কনক্লেভে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল খাদ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি, ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিবীক্ষণ ইউনিট, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সংস্থা, মিলার অ্যাসোসিয়েশন, শীর্ষস্থানীয় খাদ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ফর্টিফাইড রাইস কার্নেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানসমূহ।

মিলার্স ফর নিউট্রিশন উদ্যোগের স্ট্র্যাটেজিক ফর্টিফিকেশন পার্টনার হেক্সাগন নিউট্রশন, বিএএসএফ, এবং বুলার অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল, গ্লোবাল এলায়েন্স ফর  ইমপ্রুভড নিউট্রিশন  এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সহ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো কারিগরি অভিজ্ঞতা বিনিময় করে এবং বাংলাদেশে ফর্টিফিকেশন কার্যক্রমে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

কনক্লেভে ফুড ফর্টিফিকেশনকে বাংলাদেশের পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে শক্তিশালী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, উন্নত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অটোমেশন ও কারিগরি সহায়তার বিস্তৃত ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই ফর্টিফিকেশন উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানটি সারা দেশে অংশীদারত্ব, নিয়ন্ত্রক মান অনুসরণ এবং টেকসই ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম জোরদারের সম্মিলিত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।

মিলার্স ফর নিউট্রিশন কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে স্ট্র্যাটেজিক ফর্টিফিকেশন পার্টনার বিএএসএফ, বায়োঅ্যানালিট, ডিএসএম-ফারমেনিস, মুলেনকেমি ও স্টার্নভিটামিন; আঞ্চলিক সহযোগী হেক্সাগন নিউট্রিশন, পিরামাল ও সাংকু; এবং ক্রমবর্ধমান স্থানীয় কারিগরি অংশীদারদের সমন্বয়ে। এই উদ্যোগের অংশীদাররা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি উন্নয়ন এবং ফর্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ এবং ব্যবসার টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মিলার্স ফর নিউট্রিশন কার্যক্রমটি টেকনোসার্ভের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত। বিস্তারিত জানতে তাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow