বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফিরে টমেটো উপহার পেলেন রুইজ-গাভি, কিন্তু কেন?

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদোনায় ভাসছে বিশ্ব। স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাস এখনো থামেনি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর রাজধানী মাদ্রিদে লাখো মানুষের সংবর্ধনা পেয়েছেন ফুটবলাররা। স্পেনের দ্বিতীয় ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপন করতে মাদ্রিদের রাস্তায় ২০ লাখের বেশি মানুষ নেমে আসে, যা শহরটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। তবে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার বাইরে দেশে ফিরে আরও একটি ব্যতিক্রমী সম্মান পেয়েছেন স্পেনের দুই মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ ও গাভি। তাদের শরীরের ওজনের সমান টমেটো উপহার দিয়েছে নিজ শহর। শুনতে অবাক লাগলেও, এর পেছনে রয়েছে স্পেনের কৃষি ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং বিখ্যাত টমেটো উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গর্বের গল্প। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ান স্পেন। ছবি: এএফপি স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের ছোট শহর লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কা। এই শহরেরই সন্তান ফাবিয়ান রুইজ ও পাবলো পায়েজ গাভিরা, যাকে ফুটবল বিশ্ব গাভি নামেই চেনে। বিশ্বকাপ জয়ের পর মঙ্গলবার যখন তারা নিজ শহরে ফেরেন, তখন সিটি কাউন্সিল তাদের জন্য আয়োজন করে বিশেষ সংবর্ধনার। সেই অনুষ্ঠানে

বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফিরে টমেটো উপহার পেলেন রুইজ-গাভি, কিন্তু কেন?

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদোনায় ভাসছে বিশ্ব। স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাস এখনো থামেনি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর রাজধানী মাদ্রিদে লাখো মানুষের সংবর্ধনা পেয়েছেন ফুটবলাররা। স্পেনের দ্বিতীয় ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপন করতে মাদ্রিদের রাস্তায় ২০ লাখের বেশি মানুষ নেমে আসে, যা শহরটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি।

তবে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার বাইরে দেশে ফিরে আরও একটি ব্যতিক্রমী সম্মান পেয়েছেন স্পেনের দুই মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ ও গাভি। তাদের শরীরের ওজনের সমান টমেটো উপহার দিয়েছে নিজ শহর। শুনতে অবাক লাগলেও, এর পেছনে রয়েছে স্পেনের কৃষি ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং বিখ্যাত টমেটো উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গর্বের গল্প।

jagonews২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ান স্পেন। ছবি: এএফপি

স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের ছোট শহর লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কা। এই শহরেরই সন্তান ফাবিয়ান রুইজ ও পাবলো পায়েজ গাভিরা, যাকে ফুটবল বিশ্ব গাভি নামেই চেনে। বিশ্বকাপ জয়ের পর মঙ্গলবার যখন তারা নিজ শহরে ফেরেন, তখন সিটি কাউন্সিল তাদের জন্য আয়োজন করে বিশেষ সংবর্ধনার।

সেই অনুষ্ঠানে দুই ফুটবলারের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাদের শরীরের ওজনের সমান টমেটো। সাধারণ কোনো উপহার নয়, বরং শহরের সবচেয়ে পরিচিত কৃষিপণ্য দিয়েই তাদের সম্মান জানানো হয়। কারণ, লস পালাসিওস স্পেনজুড়ে উচ্চমানের টমেটো উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত। এখানকার টমেটো শুধু দেশের বাজারেই নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হয়।

স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, এই উপহার শহরের কৃষক, কৃষি ঐতিহ্য এবং ফুটবলের সাফল্যকে একই সুতোয় গেঁথে দেওয়ার প্রতীক। অর্থাৎ, যে মাটি তাদের বড় করেছে, সেই মাটির সবচেয়ে মূল্যবান ফসল দিয়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সম্মান জানানো হয়েছে।

শুধু টমেটো নয়, বদলে যাচ্ছে স্টেডিয়ামের নামও

সংবর্ধনায় আরও একটি বড় ঘোষণা এসেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শহরের দুটি ফুটবল স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হবে ‘ফাবিয়ান রুইজ’ এবং ‘পাবলো পায়েজ গাভিরা (গাভি)’-এর নামে। এর পেছনেও রয়েছে আবেগঘন কারণ। ফাবিয়ান রুইজের ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল লস পালাসিওস সিএফ-এ। অন্যদিকে মাত্র ছয় বছর বয়সে গাভি যোগ দেন লা লিয়ারা বালোমপিয়ে-এর যুব দলে। এই দুটি ক্লাব যে মাঠে খেলত, সেই মাঠগুলোকেই এখন তাদের নামে উৎসর্গ করা হচ্ছে।

এছাড়া ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সদস্য হেসুস নাভাস, ফাবিয়ান রুইজ এবং গাভিকে সম্মান জানিয়ে শহরের একটি প্রধান সড়কে স্থাপন করা হবে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভও।

jagoস্পেনে টমেটো শুধু একটি সবজি নয়, অনেক অঞ্চলের পরিচয় ও অর্থনীতির অংশ

টমেটো কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

স্পেনে টমেটো শুধু একটি সবজি নয়, অনেক অঞ্চলের পরিচয় ও অর্থনীতির অংশ। বিশেষ করে আন্দালুসিয়ার বিভিন্ন শহরে টমেটো চাষ বহু পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। লস পালাসিওসের টমেটো এতটাই বিখ্যাত যে স্থানীয়রা এটিকে নিজেদের পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাই বিশ্বকাপজয়ী দুই ফুটবলারকে স্বর্ণপদক বা দামি স্মারকের বদলে টমেটো উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই ছিল সবচেয়ে অর্থবহ সম্মান।

স্পেনের বিখ্যাত টমেটো উৎসব

টমেটোর কথা উঠলেই বিশ্বের মানুষের মনে ভেসে ওঠে লা টমাটিনা উৎসবের নাম। প্রতি বছর আগস্ট মাসের শেষ বুধবার স্পেনের বুনিয়ল শহরে আয়োজিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় টমেটো যুদ্ধ। ১৯৪৫ সালে শুরু হওয়া এই উৎসবে হাজার হাজার মানুষ ট্রাকভর্তি পাকা টমেটো একে অপরের দিকে ছুড়ে আনন্দ উদযাপন করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো শহর লাল টমেটোর রসে ভিজে যায়। বর্তমানে বিশ্বের নানা দেশ থেকে পর্যটকেরা এই উৎসবে অংশ নিতে স্পেনে ছুটে যান।

যদিও গাভি ও ফাবিয়ান রুইজকে দেওয়া টমেটোর সঙ্গে লা টমাটিনার সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবু এটি স্পেনের টমেটোকেন্দ্রিক সংস্কৃতিরই আরেকটি ভিন্ন রূপ। একদিকে টমেটো আনন্দের প্রতীক, অন্যদিকে কৃষকের ঘাম ও স্থানীয় গর্বেরও প্রতীক।

jagoটমেটোর কথা উঠলেই বিশ্বের মানুষের মনে ভেসে ওঠে লা টমাটিনা উৎসবের নাম

বিশ্বকাপজয়ীদের জন্য অন্যরকম সম্মান

বিভিন্ন দেশে বড় শিরোপা জয়ের পর খেলোয়াড়দের গাড়ি, বাড়ি, অর্থ পুরস্কার বা রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু স্পেনের এই শহর দেখিয়ে দিল, সম্মান সব সময় দামী উপহারের ওপর নির্ভর করে না। নিজেদের সবচেয়ে বিখ্যাত কৃষিপণ্য দিয়েই তারা বিশ্বজয়ী দুই ফুটবলারকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সেই সঙ্গে স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও মনে করিয়ে দেবে একসময় এই ছোট শহর থেকেই উঠে এসেছিলেন দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

বিশ্বকাপের ট্রফি জিতে ফাবিয়ান রুইজ ও গাভি স্পেনকে যেমন গর্বিত করেছেন, তেমনি তাদের নিজ শহরও দেখিয়ে দিয়েছে শিকড়কে কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আর তাই হয়তো বিশ্বজয়ী দুই তারকার হাতে ফুল নয়, তুলে দেওয়া হয়েছে নিজের মাটির সবচেয়ে মূল্যবান ফসল টমেটো।

সূত্র: এনডিটিভি, ইয়াহু স্পোর্টস, স্পোর্টসকেডা

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow