বিনিয়োগ আকর্ষণে ঘানা, উগান্ডা ও কঙ্গোর পরে বাংলাদেশ

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে বাংলাদেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগে (ইক্যুইটি এফডিআই) বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে মাত্র ৭ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশে প্রবেশ করা নতুন বিদেশি মূলধন (নেট ইক্যুইটি ইনফ্লো) গত চার প্রান্তিকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। অর্থনীতিবিদদের মতে, ইক্যুইটি বিনিয়োগ হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পূর্ণ নতুন মূলধন। এ খাতে বড় ধরনের পতনের অর্থ হলো, নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগে বিদেশি উদ্যোক্তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক হয়ে পড়েছেন। তাদের ভাষ্য, বছরের প্রথম প্রান্তিকে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা, দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি নতুন বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করেছে। রাজনৈতিক পরিস্

বিনিয়োগ আকর্ষণে ঘানা, উগান্ডা ও কঙ্গোর পরে বাংলাদেশ

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে বাংলাদেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগে (ইক্যুইটি এফডিআই) বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে মাত্র ৭ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশে প্রবেশ করা নতুন বিদেশি মূলধন (নেট ইক্যুইটি ইনফ্লো) গত চার প্রান্তিকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইক্যুইটি বিনিয়োগ হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পূর্ণ নতুন মূলধন। এ খাতে বড় ধরনের পতনের অর্থ হলো, নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগে বিদেশি উদ্যোক্তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক হয়ে পড়েছেন।

তাদের ভাষ্য, বছরের প্রথম প্রান্তিকে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা, দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি নতুন বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ব্যাংকিং খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণের হার এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ফলে নতুন মূলধন আসার গতি আরও কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ ছিল ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এরপর জুন প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়ায় ৮ কোটি ১৩ লাখ ডলারে। সেপ্টেম্বরে ছিল ১০ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং ডিসেম্বর প্রান্তিকে ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সর্বশেষ মার্চ প্রান্তিকে তা আরও কমে ৭ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার ডলারে নেমেছে।

নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ, পুনঃবিনিয়োগকৃত মুনাফা এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ মিলিয়ে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে মোট এফডিআই প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৭৯ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

তবে এরইমধ্যে দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনঃবিনিয়োগকৃত মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৩৪ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৯ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার ডলার।

এর ফলে বাংলাদেশে মোট বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই স্টক) পরিমাণ ২০২৫ সালের মার্চের ১৮ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ২১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, পুনঃবিনিয়োগকৃত মুনাফা মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ালেও অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নতুন বিদেশি মূলধনের প্রবাহ।

বিশ্ব বিনিয়োগ আকর্ষণে পিছিয়ে বাংলাদেশ

ইউএনসিটিএডির ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘানা, উগান্ডা ও কঙ্গোর মতো দেশ প্রশাসনিক ও আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘানা কর কাঠামো সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগে ন্যূনতম মূলধনের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে। অন্যদিকে, উগান্ডা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করেছে। কঙ্গো আবার জ্বালানি খাত উন্মুক্ত করা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈশ্বিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।

খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশকেও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, আর্থিক খাতের সংস্কার, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকে আরও জোর দিতে হবে।

ইএআর/এসএনআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow