প্রবাসী হওয়ার আগে সঙ্গে কী রাখবেন কী বাদ দেবেন

জার্মানির ভিসা হয়ে গেছে, ফ্লাইটের টিকিটও বুকিং করা শেষ! মনের ভেতর এখন অদ্ভুত এক শিহরণ, শুধু অপেক্ষা- কবে ওই স্বপ্নের দেশে পা রাখা যাবে! স্বপ্ন দেখুন, বুক ভরে স্বপ্ন দেখুন। তবে একই সাথে নিজের লাগেজটাও একটু বুদ্ধি খাঁটিয়ে গুছিয়ে নিন। বিশেষ করে যখন আপনি সপরিবারে আসছেন, তখন কোন জিনিসটি ব্যাগে ভরবেন আর কোনটি দেশেই রেখে যাবেন- তা ঠিক করাটাই সবচেয়ে জরুরি কাজ। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আসার আগে আমি নিজে যে ভুলগুলো করেছি, আমি চাই না আপনারা কেউ সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করুন। আরও পড়ুন কেন জার্মানি আসার স্বপ্ন দেখা উচিত? কোনো কিছু ব্যাগে ভরার আগে অবশ্যই সে দেশের শুল্ক বিভাগের নিয়মকানুন ভালো করে জেনে নিন। কোন খাবার, গাছের বীজ, ওষুধ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নেওয়া যাবে আর কোনগুলো একেবারেই নিষিদ্ধ- তা না জেনে লাগেজ গোছানো শুরু করা চরম বোকামি হবে। অনেকেই আবেগের বশে ব্যাগ ভারী করে ফেলেন, যা পরবর্তীতে কেবল বোঝাই মনে হয়। আমাদের দেশের অনেক দামি জুতোও এখানকার আবহাওয়ার উপযোগী হয় না। এখানকার জুতো অনেক বেশি আরামদায়ক ও এখানকার প্রকৃতির সাথে মানানসই। দেশ থেকে শীতের ভারী পোশাক কিনে পয়সা নষ্ট করার দরকার

প্রবাসী হওয়ার আগে সঙ্গে কী রাখবেন কী বাদ দেবেন

জার্মানির ভিসা হয়ে গেছে, ফ্লাইটের টিকিটও বুকিং করা শেষ! মনের ভেতর এখন অদ্ভুত এক শিহরণ, শুধু অপেক্ষা- কবে ওই স্বপ্নের দেশে পা রাখা যাবে! স্বপ্ন দেখুন, বুক ভরে স্বপ্ন দেখুন। তবে একই সাথে নিজের লাগেজটাও একটু বুদ্ধি খাঁটিয়ে গুছিয়ে নিন।

বিশেষ করে যখন আপনি সপরিবারে আসছেন, তখন কোন জিনিসটি ব্যাগে ভরবেন আর কোনটি দেশেই রেখে যাবেন- তা ঠিক করাটাই সবচেয়ে জরুরি কাজ। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আসার আগে আমি নিজে যে ভুলগুলো করেছি, আমি চাই না আপনারা কেউ সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করুন।

কোনো কিছু ব্যাগে ভরার আগে অবশ্যই সে দেশের শুল্ক বিভাগের নিয়মকানুন ভালো করে জেনে নিন। কোন খাবার, গাছের বীজ, ওষুধ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নেওয়া যাবে আর কোনগুলো একেবারেই নিষিদ্ধ- তা না জেনে লাগেজ গোছানো শুরু করা চরম বোকামি হবে।

অনেকেই আবেগের বশে ব্যাগ ভারী করে ফেলেন, যা পরবর্তীতে কেবল বোঝাই মনে হয়। আমাদের দেশের অনেক দামি জুতোও এখানকার আবহাওয়ার উপযোগী হয় না। এখানকার জুতো অনেক বেশি আরামদায়ক ও এখানকার প্রকৃতির সাথে মানানসই।

দেশ থেকে শীতের ভারী পোশাক কিনে পয়সা নষ্ট করার দরকার নেই। এগুলো এখানকার দোকান থেকে কেনাই সবচেয়ে ভালো ও সাশ্রয়ী। বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, নতুন দেশে আসার পর দেশীয় পোশাক পরার সুযোগ খুবই কম মেলে।

গাদা গাদা সাবান, শ্যাম্পু বা দাঁতের মাজন এনে শুধু শুধু ওজন বাড়ানোর কোনো মানে হয় না। এমনকি ভারী হাঁড়ি-পাতিল বা থালা-বাসন আনার কোনো প্রয়োজন নেই। ভারী বইপত্র ও অতিরিক্ত মসলাপাতি ব্যাগের ওজন বাড়ায় এবং জায়গার অপচয় করে।

প্রথম কয়েক মাসের মানসিক শান্তি এবং দৈনন্দিন সুবিধার জন্য কিছু জিনিস সাথে রাখা অত্যন্ত জরুরি। পরিবারের সবার সব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের মূলকপি এবং সেগুলোর অনুমোদিত ও প্রমাণিত অনুবাদ করা কপি সাথে রাখুন।

পরিবারের সবার পূর্ববর্তী রোগের বিবরণী, টিকা নেওয়ার কার্ড এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র। নিয়মিত খাওয়ার প্রয়োজনীয় ওষুধ চিকিৎসকের মূল ব্যবস্থাপত্রসহ সাথে রাখুন। সাধারণত সর্বোচ্চ তিন মাসের ওষুধ আনা যায়।

অন্তত দুটি ভালো মানের বিছানার চাদর, একটি অতিরিক্ত চশমা এবং সুচ-সুতার ছোট একটি বাক্স রাখুন। পিঠা বানানোর ছাঁচ বা প্রিয় বিশেষ কোনো রান্নার জিনিস, যা আপনি খুব ভালোবাসেন। সেই সাথে শুরুর কয়েক মাসের জন্য অল্প পরিমাণে পছন্দের দেশীয় মসলা ও কিছু শুকনো খাবার রাখতে পারেন।

নতুন দেশের বৈদ্যুতিক সকেটের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। কিছু পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জরুরি খরচের জন্য সামান্য কিছু নগদ অর্থ রাখা যেতে পারে।

যদি আপনি গাছপালা ভালোবাসেন এবং আইনগত কোনো বাধা না থাকে, তবে লাউ, লালশাক বা নিজের পছন্দের কিছু সবজির বীজ সাথে আনতে পারেন। তবে ব্যাগে ভরার আগে অবশ্যই উদ্ভিদ আমদানির নিয়মগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নেবেন।

নতুন এই দেশে মানুষের জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই খুব সহজে পাওয়া যায়। তাই শুধু শুধু ব্যাগ ভর্তি করে ওজন বাড়াবেন না। লাগেজের প্রতিটি ওজনের সঠিক ব্যবহার করুন।

যা এখানে অনায়াসে পাওয়া যায়, তা বয়ে না এনে বরং এমন জিনিসের জন্য জায়গা খালি রাখুন, যা নতুন একটি পরিবেশে প্রথম কয়েক মাস আপনার পরিবারকে স্বস্তি দেবে এবং ঘরের অভাব বোধ করতে দেবে না। আপনাদের যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক!

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow