প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন ড. শাকিরুল ইসলাম

সচিব পদ মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান) হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন আন্তর্জাতিক গবেষক ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান (শাকিল)। যিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং শিক্ষক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের পি আর রিভিউ জার্নালে তার ১৫০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র এবং প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।  প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে- ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান অন্যান্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার এই নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) বহাল থাকবে।  উল্লেখ্য, ড. শাকিরুল ইসলাম খান একজন বিশিষ্ট গবেষক এবং শিক্ষাবিদ। তিনি এর আগে জাপানের ওইতা ইউনিভার্সিটি, এহিমে ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন ড. শাকিরুল ইসলাম

সচিব পদ মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান) হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন আন্তর্জাতিক গবেষক ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান (শাকিল)। যিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং শিক্ষক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের পি আর রিভিউ জার্নালে তার ১৫০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র এবং প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে- ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান অন্যান্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার এই নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) বহাল থাকবে। 

উল্লেখ্য, ড. শাকিরুল ইসলাম খান একজন বিশিষ্ট গবেষক এবং শিক্ষাবিদ। তিনি এর আগে জাপানের ওইতা ইউনিভার্সিটি, এহিমে ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী হিসেবে তার দায়িত্ব হবে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি এবং পলিসি সম্পর্কিত কাজ। এছাড়া, তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্প এবং কর্মসূচির তদারকিও করবেন। 

একনজরে ড. শাকিরুলের একাডেমিক ও পেশাগত জীবন

শাকিরুল ইসলাম বর্তমানে জাপানের ওইতা ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ফুল ফ্যাকাল্টি হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রিসার্চ সেন্টার ফর গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল ইনফেকশাস ডিজিজ (RCGLID)’- এর সঙ্গেও যুক্ত আছেন।

এর আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতায় বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন। ড. শাকিরুল বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি উদীয়মান সংক্রামক ব্যাধি যেমন ডেঙ্গু, বার্ড-ফ্লু, হেপাটাইটিস, কোভিড-১৯, জলাতঙ্ক এবং নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসার উন্নয়নে গবেষণা করেছেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু নিয়ে তার গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া তিনি গুণ-মানসম্পন্ন পোলট্রি ও গবাদি পশু উৎপাদন এবং সংরক্ষণের ওপর গবেষণা করছেন। জাপানে থাকলেও তার গবেষণার মূল ফোকাস ছিল বাংলাদেশ।

একাডেমিক যোগ্যতা


২০০৯ সালে জাপানের এহিমে ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি এই সম্মাননা পান ‘গ্রেড এ+’-এর সঙ্গে। ২০০৬ সালে এহিমে ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি মাস্টার অব সায়েন্স (জাইকা স্কলার) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি এই সম্মাননা পান ‘গ্রেড এ+’- এর সঙ্গে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন। এর আগে ২০০০ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

পেশাগত অভিজ্ঞতা


ড. শাকিরুল ইসলাম খান ২০২১ সাল থেকে জাপানের ওইতা ইউনিভার্সিটির ‘রিসার্চ সেন্টার ফর গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল ইনফেকশাস ডিজিজ (RCGLID)’ এর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ফুল ফ্যাকাল্টি হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি জাপানের এহিমে ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি এহিমে ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়াতেও রিসার্চ ফেলো ছিলেন। ২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করেছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড. শাকিরুল ইসলাম খান ৩০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট ছাত্রের গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তার ১৫০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র এবং প্রবন্ধ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের পি আর রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও, ড. শাকিরুল ইসলাম খান “গোল্ড মেডেল,” “সেরা গবেষক পুরস্কার” এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে গবেষণার জন্য অসংখ্য বিশেষ সম্মাননা ও অনুদান পেয়েছেন।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow