ফিফা সভাপতির পদত্যাগ চেয়ে তার নিজের দেশেই বিক্ষোভ

নানা কর্মকাণ্ডে সমালোচিত ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। তার বিরুদ্ধে খোদ ফিফার ভেতরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে নিজের দেশ সুইজারল্যান্ডেও ইনফ্যান্তিনো এমন চাপে পড়বেন, নিশ্চয়ই ভাবেননি। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ফিফার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ফিফার সভাপতির পদত্যাগও দাবি করছেন। সংবাদমাধ্যম বারাস দেল মুন্দো এক্স (টুইটার)-এ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে চলা বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ‘বিক্ষোভকারীরা খেলাধুলার বাণিজ্যিকীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত, ম্যাচসূচি এবং ফিফার চাপিয়ে দেওয়া আধুনিক ব্যবসায়িক মডেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’ তারা আরও জানায়, এই বিক্ষোভের লক্ষ্য ছিল ফিফা এবং এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যানার হাতে সমর্থকেরা রাস্তায় মিছিল করছেন। বিক্ষোভ চলাকালে তারা ‘আধুনিক ফিফার বিরুদ্ধে’, ‘ফিফার দুর্নীতি বন্ধ করো’, ‘ইনফ্যান্তিনোকে হটাও’ এবং ‘ফিফা ফুটবল সমর্থকদের’ এমন স্লোগান দিচ্ছিলেন। ফিফা বহু বছর ধরেই নানা ব

ফিফা সভাপতির পদত্যাগ চেয়ে তার নিজের দেশেই বিক্ষোভ

নানা কর্মকাণ্ডে সমালোচিত ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। তার বিরুদ্ধে খোদ ফিফার ভেতরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে নিজের দেশ সুইজারল্যান্ডেও ইনফ্যান্তিনো এমন চাপে পড়বেন, নিশ্চয়ই ভাবেননি।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ফিফার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ফিফার সভাপতির পদত্যাগও দাবি করছেন।

সংবাদমাধ্যম বারাস দেল মুন্দো এক্স (টুইটার)-এ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে চলা বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ‘বিক্ষোভকারীরা খেলাধুলার বাণিজ্যিকীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত, ম্যাচসূচি এবং ফিফার চাপিয়ে দেওয়া আধুনিক ব্যবসায়িক মডেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’

তারা আরও জানায়, এই বিক্ষোভের লক্ষ্য ছিল ফিফা এবং এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যানার হাতে সমর্থকেরা রাস্তায় মিছিল করছেন। বিক্ষোভ চলাকালে তারা ‘আধুনিক ফিফার বিরুদ্ধে’, ‘ফিফার দুর্নীতি বন্ধ করো’, ‘ইনফ্যান্তিনোকে হটাও’ এবং ‘ফিফা ফুটবল সমর্থকদের’ এমন স্লোগান দিচ্ছিলেন।

ফিফা বহু বছর ধরেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ যথাক্রমে রাশিয়া ও কাতারকে আয়োজক হিসেবে নির্বাচনের সময় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী তদন্তের জেরে তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার পদত্যাগ করেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন ইনফ্যান্তিনো, তবে বিতর্কের শেষ হয়নি।

বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকের মতে, সেটিই ছিল পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে চলা বিতর্কের সূচনা।

সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর আলজেরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ জানায়। তাদের দাবি ছিল, আইসা মান্দিকে লিওনেল মেসি শক্ত ট্যাকল করলেও লাল কার্ড দেখেননি, অথচ একই ধরনের ঘটনায় অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগ থাকলেও শুধু এই দলটি নয়; পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই বড় দলগুলো কঠোর শাস্তি এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ আছে। ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের এজরি কোনসা বক্সের ভেতরে পেছন থেকে খারাপভাবে ট্যাকল করলেও কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।

তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম হয়, যখন ইনফ্যান্তিনো স্বীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফোন পাওয়ার পর ফিফা যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয় এবং তাকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়।

এ ঘটনাই ছিল সেই সীমা, যার পর আগে থেকেই একের পর এক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সবসময় নিজেদের দূরে রাখার কথা বলে আসা ফিফার জন্য এই ঘটনা বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নকআউট পর্বের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রেফারিং নিয়ে কোনো না কোনো বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা খেলার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ফিফার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমর্থকেরা বরাবরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন। তবে এবার সেই ক্ষোভ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। এবং সেটা ইনফ্যান্তিনোরই নিজের দেশ সুইজারল্যান্ডে হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরএএইচইউএল/এমএমআর

আরএএইচইউএল/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow