ফিলিস্তিনপন্থি দম্পতির জয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলো ডেইলি মেইল ও মেট্রো!

যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় টক শো ‘লুজ উইমেন’-এর প্যানেলিস্ট নাদিয়া সাওয়ালহা এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ এনে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ডেইলি মেইল ও মেট্রো। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ৭ অক্টোবর নিয়ে ভুয়া তথা বিকৃত মন্তব্য প্রকাশের জেরে সংবাদমাধ্যম দুটির বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করে নাদিয়া দম্পতি। যুক্তরাজ্যে দায়েরকৃত সে মানহানির মামলায় জয়ী হয়েছেন তারা। জানা গেছে, মামলার নিষ্পত্তিতে দুটি সংবাদমাধ্যমই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছিল যে নাদিয়ার স্বামী মার্ক অ্যাডারলি সন্ত্রাসবাদ ও ইহুদিবিদ্বেষকে সমর্থন করেন। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, অ্যাডারলি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রশংসা করেছেন এবং লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন ও অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। দম্পতির আইনজীবী জাহাদ রহমান বলেন, আমাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। আমরা বিষয়টি উত্থাপন করার পর সংবাদপত্রগুলো তা মিথ্যা বলে স্বীকার করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের

ফিলিস্তিনপন্থি দম্পতির জয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলো ডেইলি মেইল ও মেট্রো!

যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় টক শো ‘লুজ উইমেন’-এর প্যানেলিস্ট নাদিয়া সাওয়ালহা এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ এনে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ডেইলি মেইল ও মেট্রো। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ৭ অক্টোবর নিয়ে ভুয়া তথা বিকৃত মন্তব্য প্রকাশের জেরে সংবাদমাধ্যম দুটির বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করে নাদিয়া দম্পতি। যুক্তরাজ্যে দায়েরকৃত সে মানহানির মামলায় জয়ী হয়েছেন তারা।

জানা গেছে, মামলার নিষ্পত্তিতে দুটি সংবাদমাধ্যমই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছিল যে নাদিয়ার স্বামী মার্ক অ্যাডারলি সন্ত্রাসবাদ ও ইহুদিবিদ্বেষকে সমর্থন করেন।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, অ্যাডারলি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রশংসা করেছেন এবং লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন ও অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন।

দম্পতির আইনজীবী জাহাদ রহমান বলেন, আমাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। আমরা বিষয়টি উত্থাপন করার পর সংবাদপত্রগুলো তা মিথ্যা বলে স্বীকার করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের মক্কেলরা জায়নবাদবিরোধী এবং বর্ণবাদবিরোধী। ইহুদি জনগণের প্রতি তাদের কোনো ঘৃণা নেই।

রহমান জানান, মামলার প্রাথমিক পর্যায়েই ডেইলি মেইল ও মেট্রোর আইনজীবীরা প্রতিবেদনের ভুল স্বীকার করেন এবং সংশোধনী প্রকাশ, ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ বহনে সম্মত হন।

মেট্রোর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, নাদিয়া সাওয়ালহা তার স্বামীর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি হামাসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী রহমান বলেন, আমাদের মক্কেল হামাসের মতো নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতি সমর্থন বা সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন—এমন দাবি মানহানিকর। এমন অভিযোগে তাদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তাদের ও পরিবারের জন্য গভীর কষ্টের কারণ হয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নাদিয়া ও অ্যাডারলি বলেন, এই অমার্জনীয় অভিযোগ তাদের এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল।

পরবর্তীতে ডেইলি মেইল ও মেট্রো উভয়ই পূর্ণাঙ্গ সংশোধনী ও ক্ষমাপ্রার্থনা প্রকাশ করে জানায়, তাদের প্রকাশিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ছিল। পাশাপাশি তারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ ও আইনি ব্যয় পরিশোধে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ আর পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার করেছে।

মেট্রো এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্ক অ্যাডারলির ইসরায়েল ও জায়নবাদ নিয়ে দৃঢ় মতামত থাকলেও তিনি সন্ত্রাসবাদ সমর্থন বা ইহুদিদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন—এমন কোনো বক্তব্য দেননি। এসব অভিযোগ মিথ্যা ছিল এবং এ কারণে সৃষ্ট ভুল ও দুর্ভোগের জন্য আমরা মি. অ্যাডারলি ও মিস সাওয়ালহার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

রায়ের পর দম্পতি বলেন, এটি প্রমাণ করে যে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে মানুষের জীবন ও সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করলে মূলধারার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা জানান, এ ধরনের আরও কয়েকটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

আইনজীবী জাহাদ রহমানের মতে, ফিলিস্তিনপন্থী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা মানুষদের নীরব করে দেওয়া।

উল্লেখ্য, নাদিয়া সাওয়ালহা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন এবং লন্ডনের বিভিন্ন ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র পরিচালক মার্ক অ্যাডারলিকে গ্রিন পার্টি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করলেও তিনি মে মাসে ক্রিস্টাল প্যালেস ও আপার নরউড এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

সূত্র: প্রেস গেজেট

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow