প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নতুন নজির
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থের অপচয়, অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই আলোচনায় আসে। তবে সেই চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত এক উদাহরণ তৈরি করেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। কোনো ঠিকাদার নিয়োগ ছাড়াই উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের প্রায় ১১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজ শেষ করে বরাদ্দকৃত অর্থের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিঘীরপাড় ও মডেল থানার অন্তর্ভুক্ত খাড়াকান্দি এলাকায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৩৬৬ টাকা। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া শেষে অব্যবহৃত অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পুনঃখনন করা হয়েছে খাড়াকান্দি খালের ৪ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার এবং দিঘীরপাড় খালের ৬ দশমিক ৪০ কিলোমিটার, অর্থাৎ মোট প্রায় ১১ কিলোমিটার খাল। দীর্ঘদিন পলি, মাটি ও আগাছায় ভরাট হয়ে নাব্যতা হারানো এ
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থের অপচয়, অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই আলোচনায় আসে। তবে সেই চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত এক উদাহরণ তৈরি করেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। কোনো ঠিকাদার নিয়োগ ছাড়াই উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের প্রায় ১১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজ শেষ করে বরাদ্দকৃত অর্থের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিঘীরপাড় ও মডেল থানার অন্তর্ভুক্ত খাড়াকান্দি এলাকায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৩৬৬ টাকা। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া শেষে অব্যবহৃত অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পুনঃখনন করা হয়েছে খাড়াকান্দি খালের ৪ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার এবং দিঘীরপাড় খালের ৬ দশমিক ৪০ কিলোমিটার, অর্থাৎ মোট প্রায় ১১ কিলোমিটার খাল। দীর্ঘদিন পলি, মাটি ও আগাছায় ভরাট হয়ে নাব্যতা হারানো এসব খাল পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন, পরিবেশের উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বাস্তবায়নে কোনো ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি। উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রাশেদ খান দৈনিক কালবেলাকে বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পে কোনো ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প অফিস পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। ফলে প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
এ কারণেই প্রকল্প ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হয়েছে এবং অব্যবহৃত ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক বলেন, সরকারি অর্থ মানেই জনগণের আমানত। সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত তদারকি থাকলে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই সাশ্রয়ীভাবে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। আমরা সেই চেষ্টাই করেছি। জনগণের টাকা জনগণের কাছেই এবং রাষ্ট্রীয় তহবিলেই ফিরে গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি প্রকল্পে কোথায় কত টাকা বরাদ্দ হলো, কত টাকা ব্যয় হলো এবং কত টাকা সাশ্রয় হলো—এই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে। এতে জনগণের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগও কমে আসবে।
সচেতন মহলের মতে, দেশের অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ শোনা যায়। সেখানে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, প্রশাসনিক তদারকি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে ঠিকাদার ছাড়াও বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মান বজায় রেখেও সরকারি অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া যায়।
জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির এই উদ্যোগ এখন কেরানীগঞ্জের গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
What's Your Reaction?