প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও যৌথ গবেষণা নিয়ে বাংলাদেশ-ওমানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা
প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যৌথ গবেষণা এগিয়ে নিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও ওমান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওমানের স্টার ড্রোনস- এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ওমানের সৈয়দ আব্দুল গাফুর সাইফ উদ্দিনের নেতৃত্বে সৌদি আরাবিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃষি প্রযুক্তি, স্টার্টআপ ফান্ডিং, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবনে দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। ওমানের সৈয়দ আব্দুল গাফুর সাইফ উদ্দিন। আলোচনায় ওমানের প্রতিনিধিরা তাদের বিজ্ঞান, ড্রোন এবং এআই সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন। ওমানি প্রতিনিধি দল উল্লেখ করেন তাদের একটি স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড রয়েছে যা প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্ভাবনগুলোতে অর্থায়ন করে। ওমানি দল তাদের নিজস্ব এলএলএম এবং ডেটা সুরক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানান। বৈঠ
প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যৌথ গবেষণা এগিয়ে নিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও ওমান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওমানের স্টার ড্রোনস- এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ওমানের সৈয়দ আব্দুল গাফুর সাইফ উদ্দিনের নেতৃত্বে সৌদি আরাবিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃষি প্রযুক্তি, স্টার্টআপ ফান্ডিং, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবনে দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা।
বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। ওমানের সৈয়দ আব্দুল গাফুর সাইফ উদ্দিন।
আলোচনায় ওমানের প্রতিনিধিরা তাদের বিজ্ঞান, ড্রোন এবং এআই সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন। ওমানি প্রতিনিধি দল উল্লেখ করেন তাদের একটি স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড রয়েছে যা প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্ভাবনগুলোতে অর্থায়ন করে। ওমানি দল তাদের নিজস্ব এলএলএম এবং ডেটা সুরক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানান। বৈঠকে মুসলিম দেশগুলোর নিজস্ব প্রযুক্তি ও ডাটা সেন্টার ব্যবহার, ডাটা সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী (বিশেষ করে আইসিটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) সম্পর্কে তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন এবং রোবোটিক্স খাতে তরুণদের আগ্রহ ও এ নিয়ে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান। সেমিকন্ডাক্টর চিপ ডিজাইন ও গবেষণার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং বাংলাদেশের স্থানীয় যুবসমাজকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলার বিষয়ে বৈঠকে জোর দেওয়া হয়।
ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ওমানে হাজার হাজার একর জমিতে কীটনাশক বা স্প্রে ছিটানোর কাজ সফলভাবে করা হয়েছে বলে ওমানে প্রতিনিধি দল তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন। বাংলাদেশে কৃষি কাজ, কীটনাশক ছিটানো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এবং অগ্নি-নিরাপত্তায় এই ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করার বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে জানায় ওমানের প্রতিনিধি।
বাংলাদেশে লবণাক্ততা প্রতিরোধী ধানের জাত ব্যবহার করে যৌথ গবেষণার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের উপযোগী বিশেষ চালের জাতের বিষয়ে ওমানের প্রতিনিধিদল আগ্রহ প্রকাশ করেন। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের অংশ হিসেবে কাঁঠাল, আনারসের মতো ফল দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির বিষয়ে যৌথ গবেষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের বিসিএসআইআর (BCSIR) শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ বিশেষ খাদ্য প্রস্তুত করেছে, যা আফ্রিকা ও ওমানে ব্যবহারযোগ্য বলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিসিএসআই আর এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ উল্লেখ করেন।
ওমানি দল তাদের রেড পাম উইভিল জাতের খেজুর গাছের পোকা দমন নিয়ে গবেষণার কথা উল্লেখ করে এবং এর ঔষধি গুণের জন্য যৌথ গবেষণার প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এক্ষেত্রে জানায়, এ জাতীয় গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো ও নীতিমালা তৈরির কাজ বিবেচনা করা যেতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুদেশের গবেষক, স্টার্টআপ এবং নীতি-নির্ধারকদের পারস্পরিক বিজ্ঞান পার্ক ও গবেষণা সুবিধা পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাশনাল ইনোভেশন ফেয়ারে ওমানি দলকে অংশগ্রহণের বিশেষ আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া, আজকের আলোচনার প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষ থেকে যোগাযোগ রক্ষা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট/ প্রতিনিধি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
What's Your Reaction?