বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত চকরিয়া ও মাতামুহুরী 

কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত কমে আসায় দুই উপজেলার অধিকাংশ নদ-নদী ও ছড়ার পানি হ্রাস পেয়েছে। তবে প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। আকস্মিক এ বন্যায় যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এই দুই উপজেলা। সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যায় হাজার হাজার একর আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত, মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা অসংখ্য বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতির কারণে অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো বন্ধ রয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, মাছচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ফসল ও মাছের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বসতঘর হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এখনো সীমিত আকারে যোগাযোগ ব্য

বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত চকরিয়া ও মাতামুহুরী 

কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত কমে আসায় দুই উপজেলার অধিকাংশ নদ-নদী ও ছড়ার পানি হ্রাস পেয়েছে। তবে প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। আকস্মিক এ বন্যায় যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এই দুই উপজেলা।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যায় হাজার হাজার একর আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত, মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা অসংখ্য বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতির কারণে অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো বন্ধ রয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, মাছচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ফসল ও মাছের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বসতঘর হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বন্যার পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এখনো সীমিত আকারে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কবির চৌধুরী বলেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। পানি কমতে শুরু করায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।

এদিকে বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও ঘরবাড়ি সংস্কারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন।

গতকাল রোববার বিকেল ৪টায় চকরিয়া ও মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্গত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, দেশের কোথাও যেন কোনো মানুষ অনাহারে না থাকে। সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা মজুত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে চকরিয়া উপজেলার জন্য ১১৫ টন চাল ও সাড়ে ৬ লাখ টাকা এবং মাতামুহুরী উপজেলার জন্য ৪০ টন চাল ও ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, বরাদ্দকৃত চাল ও অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা এবং জরুরি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow