বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে

আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে দেখা গেছে, বিশ্বের ১৮০ দেশের মধ্যে ১০০টিতেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবনতি ঘটেছে।  সংস্থাটির ২৫তম এ সূচকে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা জোরদার হচ্ছে এবং গণমাধ্যম খাত দুর্বল হয়ে পড়ছে। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া   ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন ‘ইউরোপীয় গণমাধ্যম স্বাধীনতা আইন’ কার্যকর হলেও অনেক দেশ এখনো এ আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সাধারণভাবে ইউরোপের দেশগুলো সূচকে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি ইতিবাচক নয়।  পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় বেলারুশ (১৬৫তম), আজারবাইজান (১৭৮তম), রাশিয়া (১৭২তম) ও তুর্কমেনিস্তানের (১৭৩তম) মতো দেশগুলোতে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধ চলমান থাকলেও ইউক্রেন (৫৫তম) কিছুটা উন্নতি করেছে। আমেরিকা অঞ্চল ডোনাল্ড ট্রাম্প, হাভিয়ের মিলে ও নায়িব বুকেলের মতো নেতাদের আমলে সাংবাদিকতা ক্রমেই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে আরএসএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র (৬৪তম) সূচকে পিছিয়েছে, আর

বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে

আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে দেখা গেছে, বিশ্বের ১৮০ দেশের মধ্যে ১০০টিতেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবনতি ঘটেছে। 

সংস্থাটির ২৫তম এ সূচকে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা জোরদার হচ্ছে এবং গণমাধ্যম খাত দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া  

ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন ‘ইউরোপীয় গণমাধ্যম স্বাধীনতা আইন’ কার্যকর হলেও অনেক দেশ এখনো এ আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সাধারণভাবে ইউরোপের দেশগুলো সূচকে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। 

পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় বেলারুশ (১৬৫তম), আজারবাইজান (১৭৮তম), রাশিয়া (১৭২তম) ও তুর্কমেনিস্তানের (১৭৩তম) মতো দেশগুলোতে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধ চলমান থাকলেও ইউক্রেন (৫৫তম) কিছুটা উন্নতি করেছে।

আমেরিকা অঞ্চল

ডোনাল্ড ট্রাম্প, হাভিয়ের মিলে ও নায়িব বুকেলের মতো নেতাদের আমলে সাংবাদিকতা ক্রমেই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে আরএসএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র (৬৪তম) সূচকে পিছিয়েছে, আর আর্জেন্টিনাতে (৯৮তম) গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বেড়েছে। এল সালভাদরে (১৪৩তম) নতুন আইন সাংবাদিকদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক

এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশেই সংবাদমাধ্যমের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চীন (১৭৮তম) এখনও সূচকের নিচের দিকে অবস্থান করছে। দেশটিতে এখনো ১২১ জন সাংবাদিক কারাবন্দি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।

ফিলিপাইনে (১১৪তম) ‘রেড-ট্যাগিং’ নামে পরিচিত কৌশলের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক ফ্রেঞ্চি ম্যা ক্যাম্পিও দীর্ঘ কারাবাস করেন। 

সাব-সাহারান আফ্রিকা

আফ্রিকার অনেক দেশেই পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির মধ্যে রয়েছে। ইরিত্রিয়া (১৮০তম) সূচকের সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের আটক রাখা হয়।

সাহেল অঞ্চলে বুরকিনা ফাসো (১১০তম), মালি (১২১তম) ও নাইজারে (১২০তম) সামরিক সরকার জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বিশেষ করে নাইজারে সবচেয়ে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় চলমান যুদ্ধে ২২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলকে সবচেয়ে বিপর্যস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে কিছু দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনও দেখা গেছে। সিরিয়া (১৪১তম) ২০২৫ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন পরিস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এ উন্নতিকে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow