প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার: রিজভী
কারিগরি শিক্ষার প্রসার ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার। রাজনীতিবিদকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়, তবে কারিগরি বিদ্যা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে তার আগ্রহ ও ধারণা থাকা প্রয়োজন। শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার্সে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, একটি জাতিকে কারিগরি শিক্ষার ওপর দাঁড় করাতে না পারলে নানা দিক থেকে শোষণের শিকার হতে হবে। এই শোষণ শুধু দেশের ধনী-গরিবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও হতে পারে। একটি মানুষ তখনই সম্পদে পরিণত হবে, যখন তার দক্ষতা বাড়বে। আর দক্ষতা অর্জনের জন্য কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই কিছু কারিগরি জ্ঞান দেওয়া দরকার। মাধ্যমিক পর্যায়ে সেটি আরও জোরদার করতে হবে এবং কলেজ পর্যায়ে এর পরিধি আরও বাড়াতে হবে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। চীনের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে চীন যে
কারিগরি শিক্ষার প্রসার ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার। রাজনীতিবিদকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়, তবে কারিগরি বিদ্যা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে তার আগ্রহ ও ধারণা থাকা প্রয়োজন।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার্সে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, একটি জাতিকে কারিগরি শিক্ষার ওপর দাঁড় করাতে না পারলে নানা দিক থেকে শোষণের শিকার হতে হবে। এই শোষণ শুধু দেশের ধনী-গরিবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও হতে পারে। একটি মানুষ তখনই সম্পদে পরিণত হবে, যখন তার দক্ষতা বাড়বে। আর দক্ষতা অর্জনের জন্য কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই কিছু কারিগরি জ্ঞান দেওয়া দরকার। মাধ্যমিক পর্যায়ে সেটি আরও জোরদার করতে হবে এবং কলেজ পর্যায়ে এর পরিধি আরও বাড়াতে হবে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
চীনের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে চীন যেভাবে পরিবর্তনের পথে এগিয়েছে, সেখানে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির রাস্তাঘাট, ভবন, শহর ও গ্রামীণ উন্নয়ন দেখে বোঝা যায়, তারা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে দরকার কারিগরি প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে ১৬৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অথচ, দেশে প্রায় ৪৫০টি উপজেলা। প্রত্যেক উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকা উচিত। উপজেলার বড় বড় গঞ্জ, বাজার ও মার্কেট এলাকাতেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকা প্রয়োজন।
রিজভী বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক ও অর্থনৈতিকসহ নানা কারণে স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। তারা যদি কারিগরি জ্ঞান নিয়ে ঝরে পড়ে অথবা অন্তত মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা নেয়, তাহলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একজন ইলেকট্রিশিয়ান বা অন্য কোনো কারিগরি কাজে দক্ষ ব্যক্তি কাজ করে আয় করতে পারেন।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। শুধু জজ, ব্যারিস্টার, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার বা এমবিএ করার স্বপ্ন দেখলেই হবে না। যে শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মেধা বা যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না, তাকে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। কাজ করতে করতেই তার উচ্চশিক্ষার পথও তৈরি হতে পারে।
বলিউডের অভিনেতা ও লেখক কাদের খানের উদাহরণ দিয়ে রিজভী বলেন, অনেক সংগ্রাম করে তিনি ডিপ্লোমা পাস করেছিলেন। পরে অভিনয়, সংলাপ ও কাহিনি লেখার পাশাপাশি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েশনও করেন। তার মতে, এটি স্বপ্ন ও বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ।
দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে পারলে তারা অযোগ্যতার কারণে ফেরত আসবে না। যে দেশে যাবে, সেই দেশের উন্নয়নে দক্ষ কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তাদের পাঠানো অর্থে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।
কারিগরি বিদ্যা সম্পর্কে আগ্রহ ও ধারণা থাকা প্রয়োজন
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পুরোনো স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার। রাজনীতিবিদকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না, তবে কারিগরি বিদ্যা সম্পর্কে আগ্রহ ও ধারণা থাকা প্রয়োজন। দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিষয়গুলো বাস্তবায়নে তা কাজে আসবে।
কারিগরি প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে শিল্পখাতের সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিতে হবে। তিনি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, কোনো ছেলে যেন স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। কেউ ঝরে পড়লেও তাকে কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে তার বেড়ে ওঠার স্বপ্ন আর থেমে থাকবে না।
কেএইচ/এএমএ
What's Your Reaction?
