বাজেট সামনে রেখে তামাক কর জোরদার চান বিশেষজ্ঞরা

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে তামাকজাত পণ্যে কর জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। তামাক কর কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাবনা ও এর যৌক্তিকতা ও পদ্ধতি সম্পর্কে সাংবাদিক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার লক্ষ্যে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। প্রস্তাবনাটি যৌথভাবে প্রণয়ন করেছে ইকোনমিক্স ফর হেলথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো-ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্স (আইএইচই)। সেশনে মূল উপস্থাপনা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন এন. শিমুল। তিনি প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে সম্ভাব্য অতিরিক্ত রাজস্ব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। ড. শাফিউন বলেন, প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম এখনো তুলনামূলকভাবে কম, ফলে তামাকজাত পণ্য সহজলভ্য হয়ে পড়েছে এবং এর ব্যবহার

বাজেট সামনে রেখে তামাক কর জোরদার চান বিশেষজ্ঞরা

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে তামাকজাত পণ্যে কর জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। তামাক কর কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাবনা ও এর যৌক্তিকতা ও পদ্ধতি সম্পর্কে সাংবাদিক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার লক্ষ্যে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।

প্রস্তাবনাটি যৌথভাবে প্রণয়ন করেছে ইকোনমিক্স ফর হেলথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো-ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্স (আইএইচই)।

সেশনে মূল উপস্থাপনা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন এন. শিমুল। তিনি প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে সম্ভাব্য অতিরিক্ত রাজস্ব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন।

ড. শাফিউন বলেন, প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম এখনো তুলনামূলকভাবে কম, ফলে তামাকজাত পণ্য সহজলভ্য হয়ে পড়েছে এবং এর ব্যবহারও বেশি।

সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম মূল্যের সিগারেট দ্বারা দখল হয়ে আছে, যা সহজলভ্য হওয়ার কারণে ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তামাকজনিত রোগের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্যব্যয় হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তামাক কর বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

প্রবন্ধ উপস্থানকালে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর কাঠামোতে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং সিগারেটের সব মূল্যস্তরে সমানভাবে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণকে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক নীতি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, 'তামাক নিয়ন্ত্রণ মানে কাউকে নিষিদ্ধ করা বা ধূমপায়ীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং কর, বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ ও বিজ্ঞাপন সীমিতকরণের মতো নীতিগত উপায় ব্যবহার করে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।' তিনি আরও বলেন, এটি মূলত সংকীর্ণ মুনাফাকেন্দ্রিক স্বার্থ ও বৃহত্তর জনস্বার্থের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে সমাজকে জনস্বার্থের পক্ষেই দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিতে হবে।

গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপরও জোর দিয়ে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ একটি চলমান ধারণা ও বর্ণনার প্রতিযোগিতা। এ প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী তথ্য ও পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইএইচটি/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow