বিটোপিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন মনির হোসেন

বিটোপিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ম্যানেজিং ডিরেক্টর) হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মনির হোসেনের নাম ঘোষণা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারপারসন সাবিনা আক্তার।  রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার ফোর্টিস ডাউনটাউন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত বিটোপিয়া অ্যানুয়াল প্ল্যানিং ২০২৬-২৭ সম্মেলনে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়।   সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল গ্রুপের নেতৃত্ব কাঠামো পুনর্গঠন। তারই অংশ হিসেবে সফটভেন্স আইটি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে মোহাম্মদ নাসির, জেনকোর সল্যুশনস লিমিটেডের সিইও হিসেবে জিসান আহমেদ এবং বিটোপিয়া লিমিটেডের সিইও হিসেবে গৌরব কৃষ্ণ গুপ্তকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবদুল্লাহ আল আলামিনকে বিটোপিয়া গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রুপের ব্র্যান্ড কৌশল, আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালীকরণ, বিপণন কার্যক্রম এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের নেতৃত্ব দেবেন। দিনব্যাপী কৌশল নির্ধারণী সম্মেলনে গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদ, শীর্ষ নির্বাহী, সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বিভাগীয় প্রধান

বিটোপিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন মনির হোসেন

বিটোপিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ম্যানেজিং ডিরেক্টর) হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মনির হোসেনের নাম ঘোষণা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারপারসন সাবিনা আক্তার। 

রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার ফোর্টিস ডাউনটাউন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত বিটোপিয়া অ্যানুয়াল প্ল্যানিং ২০২৬-২৭ সম্মেলনে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়।
 
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল গ্রুপের নেতৃত্ব কাঠামো পুনর্গঠন। তারই অংশ হিসেবে সফটভেন্স আইটি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে মোহাম্মদ নাসির, জেনকোর সল্যুশনস লিমিটেডের সিইও হিসেবে জিসান আহমেদ এবং বিটোপিয়া লিমিটেডের সিইও হিসেবে গৌরব কৃষ্ণ গুপ্তকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবদুল্লাহ আল আলামিনকে বিটোপিয়া গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রুপের ব্র্যান্ড কৌশল, আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালীকরণ, বিপণন কার্যক্রম এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের নেতৃত্ব দেবেন।

দিনব্যাপী কৌশল নির্ধারণী সম্মেলনে গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদ, শীর্ষ নির্বাহী, সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বিভাগীয় প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রতিটি ব্যবসা ইউনিটের কৌশলগত পরিকল্পনা, বার্ষিক বাজেট এবং কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন, আর্থিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিটোপিয়া গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে 'বিটোপিয়া সিটি' প্রকল্পের ধারণাও উপস্থাপন করা হয়। পরিকল্পিত এ প্রযুক্তিনগরীতে ডেটা সেন্টার, করপোরেট সদর দপ্তর, গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, আবাসন সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জিপিইউ অবকাঠামো, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং, ক্লাউড প্রযুক্তি এবং ডেটা অ্যানালিটিকসে বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা 'ভিশন ২০৩০' ঘোষণা করেছে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়া গ্রুপ। 
একইসঙ্গে গ্রুপজুড়ে বিকেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব কাঠামো চালু, সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পুনর্গঠন এবং আগামী এক বছরের মধ্যে কর্মসংস্থান দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিটোপিয়া গ্রুপ জানায়, ভিশন ২০৩০-এর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং এআইনির্ভর একটি সমন্বিত প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। এ পরিকল্পনার আওতায় সফটওয়্যার উন্নয়ন ও আইটি আউটসোর্সিংয়ের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, এন্টারপ্রাইজ সল্যুশন, বিজনেস অটোমেশন, ডেটা অ্যানালিটিকস এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। 

একইসঙ্গে নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের অংশ হিসেবে আফ্রিকাসহ উদীয়মান বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিটোপিয়া গ্রুপের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কৌশলগত পরিকল্পনা, বাজেট ও কেপিআই আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভাগীয় প্রধানদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ফটোসেশন, নেটওয়ার্কিং এবং র‍্যাফেল ড্রর মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

বর্তমানে গ্রুপটির অধীনে ২২টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিটোপিয়া লিমিটেড, সফটভেন্স, স্পার্কটেক এজেন্সি, এসএম টেকনোলজি, জেভিএআই, জেনেক্সক্লাউড, ব্যাকবেঞ্চার স্টুডিও, স্কেলআপ, বিডিকলিং, পালসগ্রিড, বিডিকলিং এন্টারপ্রাইজ, ফায়ার এআই, পিক্সেলোরা স্টুডিও এবং জেনকোরসহ আরও কয়েকটি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গ্রুপটিতে প্রায় পাঁচ হাজার পেশাজীবী কর্মরত রয়েছেন এবং বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের গ্রাহকদের সফটওয়্যার উন্নয়ন, এন্টারপ্রাইজ সল্যুশন, ক্লাউড সেবা, আইটি আউটসোর্সিং, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এআইভিত্তিক প্রযুক্তি সেবা প্রদান করছে। গ্রুপটির বার্ষিক টার্নওভার বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫০ কোটিরও বেশি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow